| সকাল ৯:৫৬ - শনিবার - ২০শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ৭ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - ১০ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

ময়মনসিংহে নতুন শহরের জন্য জমি সমহারে অধিগ্রহণ করতে হবে, অন্যথায় এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া হবে না

লোক লোকান্তরঃ  ‘বিকল্প’ প্রস্তাব অনুযায়ী ময়মনসিংহ বিভাগের নতুন শহর গড়ার দাবিতে চরাঞ্চলে বিশাল সমাবেশে করেছে বসতভিটা রক্ষা কমিটি। সমাবেশে বক্তারা বলেন, নতুন শহরের জন্য চরনিলক্ষীয়া, চরঈশ্বদিয়া, চরসিরতা ও খাগডহর ইউনিয়নে জমি সমহারে অধিগ্রহণ করে নতুন শহর গড়া হলেও জনতার কোনো আপত্তি থাকব না। অন্যথায় এক ইঞ্চি পরিমাণ জমিও ছাড়া হবে না।

 

সমাবেশে বক্তারা ময়মনসিংহ বিভাগের প্রশাসনিক ও নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চরাঞ্চলের জমি অধিগ্রহণে বসতভিটা রক্ষা কমিটির ‘বিকল্প’ প্রস্তাব অনুযায়ী ‘বসতভিটা’ ব্যতিত চার ইউনিয়নে সমহারে জমি অধিগ্রহণ করার দাবি পুর্নব্যক্ত করেন।

 

শুক্রবার বিকেলে জয়বাংলা বাজার সংলগ্ন চরআনন্দিপুর রেঁনেসা গালর্স হাই স্কুল মাঠে চরাঞ্চলে বসতভিটা রক্ষা কমিটির কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

চরগোবিন্দপুর গ্রামের আফতাব উদ্দিন মেম্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বসতভিটা রক্ষা কমিটির আহবায়ক ও ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়ের ভাইস প্রিন্সিপাল সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বাচ্চু, চরদুর্গাপুর গ্রামের মাওলানা ফজলুল হক, চরসিরতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, চরভবানিপুর গ্রামের শাহ আলম বাদশা মেম্বার, কোনাপাড়া গ্রামের নাদিম মোস্তফা, চরআনন্দিপুর গ্রামের শাহজাহান, চরগোবিন্দপুর গ্রামের গোলাস কিবরিয়া, চরভবানীপুর গ্রামের খোরশেদ খান খোকন, আবুল মুনসুর, আওয়ামী লীগ নেতা ডা. হারুনুর রশিদ, প্রফেসর হাবিবুর রহমান, কাজী রফিকুল ইসলাম, ফজলুর রহমান প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, ২০ হাজার পরিবারকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করে নতুন নকসা অনুযায়ী শহর গড়তে দেয়া হবে না। যদি জোরজবরদস্তি করে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করা হয় তাহলে জীবনের বিনিময়ে হলেও বাপ-দাদার ভিটা রক্ষা করা হবে। আর যদি পুর্বের নকসা অনুযায়ী ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে নতুন শহর গড়ে তোলা হলে তাহলে জনতার কোনো আপত্তি থাকবে না। বক্তারা আরো বলেন, নতুন শহরের জন্য চরনিলক্ষীয়া, চরঈশ্বদিয়া, চরসিরতা ও খাগডহর ইউনিয়নে জমি সমহারে অধিগ্রহণ করে নতুন শহর গড়া হলেও জনতার কোনো আপত্তি থাকব না। অন্যথায় এক ইঞ্চি পরিমাণ জমিও ছাড়া হবে না।

 

সমাবেশে দুই অশতিপর বৃদ্ধা কাফনের কাপড় গায়ে জড়িয়ে সমাবেশে যোগদান করেন। এছাড়াও ‘পুর্বের নকশা বহাল করো, নদীর তীরে শহর গড়ো’ ‘আন্দোলনের দিচ্ছে ডাক, চরাঞ্চলবাসি জাগরে জাগ’ ‘তোমাদের শহর আমাদের মাটি, এসো মোরা মিলে মিশে থাকি’ ইত্যাদি শ্লোগানে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে নারী-শিশুসহ হাজারো জনতা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

 

উল্লেখ্য, ময়মনসিংহ বিভাগের উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রথমে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে এক হাজার ২২০ একর জমিতে নতুন শহর গড়ার নকশা প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তীতে ওই নকশা বাতিল করে নতুন নকশা অনুযায়ী চার হাজার ৩৬৬ একর ভূমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর থেকেই চরাঞ্চলের মানুষ উচ্ছেদের আশঙ্কায় বসতভিটা রক্ষার দাবিতে বিগত চার মাস ধরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদানসহ লাগাতার কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

 

সূত্র: নয়া দিগন্ত

সর্বশেষ আপডেটঃ ৫:২৫ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৭