| রাত ১:৫৭ - সোমবার - ৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ৯ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

মুক্তাগাছায় জীবিত (অবঃ) যুগ্ম সচিবকে মৃত দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে মামলা দায়ের

সিরাজুল হক সরকার: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫, সোমবার,

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা শহরের মুক্তাগাছা মৌজার কয়েক কোটি টাকার সরকারি অর্পিত সম্পত্তি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে জীবিত একজন অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিবকে মৃত দেখিয়ে তার কথিত পুত্রের নাম দিয়ে ময়মনসিংহের বিজ্ঞ জেলা জজ অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে । যার মামলা নং- ২১৬/১৩ যা বিচারাধীন। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ১৯৬৩/৬৪ সালে সরকার মুক্তাগাছা থানার ট্রেনিং এ- ডেভেলপমেন্ট সেন্টার নির্মাণের জন্য বিভিন্ন দাগে ৩ একর সম্পত্তি হুকুম দখল করেন। উক্ত জমির মধ্যে সিএস- ২১২, এস,এ দাগ- ৮৪১ দাগে মোট জমি ৮৮ শতাংশ এর মধ্যে আংশিক জমি একুয়ার করেন। পরবর্তীতে আর্থিক সংকুলান না হওয়ায় উক্ত ট্রেনিং সেন্টারটি (পয়ারকান্দি) বর্তমান উপজেলায় স্থানান্তারিত হয়। ১৯৮৩/৮৪ সালে এ দাগের বাকি জমির মধ্যে ক্যাপটেন (অবঃ) জামিলুর রহমান খান কে ১৪ শতাংশ এবং জনৈকা সখিনা খাতুনকে ৮ শতাংশ সরকার লিজ দেন। পরবর্তীতে সরকার ক্যাপটেন জামিলুর রহমান খান কে উক্ত ১৪ শতাংশ জমি দীর্ঘ মেয়াদী বন্দোবস্ত দেন। ১৯৯৭ সালে ক্যাপটেন জামিলুর রহমান খান (অবঃ) উক্ত ১৪ শতাংশ জমি দুটি দলিল মূলে হাবিবুর রহমান হাবুলের নিকট বিক্রি করে দেন। বাকি ২৬ শতাংশ সরকারি জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকে। ২০১২ সালে অর্পিত সম্পত্তির গেজেট প্রকাশ হওয়ার পর এস,এ- ৮৪১ দাগ তালিকাভুক্ত হওয়ায় উক্ত ২৬ শতাংশ সহ ক্যাপটেন জামিলুর রহমান খান এর নিকট থেকে ক্রয়কৃত ১৪ শতাংশ জমিসহ মোট ৪৪ শতাংশ জমি দাবী করে অর্পিত সম্পত্তি হইতে অব্যাহতি পাওয়ার জন্যে ময়মনসিংহ বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় দেখা যায়, মামলার ১নং বাদী মোঃ মোখলেছুর রহমান খান, পিতা- মরহুম ক্যাপটেন জামিলুর রহমান খান, সাং- সৈয়দপাড়া (কুতুবপুর), থানা- মুক্তাগাছা, জেলা- ময়মনসিংহ, ২নং বাদী মোঃ হাবিবুর রহমান হাবুল, পিতা- মরহুম সাহেদ আলী, সাং- মধ্যহিস্যা মুক্তাগাছা শহর, থানা- মুক্তাগাছা, জেলা- ময়মনসিংহ বনাম বিবাদী করা হয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পড়্গে ডেপুটি কমিশনার, ময়মনসিংহ। খোঁজ নিয়ে যায়, ১নং বাদী মোখলেছুর রহমান জামিলুর রহমানের পুত্র হিসাবে কোন অসিত্মত্ব নাই। ক্যাপটেন (অবঃ) জামিলুর রহমান খান অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব এখনও জীবিত আছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা উত্তরার ১০নং সেক্টরের ১৯/এইচ, গ্রীন ডেসটিনি নামক নিজস্ব বাসায় অবস’ান করছেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর/১৫ বিকেলে তার মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, মোখলেছুর রহমান নামে তার কোন ছেলে নেই এবং সরকার তাকে মুক্তাগাছা মৌজায় এস,এ- ৮৪১ নং দাগে ২ কাঠা জমি দিয়েছিল অনেক পূর্বেই তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন। এদিকে উক্ত জমি হাবিবুর রহমান হাবুলকে পাইয়ে দেয়ার পড়্গে তৎকালীন পৌর অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জীবন কুমার বিশ্বাস (বর্তমানে ভালুকায় কর্মরত) বিতর্কিত একটি রিপোর্ট প্রদান করেন যা সরকারের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ড়্গতির কারণ বলে অনেকেই মনত্মব্য করেছেন। এ ব্যাপারে সংশিস্নষ্ট কর্তৃপড়্গসহ মামলার বাদীর প্রকৃত পরিচয় ও তার দলিল নিয়ে যে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে অভিজ্ঞমহল মনে করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:৩৩ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৫