| রাত ১০:২৩ - রবিবার - ১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - ৯ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

দু:খিত সমশের ভাই !

অনলাইন ডেস্ক | ৩০ অক্টোবর ২০১৫, শুক্রবার,

বিএনপি থেকে সমশের মুবিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। শুক্রবার রাত তিনটার কিছু আগে তিনি ফেসবুকে লেখেন, শহীদ জিয়ার মুক্তিযুদ্ধের সহযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সমশের মোবিন চৌধুরী রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন। জাতীয়তাবাদী দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ ও সদস্যপদেও ইস্তফা দিয়েছেন। এই সময়ে এমন আচমকা তিনি কেন বিদায় নিলেন তা নিয়ে বিতর্ক ও মূল্যায়ন চলছে নানান রকমের। তবে আওয়ামী লীগ যে এতে খুশি তা তারা প্রকাশ করে ফেলেছে।
ক’দিন আগেও তারা সমশের মোবিনকে প্রকাশ্যে ‘বেঈমান’ বলে গালি দিয়েছে। বোমা মারা, গাড়ি  পোড়ানো ও খুনের মামলা দিয়ে দফায় দফায় জেলে পুরেছে বীরবিক্রম খেতাবধারী যুদ্ধাহত এই প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধাকে। এখন তার প্রশংসা করছে লীগের লোকেরা।
বাংলাদেশের প্রভাবশালী দুটি পরিবার- শহীদ জিয়া ও শেখ মুজিব পরিবার। এই উভয় পরিবারের সংগে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দুর্লভ সুযোগ সমশের চৌধুরীর হয়েছে। কিন্তু তিনি যা কিছু জীবনে পেয়েছেন তার প্রায় পুরোটা জিয়া পরিবারের কাছ থেকেই। অন্যদের কাছ থেকে চাকরি খাবার হুমকি, কম গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি, মুজিব হত্যা মামলায় জড়াতে ক্রমাগত জিজ্ঞাসাবাদ, জেল, সন্ত্রাসের মামলা এবং ‘বেঈমান’ খেতাব উপহার পেতে হয়েছে তাকে। স্বাধীনতার পর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জার্মানিতে সরকারি খরচে চিকিৎসা করা এবং সেনাবাহিনী থেকে তার চাকরি ফরেন অফিসে ন্যস্ত করার ‘উপকার’-এর জন্য নিয়মিত খোঁটাও শুনতে হয়েছে।
সমশের ভাই রাজনীতিতে এসে দ্রুত বিএনপির উচ্চপদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। তিনি আচানক চলেও গেলেন সেখান থেকে। তার এ অবসর নেয়া সম্পর্কে বিএনপির মূল্যায়ন কী, সে সম্পর্কে মন্তব্য করার উপযুক্ত লোক আমি নই। আমার নিজের মত হলো পলিটিক্স ও পার্টিতে কারো ঢোকা ও অবসর নেয়া তার একান্ত নিজস্ব সিদ্ধান্তের ব্যাপার। কিন্তু এ ব্যাপারে সময়টাকে সবাই খুব গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে থাকে। সমশের ভাইয়ের অবসর ঘোষণার সময়টা সঠিক হয়েছে কিনা এ প্রশ্ন আমার মনেও খচখচ করছে। তিনি কি আরো কিছুদিন চুপচাপ ও নিষ্ক্রীয় থাকতে পারতেন না? অবসর নেয়ার ঘোষণাটা আরেকটু স্থিতিশীল সময় এলে দিলে কী এমন ক্ষতি হতো?
জেল থেকে বেরিয়ে এবার সমশের ভাই আমাদের কারুর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। অসুস্থতার কথা বলেছেন। কিন্তু তার বিপদের দিনে কেউ খোঁজ নেয়নি- এমন প্রচ্ছন্ন ক্ষোভের কথাও এর ওর কাছে শুনেছি। কিন্তু সমশের ভাই, বিপদে আমরা সবাই। তিন মাস টানা গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন অফিসে আমরা তো দু:সহ বন্দী জীবনই কাটিয়েছি। যোগাযোগের সব মাধ্যম বিচ্ছিন্ন ছিল। এ সময়ে ম্যাডাম জিয়া তার প্রিয় সন্তান হারিয়েছেন। এ বিষয়গুলো নিশ্চয়ই আপনার বিবেচনায় থাকা উচিত। আরেকটি কথা বলবো। দেশ-জাতি-আদর্শ অনেক বড় বিষয়। কর্মচারী স্তরের ছোটখাটো কোন লোকের কথায় ক্ষুন্ন হয়ে এত বড় বিষয়গুলো বিসর্জন দেয়া যায় না কখনো।
যাই হোক, আপনি অসুস্থ। আপনার সুচিকিৎসা হোক। আপনি সুস্থ হোন। আপনি ভালো থাকুন। দু:খিত শমসের ভাই, খুবই দু:খিত আমরা। আপনার মতন একজন বর্ণাঢ্য মানুষের চমৎকার সান্নিধ্য থেকে আপনি আমাদের বঞ্চিত করে সত্যি দু:খ দিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৫:১৪ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ৩০, ২০১৫