| সকাল ১১:৫৩ - শনিবার - ১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ৩০শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ - ৩রা শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

আজ একুশে ফেব্রুয়ারি

ময়মনসিংহে ভাষা শহীদের নামে ‘জব্বার নগর’ গ্রাম আজো হয়নি

আজহারুল হকঃ  ভাষা শহীদদের মহান আত্মত্যেগের কারনে আজ একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তজার্তিক মর্যাদায় ভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ এই দাবীতে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার। ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রাওনা ইউনিয়নের পাঁচুয়া গ্রামে ১৯১৯ খীষ্টাব্দে জম্ম গ্রহন করেন ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার।

 

বাবার নাম হোসেন আলী শেখ ও মাতা সাফাতুন নেছা। সাত ভাই-বোনের মধ্যে শহীদ জববার সবার বড় সন্তান।

 

আব্দুল জব্বার যৌবনে আনসার বাহিনীতে যোগ দেন। এক সময় এ চাকুরী ছেড়ে বাড়ি চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনের উত্তাল সময়ে ঢাকায় ২১ ফেব্রুয়ারিতে ছাত্র-জনতার মিছিলে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ওই দিন রাত ৮টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক বাল্যবন্ধু ডা: সিরাজ শহীদ জব্বারের লাশ সনাক্ত করেছিলেন। শহীদ আব্দুল জব্বারকে ২০০০ সালে মরনোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

 

স্থানীয় সরকার বিভাগের এক সভায় ২০০৭ সালের ২৫ মার্চ ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের লক্ষ্যে তার গ্রামের নাম (জম্মস্থান) পাচুঁয়ার পরিবর্তে জব্বার নগর করার প্রস্তাব পাস হয়। সিন্ধান্ত পাস হলেও সরকারি প্রজ্ঞাপনমূলে বিষয়টি আজো বাস্তবায়িত হয়নি। তবে উপজেলাবাসী ও সারাদেশের মানুষ অধুনা পাঁচুয়া গ্রামকে এখন ‘জব্বার নগর’ হিসাবেই জানে। এলাকাবাসীর স্বতস্ফুর্ততা ও সকলের মুখে মুখে গ্রামের নাম জব্বার নগর প্রচারিত হতে হতে আজ তা সারাদেশে প্রসারিত জব্বার নগর গ্রাম বলেই পরিচিত।

 

রাওনা ইউপি চেয়ারম্যান সাহাবুল আলম ও সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বারের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য সরকারি সিন্ধান্ত মোতাবেক পাঁচুয়ার পরিবর্তে ‘জব্বার নগর’ বাস্তবায়নের অনুরোধ জানান। এ ছাড়াও তিনি শহীদের পৈত্রিক ভিটাকে কেন্দ্র করে শহীদ জব্বার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার নগরের আধুনিকায়নের দাবী জানান।

 

ছবিঃ ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বারের স্মৃতি জাদুঘর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লাইব্রেরীয়ান, সহকারী লাইব্রেরীয়ান, পিয়নসহ ৫ টি পদের মধ্যে শুধুমাত্র লাইব্রেরীয়ান ও কেয়ার টেকার ছাড়া অন্য কোন পদে লোক নিয়োগ করা হয়নি। ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের লাইব্রেরীয়ান কায়সারুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে প্রতিদিন ৪টি পত্রিকা দেয়া হতো। তখন পত্রিকা ও বই পড়ার জন্য জাদুঘরে দৈনিক গড়ে তিন থেকে পাঁচজন দর্শনার্থী আসতো। এথন একজন দর্শনার্থীরও দেখা মেলেনা। গত ৫ বছরে এখানে কোন নতুন বই আসেনি। ৫ বছর পূর্বে ৪১৩০টি বই ছিল এখনো তাই রয়েছে।

 

১৯৯৮ সালে ভাষা শহীদের পৈতৃক ভিটা সংলগ্ন স্থানে শহীদের নামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। পরে ২০০৮ সালে জেলা পরিষদ এক একর ১৮ শতাংশ জমির উপর ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মান করেন। তবে জাদুঘরে ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বারের ব্যবহৃত কোন জিনিসপত্র নেই। সঠিক রক্ষনাবেক্ষনের জন্য এখানে লোকবল বাড়ানো প্রয়োজন।

 

পাঁচুয়া তথা জব্বার নগরে ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বারের নামে প্রতিষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শাহনাজ বেগম বলেন, পাঠ্য পুস্তকে ভাষা শহীদদের স্মরনে বিস্তারিত কিছু লিখা না থাকায় শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে পাঠদানে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

 

তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গৌতম কুমারের প্রচেষ্টায় নির্মিত হয় দৃষ্টি নন্দন শহীদ মিনার। গফরগাঁওয়ে শহীদ আব্দুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর শুক্র, শনিবার ও রাষ্ট্রিয় ছুটি ব্যতিত সকাল ১০টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। যে কেউ আসতে পারেন ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ আব্দুল জব্বারের গ্রামের বাড়িতে এই নিদর্শন দেখতে। উপজেলা সদর থেকে

 

সাত কিলোমিটার দূরে গফরগাঁও-ভালুকা সড়কের ভারইল বাজার হয়ে যেতে হবে রাওনা ইউনিয়নের পাঁচুয়া বা জব্বার নগরে। সড়ক পথে ঢাকার মোহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে গফরগাঁওয়ের বাস আসা-যাওয়া করে। আরাম দায়ক রেলযাত্রার ব্যবস্থা রয়েছে। কমলাপুর থেকে সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন গফরগাঁও দিয়ে যাতায়াত করে। উপজেলা সদরে থাকার জন্য রয়েছে জেলা পরিষদের ডাক বাংলো এবং মালিকানাধীন রেষ্ট হাউজ।

 

জব্বার নগর গ্রাম সরকারি প্রজ্ঞাপনমূলে বিষয়টি আজো বাস্তবায়িত না হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. শামীম রহমান আমি এখানে নতুন এসেছি। আর জব্বার নগর গ্রাম বাস্তবায়নের ব্যাপারেও আমি অবগত নই। আর এ সংক্রান্ত কোন ফাইলপত্রও আমার অফিসে রয়েছে কিনা সে ব্যাপারেও জানা নেই। তবে স্মৃতি জাদুঘরে নতুন করে রং করা হয়েছে।

 

ছবিঃ লোক লোকান্তর

সর্বশেষ আপডেটঃ ৪:৪০ পূর্বাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৮