| সন্ধ্যা ৭:৫৫ - বৃহস্পতিবার - ১৮ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - ১১ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

শোলাকিয়ায় দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

সিম্মী আহাম্মেদ, কিশোরগঞ্জ, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫, রবিবার
এবারও দেশের বৃহত্তম ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হলো কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায়। শুক্রবার সকাল নয় টায় লাখো মুসলিস্নর অংশগ্রহণে শোলাকিয়ায় ঈদুল আজহার এবারের ১৮৮তম জামাত শুরম্ন হয়। জামাতে ইমামতি করেন বিশিষ্ট ইসলামী চিনৱাবিদ মাও. হিফজুর রহমান খান। জামাত শুরম্নর আগে ইমাম তাঁর বয়ানে ইসলামের সুমহান আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার ৰেত্রে মুসলমানদের অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। নামাজ শেষে মোনাজাতে ইমাম হিফজুর রহমান খান সৌদি আরবের মিনায় হজ পালন করতে গিয়ে পদদলিত হয়ে নিহত ও আহত হাজীদের জন্য বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন। এছাড়া মোনাজাতে দেশের শানিৱ, সমৃদ্ধি, উন্নয়ন ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের বিদেহী আত্মার শানিৱ ও মাগফেরাত কামনা করা হয়।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত জামাতে যোগ দিতে সকাল থেকেই মুসলিস্নদের ঢল নামে জেলা শহরের পূর্বপ্রানেৱ নরসুন্দা নদীর তীরে অবসি’ত শোলাকিয়া ঈদগাহের উদ্দেশ্যে। দলে দলে মুসলিস্নদের ঈদগাহে আসার পথে আলস্ন্লাহু আকবর আলস্ন্লাহু আকবর লা-ইলাহা ইলস্নালস্নাহ্‌ আলস্ন্লাহু আকবর আলস্ন্লাহু আকবর ওয়ালিলস্ন্লাহিল হামদ্‌ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারদিক। সাত একর আয়তনের দেশের সর্ববৃহৎ এ ঈদগাহে কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা এবং ব্যসৱতা সত্ত্বেও দেশের নানা প্রানৱ থেকে আসা হাজার হাজার মুসলিস্ন জামাতে অংশ নেন। ঈদ জামাতে দূর-দূরানেৱর মুসলিস্নদের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে প্রতিবারের মতো এবারও বাংলাদেশ রেলওয়ে দু’টি বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করে। একটি ট্রেন ঈদের দিন ভৈরব থেকে সকাল ৬টায় ছেড়ে আসে এবং সকাল ৮টায় কিশোরগঞ্জ পৌঁছায়। অন্যটি ময়মনসিংহ থেকে সকাল পৌনে ৬টায় ছেড়ে আসে এবং সকাল সাড়ে ৮টায় কিশোরগঞ্জ পৌঁছায়। দু’টি ট্রেনই বেলা ১২টায় কিশোরগঞ্জ থেকে ভৈরব ও ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এদিকে ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস’া। মাঠের চারপাশে বসানো হয় নিরাপত্তা চৌকি। ঈদগাহের বিভিন্ন প্রবেশ পথে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে মুসলিস্নদের দেহ তলস্নাশি করা হয়। পুলিশ, আর্মড পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যের কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারিতে শনিৱপূর্ণভাবে জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
জামাতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক জিএসএম জাফরউলস্নাহ্‌, র‌্যাব-১৪ সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের উপ-পরিচালক মেজর মো. রিয়াদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম মোসৱাইন হোসেন, পাবলিক প্রসিকিউটর শাহ আজিজুল হকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন সৱরের কর্মকর্তা ও জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ঈদের নামাজ আদায় করেন।
১৮২৮ সালে জেলা শহরের পূর্বপ্রানেৱ নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় ৭ একর জমির উপর এ মাঠের গোড়াপত্তন হয়। ওই বছর স’ানীয় সাহেব বাড়ির উর্দ্ধতন পুরম্নষ সৈয়দ আহমদ (র.) এর ইমামতিতে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সে ঈদের জামাতে মুসলিস্নর সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১ লাখ ২৫ হাজার অর্থাৎ সোয়া লাখ। এই সোয়া লাখ থেকেই উচ্চারণ বিবর্তনে বর্তমান শোলাকিয়া নামকরণ হয়েছে। অপর একটি ধারণা হচেছ, মোগল আমলে এখানে পরগনার রাজস্ব আদায়ের একটি অফিস ছিল। সেই অফিসের অধীন পরগণার রাজস্বের পরিমাণ ছিল সোয়া লাখ টাকা। এটাও ‘শোলাকিয়া’ নামকরণের উৎস হতে পারে।
শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ পরিচালনা কমিটির পৰ থেকে জানানো হয়, ঈদুল ফিতরে দেশের নানা প্রানৱ থেকে আসা প্রায় ৪ লাখ মুসলিস্ন একসঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করলেও ঈদুল আজহায় পশু কোরবানি দিতে হয় বলে দূরদূরানেৱর মুসলিস্নরা সাধারণত এই ঈদে আসতে পারেন না। যে কারণে ঈদুল আজহার জামাতে মুসলিস্নর সংখ্যা অনেক কমে যায়। তারপরও শোলাকিয়া ময়দানে এবারও দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক জিএসএম জাফরউলস্নাহ্‌ জানান, ঈদ জামাতকে নির্বিঘ্ন ও শানিৱপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস’তি নেওয়া হয়েছিল। উৎসবমুখর ও শানিৱপূর্ণ পরিবেশে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়াতে তিনি সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৪:১২ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৫