| রাত ৪:২১ - সোমবার - ১০ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - ৩রা জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

গৌরীপুরে হিমাগার না থাকায় আলু চাষীদের দুর্দিন

সাজ্জাতুল ইসলাম সাজ্জাত, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) থেকে ঃ ১০ এপ্রিল ২০১৬, রবিবার,
দেশের অন্যতম চল্লিশা আলু উৎপাদন এলাকা ময়মনসিংহের গৌরীপুর। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের নানা প্রান্তে যাচ্ছে চল্লিশা আলু । আগামজাত বিবেচনায় স্বপৱ সময়ে অধিক ফলন হচ্ছে। ঝুকচ্ছে কৃষক বাড়চ্ছে উৎপাদন। হিমাগার না থাকায় এই আলু চাষীদের দুর্দিন চলছে । নিজের উৎপাদিত আলু বীজ হিসাবে রাখতে পারচ্ছেন না। ফলে নিজের বীজ আলুই কিনতে হচ্ছে প্রায় ৫গুণ দামে। কৃষকের ঘরে রৰিত আলুও পচে ও পোকার আক্রমণে বিনষ্ট হচ্ছে।
উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ভোলানাথ জানান, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে লৰ্য মাত্রা ছিল ৯০৩ হেক্টর। চাষ হয়েছে উফশী ডায়মন্ড ও কার্ডিনাল জাতের ৭৫ হেক্টর, চলিৱশা জাতের ৮৫০ হেক্টর, বগুড়া জাতের ৫০ হেক্টর, জাম জাতের ২৫ হেক্টর। আলু উৎপাদিত হয়েছে উফশী জাতের ১৬৮৫ মেট্টিক টন, চল্লিশা ১২৭৫০ মেট্টিক টন, বগুড়া জাতের ৬০০ হেক্টর ও জাম জাতের ২৫০ হেক্টর।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল মুনসুর ও ডিকেআইবি’র সভাপতি মো. আনিছুর রহমান বলেন, শুধুমাত্র আলু চাষ করেই এ অঞ্চলে সফল স্বাবলম্বী কৃষকের সংখ্যা সহস্রাধিক। কলতাপাড়ার আব্দুল হামিদ, হাজী আজিজুল হক, আমিনুল ইসলাম, আবুল হাসেম, আব্দুল মালেক, নন্দীগ্রামের জয়নাল আবেদিন, র্বকনাকান্দার লাল মিয়া, আব্দুল লতিফ, আব্দুল গণি, চুড়ালীর মঞ্জু মিয়া, অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক আব্দুল গণি, মাহবুব আহমেদ, কিতাব আলী, মাজহার্বল ইসলাম এলাকায় আলু’র কৃষক নামেই পরিচিত। আজ এই আলুচাষীরা দুঃচিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। নিজের ঘরের আলু পোকা আর ভাইরাসের আক্রমণে বিনষ্ট হচ্ছে। আলু পচে গন্ধ ছড়ায়। এসব ঝামেলার কারণে আলুর উত্তোলন মৌসুমে ৮/১০টাকা কেজি বিক্রি করতে হয়। ফরিয়ারা এসব আলু কিনে নিয়ে যান ভৈরব ও টাঙ্গাইলের হিমাগারে। এই আলুর বীজই মৌসুমে কিনতে ৫০/৬০টাকা কেজি। হিমাগারের অভাবেই প্রতিবছর কৃষকরা কোটি টাকার আলু গচ্ছা দিচ্ছেন। ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন এসব কৃষক। কোনভাবেই কৃষকের কাটচ্ছে না দুর্দিন। কৃষক ইয়াদ আলী জানান, একবার আলু টাঙ্গাইলে নিয়ে যাই আবার মৌসুমের গিয়ে আনতে হয়। এতে সময় ও ব্যয় দু’টোই বেড়ে যায়। প্রতিটি ইউনিয়নে শুল্কমুক্ত কৃষি বাজার ও কোল্ডস্টোরেজসহ ১৭দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ফকির বলেন, প্রতিবছর কৃষকের কোটি টাকা ফসল বাঁচাতে কোল্ডস্টোরেজ জর্বরী প্রয়োজন।
উপজেলার রুকনাকান্দা, নন্দীগ্রাম, চুড়ালীতে কৃষকের রক্ষিত বীজ আলুতে হলু ডিজিজ, ব্রাইট রোগ, সুতলী পোকাসহ নানা পোকা ও ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিকারে প্রতিবছরের ন্যায় এবার কৃষকদের মাঝে পরামর্শ দিচ্ছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল মুনসুর। তিনি বলেন, শুধু একটি হিমাগার হলে এ অঞ্চল আলু উৎপাদনের দেশের শীর্ষস্থান অর্জন করবে। এখানকার মাটি ও জলবায়ু আলু চাষের অনুকূলে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাদিকুর রহমান বলেন, প্রতিবছর প্রায় ১৭হাজার মেট্টিকটন আলু উৎপাদন হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। উপজেলায় উৎপাদিত আলু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানেও যাচ্ছে। কৃষিপণ্য ও কৃষক বাঁচাতে হিমাগার নির্মাণের দাবি জানান বাংলাদেশ কৃষক সমিতি গৌরীপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান। #

সর্বশেষ আপডেটঃ ৭:৪০ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ১০, ২০১৬