| রাত ১২:১৪ - রবিবার - ১৪ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ১লা বৈশাখ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ - ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে চালু হচ্ছে ওয়ান স্টপ সার্ভিস

লোক লোকান্তর: ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (এমএমসিএইচ) চালু হচ্ছে ওয়ান স্টপ সার্ভিস। আগামী ১৯ নভেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়া যাবে ২৪ ঘণ্টার এই নতুন সেবা। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এই সার্ভিস চালুর জন্য ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

 

রোগীদের ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা সেবা দিতে হাসপাতালের এই ইমারজেন্সি ওয়ান স্টপ সার্ভিসে যুক্ত করা হচ্ছে এক্স-রে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, ইসিজি, প্যাথলজি ল্যাব ও অপারেশন থিয়েটার স্থাপনসহ পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ড ও ডে-কেয়ার সুবিধা।

 

জানা গেছে— মেডিসিন, গাইনি, কার্ডিওলজি, অর্থোসার্জারি, শিশু, পেডি-সার্জারি ও এনেসথেসিওলজি অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ নার্স, প্যারামেডিক ও সাপোর্ট স্টাফ থাকবে ওয়ান স্টপ সার্ভিসে।

 

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ জানান, দেশের কোনও সরকারি হাসপাতালে এবারই প্রথম প্রাথমিক পর্যায়ের সব সুবিধা নিয়ে চালু হচ্ছে ওয়ান স্টপ সার্ভিস। ফলে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চাপ কমার পাশাপাশি রোগীদের ভোগান্তিও অনেক কমে আসবে বলে আশা তার।

 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এক হাজার শয্যার ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন আড়াই হাজার থেকে ২ হাজার ৮০০ রোগী ভর্তি হয়। এছাড়া জরুরি বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ আর বহির্বিভাগে আরও প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসে।

 

চিকিৎসক ও নার্সসহ বিদ্যমান জনবল দিয়ে এত বিপুলসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ কারণে এক হাজার শয্যার বাইরেও হাসপাতালের মেঝে আর বারান্দায় রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

 

হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স সার্জারির ৯ নম্বর ওয়ার্ডে রোগীর চাপ এতই বেশি যে, কারও পা ফেলার জায়গা পর্যন্ত থাকে না। কখনও কখনও রোগীদের ডিঙিয়ে চিকিৎসকদের সেবা দিতে হয়। এসব কারণে হাসপাতালের ভেতরে ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবার কোনও পরিবেশ নেই বলে মনে করেন চিকিৎসক ও নার্সসহ রোগীর স্বজনরা।

 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সরকারি বরাদ্দের শতভাগ ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহসহ নামমাত্র ফি’তে সব পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকায় এখানে রোগীর চাপ বাড়ছে দিন দিন। এছাড়া প্রয়োজন নেই এমন রোগীরাও ভর্তি হয়ে সরাসরি ওয়ার্ডে চলে আসায় চাপ বাড়ছে।

 

ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু হলে এসব রোগীর ভর্তি হওয়ার চাপ কমে আসবে বলে মনে করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি— জরুরি রোগী বিশেষ করে ক্যাজুয়ালটি সার্জারির রোগীদের ডে-কেয়ার সেন্টারে পর্যবেক্ষণে রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হলে চাপ কমবে। তারা জানান, ওয়ান স্টপ সার্ভিসে প্রসূতিদের স্বাভাবিক প্রসব প্রক্রিয়া সম্পন্নসহ ছোট অস্ত্রোপচার সুবিধা চালু হলে হাসপাতালের ওয়ার্ডে রোগী ভর্তির সংখ্যা কমে আসবে।

 

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু হলে কর্তব্যরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা যেসব রোগীর ভর্তির প্রয়োজন মনে করবেন কেবল তাদেরই ভেতরের ওয়ার্ডে পাঠাবেন। আর যাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন কিংবা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া যায় তাদের আর ভেতরে পাঠানো হবে না। এতে করে রোগীদের ভোগান্তিসহ চিকিৎসা ব্যয় যেমন সাশ্রয় হবে, তেমনই ব্যয়সহ চাপ কমে আসবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

 

এমএমসিএইচের উপ-পরিচালক ডা. লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার জানান, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলসহ এর আশপাশের তিন কোটিরও বেশি মানুষ ওয়ান স্টপ সার্ভিসের সুবিধা নেবেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১:২৩ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১৮, ২০১৭