| দুপুর ২:১৭ - রবিবার - ১৪ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ১লা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

সঠিক ভূমি মালিকানা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে একধাপ এগিয়েছে … জামালপুরে ভূমি মন্ত্রী

জামালপুর প্রতিনিধিঃ ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বলেছেন, সঠিক ভূমি মালিকানা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্নকে একধাপ এগিয়ে নিয়েছে। মাত্র দুই বছরের মধ্যে ডিজিটাল রেকর্ড খতিয়ান জমি মালিকদের হাতে তুলে দেয়ার মাধ্যমে বর্তমান সরকার প্রমান করলো দেশে ডিজিটাল ভূমি প্রশাসন গড়ে তোলা সম্ভব।

 

এই প্রকল্পের মাধ্যমে জরিপ কার্যক্রমে পৃথিবীর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, পাশাপাশি প্রতিটি স্তরে জমির মালিকদের অংশগ্রহণ ও মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। যা অতীতের জরিপ ও রেকর্ড কার্যক্রম থেকে ব্যতিক্রম।

 

তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস চত্বরে ডিজিটাল রেকর্ড প্রকাশনা ও সমন্বিত ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থাপনার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

 

তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। একটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জাতি হিসেবে উন্নত বিশ্বের গ্রেট ব্রিটেন, ইউরোপ ও আমেরিকার ন্যায় বাংলাদেশকে আধুনিক রাষ্ট্রের উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান জননেত্রী শেখ হাসিনা। ভূমি মালিকানাকে নিরাপদ ও টেকসই করার পাশাপাশি ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহারের উপর জোর গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

মন্ত্রী বলেন, যেখানে আগে একটা এলাকায় ভূমি জরিপ কাজ সম্পন্ন হতে ১০ থেকে ১৫ বছর লেগে যেতো, সেই জায়গায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে একই কাজ মাত্র দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

 

ভূমির ডিজিটাল তথ্য ভান্ডার হতে ভূমির রেকর্ড, খতিয়ান ও নকশা দেওয়া হবে। হারিয়ে যাওয়া, মুছে ফেলা, ছিড়ে ফেলা বা পরিবর্তন করার কোনো ভয় থাকবে না। জমির মালিকানার পরিবর্তন হলে আপডেট করা যাবে। বারবার জরিপ করা লাগবে না। ফলে জমির মালিকানা বিরোধ অনেক কমে আসবে।

 

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা দেশে কোন মানুষ বাস্তুহীন থাকবে না। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের মধ্যে ৫০ হাজার গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করার লক্ষ্যে সরকার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রী দেশে নারী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, শারিরীক প্রতিবন্ধীদের ভূমি অধিকার যাতে কোনোভাবেই ক্ষুন্ন না হয় সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।

পৃথিবীর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং জমির মালিকদের অংশগ্রহণ ও মতামতের ভিত্তিতে অতীতের জরিপ ও রেকর্ড এর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে ২০১৩ সালে জামালপুর সদর, রাজশাহীর মোহনপুর ও বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলায় ডিজিটাল সার্ভে ও রেকর্ডের কাজ শুরু হয়।

 

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় ভূমি মন্ত্রণালয় এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের যৌথ বাস্তবায়নাধীন ‘স্ট্র্যাংদেনিং এ্যাকসেস টু ল্যান্ড এ্যান্ড প্রোপার্টি রাইটস ফর অল সিটিজেনস অব বাংলাদেশ” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ডিজিটাল সার্ভে ও রেকর্ডের কাজ চলছে। স্বার্থকভাবে সহজ, নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল ও স্বচ্ছ ভূমি জরিপ শেষ করে ফাইনাল খতিয়ানের কপি জমির মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার কাজ জামালপুর থেকে শুরু হলো। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে বেসরকারি একটি সংস্থা ডিজিটাল জরিপ ও রেকর্ড কাজে সহায়তা করছে।

 

এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব রেজাউল করিম হীরা এমপি, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেছবাহ উল আলম, ময়মনসিংহ বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোজাম্মেল হক, জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ শাহাবুদ্দিন খান, জামালপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার আবদুল আউয়াল, ইউরোপিয়ান ডেলিগেশন ইন বাংলাদেশের হেড অব প্রোগ্রামস মিনিস্টার কাউন্সিলর মি. মারিও রনকোনি।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শেখ আব্দুল আহাদ।

 

ছবিঃ লোক লোকান্তর

সর্বশেষ আপডেটঃ ৬:১৩ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১৯, ২০১৭