| রাত ৯:৪৩ - শনিবার - ১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ৩০শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ - ৩রা শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

হোয়াইটওয়াশ লজ্জায় বাংলাদেশ

লোক লোকান্তরঃ  ভারতের দেরাদুনের পুরো সিরিজে আফগান শাসিত বাংলাদেশ দল। প্রথম দুই ম্যাচের হারের ধরন বলছিল, ক্রিকেটের নতুন সেনসেশনদের কাছে হোয়াইটওয়াশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তৃতীয় ম্যাচ শেষে সেটাই এখন বাস্তবতা।

 

তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। মান রক্ষার ম্যাচে বৃহস্পতিবার রাতে আফগানদের বিপক্ষে এক রানে হেরে গেছে বাংলাদেশ। এমন সিরিজের পর সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহরা যখন মুখ লুকানোর অবস্থায়, আফগানদের আকাশে-বাতাসে তখন কেবলই জয়ের গন্ধ। চারপাশে বিজয়োল্লাস আর মাঠে শাহজাদ, নবীদের নাগিন নাচ। এমনই হওয়ার কথা। এটা যে প্রথম কোনো টেস্ট খেলুড়ে দলকে হোয়াইটওয়াশ করার স্বাদ।

 

দেরাদুনের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করে ছয় উইকেটে ১৪৫ রান তোলে আফগানিস্তান। জবাবে শুরুতে উল্টো পথে হাঁটা বাংলাদেশ মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে জয়ের পথে এগোলেও শেষ পর্যন্ত ১৪৪ রানে গিয়ে থেমে যায়। এক রানের হৃদয়ভাঙা হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় সাকিব আল হাসানদের।

 

১৪৬ রানের লক্ষ্য। খুব বড় না হলেও আগের দুই ম্যাচের অভিজ্ঞতা বলছিল ভিন্ন কথা। এই রান পাড়ি দিতেও কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে বাংলাদেশকে, সেটা অনুমেয়ই ছিল। বরাবরের মতো এই ম্যাচের শুরুটাও ভালো হয়নি বাংলাদেশের।

 

দলীয় ১৬ রানে বিদায় নেন তামিম ইকবাল। সৌম্য সরকারকে ব্যাটিং অর্ডারের উপরের দিকে তুলে এনেও ফায়দা মেলেনি। ১৩ বলে ১৫ রান করে ফিরেছেন তিনি।

 

৩২ রানেই নেই দুই উইকেট। এমন সময় চাপটা আরও বাড়িয়ে তোলেন লিটন কুমার দাস। ৩৫ রানের মাথায় রান আউট হয়ে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে ১২ রান আসে।

 

অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এই ম্যাচেও কাণ্ডারীর ভূমিকা নিতে পারেননি। ১০ রান করে তরুণ আফগান পেসার করিমি জানাতের শিকারে পরিণত হয়েছেন তিনি।

 

৫৩ রানে চার উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তখন দিশেহারা। হার তখনই চোখ রাঙাতে শুরু করেছে। এমন সময় আলোকবর্তিকা হাতে দেখা দেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ধ্বংসস্তূপে পড়ে যাওয়া দলকে টেনে তুলে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন জয়ের দিকে। এই জুটিতে জয়ের কাছে পৌঁছে গিয়েও অস্বস্তিতে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

 

১২ বলে তখন দরকার ৩০ রান। এমন সময় যেন সব ভুলে যান মুশফিক। ব্যাটটাকে পরিণত করেন খোলা তরবারিতে। করিম জানাতের করা ১৯তম ওভারে টানা পাঁচ চার ও শেষ বলে এক রানসহ মোট ২১ তুলে জয়টাকে খুব কাছে নিয়ে আসেন মুশফিক।

 

শেষ ওভারে দরকার ৯ রান। কিন্তু রশিদের প্রথম বলেই ৪৬ রান করা মুশফিক আউট। আবারও দিক হারায় বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ ও আরিফুল হক মিলে তুললেন আট রান। বাকি থেকে যায় এক রান, যা আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের তৃপ্তি এনে দেয়।

 

এর আগে ব্যাটিং করতে নামা আফগানিস্তান শুরুটা মারমার কাটকাট মেজাজে করলেও সেই ধারায় থাকতে পারেনি। মেহেদী হাসান মিরাজের করা প্রথম ওভার থেকে ১৮ রান তুলে নিয়ে ঠান্ডা মেজাজে চলে যান আফগান ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ। শাহজাদের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন উসমান গনিও। তিনিও তেড়েফুরে মারতে যাননি। এর ফলটা অবশ্য ভালোই হয়েছে।

 

৭.৪ ওভারে উদ্বোধনী জুটিতেই দুজন যোগ করেন ৫৫ রান। এই জুটি ততক্ষণে হুমকি হয়ে উঠেছে। আফগানিস্তানও বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখছিল তখন। এমন সময় বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু। এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে ২৬ রান করা শাহজাদকে ফিরিয়ে দেন তিনি। এই উইকেটপ্রাপ্তিই বাংলাদেশকে গতি এনে দেয়। নবম ওভারে ১৭ রান করা উসমান গনিকে থামান পেসার আবু জায়েদ রাহি।

 

এরপর অধিনায়ক আজগর স্টানিকজাই ও সামিউল্লাহ শেনওয়ারির প্রতিরোধ। এই জুটিতে আফগানিস্তান ৯৫ রানে পৌঁছে যায়। আজগর ২৭ রান করে ফিরে গেলেও বড় সংগ্রহের পথেই ছিল আফগানরা। কিন্তু নাজমুল ইসলাম অপু, সাকিব আল হাসান, আবু জায়েদ রাহিদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সংগ্রহটা বড় করতে পারেনি তারা।

 

শেনওয়ারি ২৮ বলে ৩৩ করার পরও আফগানিস্তানকে ছয় উইকেটে ১৪৫ রানে থামতে হয়। অপু ও রাহি দুটি এবং সাকিব ও আরিফুল হক একটি করে উইকেট নেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ | জুন ০৮, ২০১৮