| সকাল ৮:৫৮ - রবিবার - ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - ১৪ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

ফুলপুর বিদ্যুৎ অফিসের চরম স্বেচ্ছাচারিতা বাড়তি বিলের দুঃসহ চাপে অতীষ্ঠ গ্রাহকরা

 

মফিজুল ইসলাম অলিঃ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫, শনিবার, 
গ্রাহকদের প্রতি চরম স্বেচ্ছাচারিতার মধ্য দিয়ে চলছে ফুলপুর বিদ্যুৎ সরবরাহ অফিস। বাড়তি বিলের বোঝা নিয়ে দুঃসহ হয়রানির শিকার হয়ে অতীষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সব ধরণের গ্রাহকরা। প্রতিদিন শত শত গ্রাহক বাড়তি বিলের কপি হাতে নিয়ে অভিযোগ করতে আসছেন বিদ্যুৎ অফিসে। প্রায় তিনমাস পর কর্মকর্তারা অফিস করতে শুরু করলেও পাত্তা দেওয়া হচ্ছে না গ্রাহকদের ন্যায়সঙ্গত অভিযোগকে। আবাসিক, বাণিজ্যিক কিংবা সেচ- কোনো ধরণের গ্রাহকই রেহাই পাচ্ছেন না বাড়তি বিলের হয়রানি থেকে। অধিকাংশ গ্রাহকের অভিযোগ- মিটার রিডিং না দেখেই তাদের নামে কাল্পনিক বিল ইস্যু করা হচ্ছে। মিটার সচল থাকলেও লোড বিল করে চাপানো হচ্ছে অতিরিক্ত বিলের দায়। অনেকে মাসের পর মাস বিলের কাগজ হাতে পাচ্ছেন না। ফলে এক সময় অকল্পনীয় বাড়তি বিল দেখে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ছেন তারা। স্বল্প আয়ের বেশ কিছু গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিলের অংক কমিয়ে রাখতে তারা এনার্জিসেভ বাল্ব ব্যবহারসহ হিসেব করে বিদ্যুৎ খরচ করেন। মাস শেষে মোটা অংকের বিলের কাগজ হাতে পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তারা। তাদের বিলে ব্যবহৃত ইউনিটের যে সংখ্যা লেখা থাকে তা মিটার রিডিংয়ের চেয়ে অনেক বেশি। এ ব্যাপারে তারা বিলের কপি নিয়ে অফিসে যোগাযোগ করলে পরবর্তীতে সমন্বয় করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের বিদেয় করা হয় এবং পরবর্তীতেও বাড়তি বিল করা অব্যাহত রাখা হয়। কোনো কোনো গ্রাহক সামর্থ্যের অতিরিক্ত বাড়তি বিল পরিশোধ করতে না পারায় হাজার হাজার টাকার বকেয়া বিলের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছেন। এছাড়া অধিকাংশ সেচ গ্রাহক বোরো মওসুম ছাড়া তাদের সেচ সংযোগ ব্যবহার না করলেও তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে আমন মওসুমের বিদ্যুৎ বিল। এই বিল সংশোধনের জন্য অফিসে যোগযোগ করলে সাময়িকভাবে কম অংকের বিল পরিশোধের সুযোগ দিয়ে বকেয়া হিসাবে বাড়তি বিলের দায় কাঁধে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের এই হয়রানির শিকার অনেক গ্রাহক তাদের সংযোগ স’ায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন ও হিসাব বন্ধের আবেদন করতে বাধ্য হচ্ছেন। সেচ পাম্পের বাড়তি বিলের অভিযোগে ইতঃপূর্বে কৃষকরা ফুলপুর বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করলে ময়মনসিংহে থেকে আসা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদনে-র জন্য একটি কমিটি গঠন করেন। আজ পর্যন- এই কমিটির কোনো কার্যক্রমের ফলাফল পাননি কোনো গ্রাহক। গোপন সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পিতভাবে অফিস থেকে গ্রাহকদের নামে বাড়তি বিল করা হয়। গত ছয় মাসে ফুলপুর বিদ্যুৎ সরবরাহ অফিস থেকে গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত প্রায় ৩ লাখ ইউনিটের বিল চাপানো হয়েছে। বিল সংক্রান- এসব অনিয়মের ব্যাপারে ফুলপুর বিদ্যুৎ সরবরাহের আবাসিক প্রকৌশলী তহুর উদ্দিনের কাছে চাইলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে আমার কাছে কোন তথ্য নেই। এ ব্যাপারে অফিসের প্রধান কর্মকর্তার কাছে জানা যাবে বলে তিনি জানান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৫:৩০ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৫