| রাত ৮:৩৬ - রবিবার - ১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - ৯ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

শেরপুরের শ্রীবরদীতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগে পৌর মেয়রসহ ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

শেরপুর প্রতিনিধি:   শেরপুরের শ্রীবরদীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগে পৌর মেয়র আবু সাঈদসহ অজ্ঞাতনামা ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবা শারমীন বাদী হয়ে গত ১৬ এপ্রিল শনিবার রাতে শ্রীবরদী থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় মেয়র আবু সাঈদের বিরুদ্ধে ইউএনও হাবিবা শারমীনের ওপর হামলা, অশোভন আচরণ ও তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনের দিন সরকারি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে মামলার এজাহার মূলে জানা গেছে, গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের দিন শ্রীবরদী সদরে মেয়র আবু সাঈদ আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সরকারি গাড়ি ব্যহার করে বিভিন্ন কেন্দ্রে যান। বিষয়টি ইউএনও ও নির্বাহী হাকিম হাবিবা শারমীনের দৃষ্টি গোচর হলে তিনি (ইউএনও) মেয়র আবু সাঈদকে সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করতে অনুরোধ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আবু সাঈদ ইউএনও হাবিবা শারমীনের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং এক পর্যায়ে পথরোধ করে তাঁকে (ইউএনও) প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এছাড়া ওইদিন অর্থাৎ গত ৩১ মার্চ রাতে শ্রীবরদীর কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের নির্বাচনে খামারদহেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনাশেষে মেয়র আবু সাঈদ সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও অন্যান্য ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে ইউএনও হাবিবা শারমীন কর্মকর্তাদের উদ্ধার করতে কেন্দ্রে যান। ইউএনও হাবিবা শারমীন ও অন্যান্য কর্মকর্তারা কেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে উপজেলা সদরে ফেরার পথে উচ্ছৃঙ্খল জনতা ইউএনওর গাড়িতে হামলা করে। এতে গাড়ির কাঁচ ভেঙ্গে যায় এবং ইউএনও হাবিবা শারমীন ও গাড়ি চালক পিন্টু মিয়া আহত হন। পরে ইউএনও’র সঙ্গে থাকা র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। মামলায় ইউএনও হাবিবা শারমীন এসব ঘটনায় মেয়র আবু সাঈদের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন।
ইউএনওর অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মেয়র আবু সাঈদ অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্পূর্ণ যড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় তাঁকে জড়ানো হয়েছে। গত তিনমাসেও তিনি (আবু সাঈদ) কাকিলাকুড়া ইউনিয়নে যাননি। পৌর নির্বাচন থেকে ইউএনও হাবিবা শারমীনের সঙ্গে তাঁর বৈরী সম্পর্কের কারণে তিনি (ইউএনও) তাঁর (আবু সাঈদ) বিরুদ্ধে এ ধরণের মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন। তিনি এ বিষয়ে আইন লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে জানান।
জানতে চাইলে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এস. আলম মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মেয়র আবু সাইদসহ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত. ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় শ্রীবরদী পৌরসভার মেয়র আবু সাঈদকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসঙ্গে মেয়রের বিরুদ্ধে মামলা করে তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বরখাস্তের নির্দেশনা সংক্রান্ত চিঠি গত ১৩ এপ্রিল বুধবার রাতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে শেরপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) মো. এনামুল হক আজ রোববার বিকেল সাড়ে চারটায় বলেন, এ সংক্রান্তে কোন চিঠি তাঁরা এখনো পাননি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৫:৫৫ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ১৭, ২০১৬