| দুপুর ১:৪০ - বৃহস্পতিবার - ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ - ১১ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

শেরপুরে বিএনপির পরাজিত মেয়র প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন

শেরপুর প্রতিনিধি,৪ জানুয়ারি ২০১৬:   শেরপুরে সরকারি দলের বিরুদ্ধে পৌরসভার নির্বাচনে প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত পরাজিত মেয়র প্রার্থী মো. আব্দুর রাজ্জাক আশীষ আজ ৪ জানুয়ারী সোমবার দুপুরে শেরপুর শহরের খরমপুর এলাকায় জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত এ.কে.এম ছাইফুল ইসলামের বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রাজ্জাক আশীষ অভিযোগ করে বলেন, গত বুধবার অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে বিএনপির নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় হুইপ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আতিউর রহমান,  সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফাতেমাতুজ্জোহরা শ্যামলী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার পালসহ সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন। এর অংশ হিসেবে নির্বাচনের দিন ১৩টি কেন্দ্রে পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা ভোট কক্ষ থেকে তাঁর (আব্দুর রাজ্জাক) নির্বাচনী এজেন্টদের বের করে দেন এবং আওয়ামী প্রার্থীর পক্ষে ব্যালট পেপারে সিল মারেন।
তিনি বলেন, পুলিশ সরকারি দলের পক্ষ নিয়ে কাজ করেছে। এর অংশ হিসেবে পুলিশ নির্বাচনের দু’দিন আগে থেকে বিএনপির কয়েকজন নির্বাচনী এজেন্টকে গ্রেপ্তার ও কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানি করেছে। এ ছাড়া ভোট গণনায় কারচুপি করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ফলাফল ঘোষণার পরপরই ভোট পুনগণনার আবেদন জানিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট তিনি আবেদন করেছেন বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির তিন যুগ্ম-আহবায়ক সাইফুল ইসলাম স্বপন, আওয়াল চৌধুরী ও মামুনুর রশীদ পলাশ, শহর বিএনপির আহবায়ক মো. আব্দুল মান্নানসহ দলের নেতা-কর্মীরা উপসি’ত ছিলেন।
আব্দুর রাজ্জাকের অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন হিসেবে দাবি করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার পাল আজ সোমবার বিকেলে বলেন, নির্বাচনে প্রশাসনের ওপর সরকারি দলের প্রভাব বিস্তারের প্রশ্নই আসে না। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জনপ্রিয়তায় দিশেহারা হয়ে তিনি (আব্দুর রাজ্জাক) মিথ্যাচার করছেন। তিনি দাবি করে বলেন, জনগণের বিপুল ভোটেই তাদের দলীয় প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া বিজয়ী হয়েছেন।
জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অঞ্জন চন্দ্র পাল আজ সোমবার বিকেলে বলেন, নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী ফলাফল ঘোষণার পর ভোট পুনগণনার এখতিয়ার রিটার্নিং কর্মকর্তার নেই। তাই আব্দুর রাজ্জাক আশীষের আবেদনটি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে জেলা প্রশাসক এ এম পারভেজ রহিম বলেন, নির্বাচনে প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত হয়ে ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করেছে। শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত নির্দেশনাবলীই যথাযথভাবে পালন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শেরপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া ২৩ হাজার ৪০৭ ভোট পেয়ে মেয়র পদে নির্বাচিত হন। অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক আশীষ পেয়েছেন ২৩ হাজার ১৪০ ভোট। ব্যবধান মাত্র ২৬৭ ভোট।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৮:৩৬ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ০৪, ২০১৬