| সকাল ৬:২৫ - মঙ্গলবার - ২৩শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

শুক্রবার উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা

অনলাইন ডেস্ক,  ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫, বুধবার,
শুক্রবার পবিত্র ঈদুল আজহা। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসব আমেজের মধ্যদিয়ে শুক্রবার সারাদেশে পশু কোরবানির মধ্যদিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।
হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগ ও অনুপম আদর্শের প্রতীকী নিদর্শন হিসেবে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বছর আগে থেকে কোরবানির এ প্রচলন শুরু। মহান আলস্ন্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশে হযরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রাণপ্রিয় ছেলে হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন। ওই অনন্য ঘটনার স্মরণেই এ কোরবানির প্রচলন।
মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় দ্বিতীয় বৃহত্তম এ উৎসব উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এ উপলড়্গে দেওয়া বাণীতে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমান ভাইবোনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, কোরবানির শিক্ষা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করি- এটাই হোক এবারের ঈদের অঙ্গীকার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা উপলড়্গে দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলিম জনগোষ্ঠীকে আনত্মরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মহান আলস্নাহর উদ্দেশ্যে প্রিয় বস্তুকে উৎসর্গের মাধ্যমে তাঁর সন্তষ্টি লাভের যে অনুপম দৃষ্টান্ত হযরত ইব্রাহিম (আ.) স্থাপন করে গেছেন, তা বিশ্ববাসীর কাছে চিরকাল অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন আমরা সকলেই পবিত্র ঈদুল আজহার মর্মবাণী অনত্মরে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণমুখী কর্মকান্ডে অংশ নিয়ে বিভেদ-বেষম্যহীন সুখী, সমৃদ্ধি বাংলাদেশ গড়ে তুলি। রাব্বুল আলামীন আমাদের সহায় হোন।’
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাঁর বাণীতে, ঈদের সময় দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দিকে সাহায্য ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে দেশের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মুসলমানদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে এই আনন্দ এক সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
ঈদুল আজহা উপলড়্গে কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের সকল কারাগার, সরকারি হাসপাতাল, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, শিশুসদন, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র, সেফ হোম্‌স, দুস’ কল্যাণ কেন্দ্র এবং শিশু ও মাতৃসদনে উন্নতমানের খাবার পরিবেষণ করা হবে।
হযরত ইব্রাহিম (আ.) নিজ পুত্রকে কোরবানি দেয়ার পরীড়্গায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আলস্ন্লাহপাকের নির্দেশে তাঁর জীবদ্দশায় প্রতি বছরই পশু কোরবানির মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার আনুগত্যের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেন।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)ও এ আদর্শ অনুসরণ ও বহাল রাখতে আদিষ্ট হন। তিনিও তাঁর জীবদ্দশায় প্রতিবছরই কোরবানি করেছেন এবং তাঁর উম্মতদের জন্য এ আদর্শ ও প্রথা অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে গেছেন।
এ আদর্শ অনুসরণের জন্য গোটা মুসলিম জাহানের মতো বাংলাদেশেও ঈদ উদযাপনের সকল প্রস’তি সম্পন্ন হয়েছে। এ উপলক্ষে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ আল্লাহর সন’ষ্টি লাভের উদ্দেশে পশু কোরবানি দেয়ার প্রস’তি নিয়েছেন।
কোরবানীর পশু কেনার জন্য গত কয়েক দিন যাবৎ গাবতলী পশুর হাটসহ রাজধানী ও আশপাশের অস্থায়ী পশু হাটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষে করা গেছে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যনত্ম তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
নগরীর লাখ লাখ বাসিন্দা গ্রামের বাড়িতে আপনজন ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করার জন্য রাজধানী ছাড়ছেন।
ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে, বিআরটিসি, বাংলাদেশ অভ্যনত্মরীণ নৌপরিবহন সংস্থা, বাংলাদেশ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য বেসরকারি সংস্থা বিপুলসংখ্যক যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এদিকে পবিত্র উৎসব উপলক্ষ দৈনিক পত্রিকাগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টিভি চ্যানেল এবং রেডিও বিনোদনমূলক বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সমপ্রচারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দ উৎসবের মধ্যদিয়ে ঈদ উদ্‌যাপনের লড়্গ্যে জাতীয় পর্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্থানীয় পর্যায়ে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো দেশব্যাপী ঈদ উদ্‌যাপনের প্রস’তি গ্রহণ করেছে।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রম্নত অপসারণের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে দেশের প্রধান ঈদ জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে ওই জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে ৫টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৭টা, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টা, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টা এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।
সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ঈদুল আজহার নামায আদায়ের জন্য মুসলস্নীদের সুবিধার্থে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যাপ্ত পানি ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রাজধানীতে জাতীয় ঈদগাহসহ ৩৬২টি ঈদ জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিট করপোরেশন এলাকায় ঈদুল আজহার ২২৮টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় ঈদগাহে ৫ হাজার মহিলা মুসলিস্ন্লসহ লড়্গাধিক মুসলিস্নর নামায আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুসলিস্নদের নামায আদায়ের সুবিধার্থে বসার জায়গা, ওযু ও মোবাইল টয়লেটের বব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামায আদায়ের জন্য পুরোপুরি প্রস’ত জাতীয় ঈদগাহ।
এদিকে, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উদ্যোগে সংসদ ভবনের দক্ষিণ পস্ন্ল্লাজায় সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের নামায আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত সকাল ৯টায় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের নামায আদায়ের জন্য মুসুলিস্নদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশেষ ট্রেন ও বাস চলাচল করবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৭:২৩ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৫