| রাত ৪:৫৭ - বৃহস্পতিবার - ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ - ২৬শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ১৭ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

ময়মনসিংহে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেবার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

মুক্তাগাছা থেকে সিরাজুল হক সরকার,০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সোমবারঃ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার মহেষপুর গ্রামে সরকারি অর্থায়নে নতুন বিদ্যুতায়নের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ৩০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে এ নিয়ে ঘটিত একাধিক তদন্ত কমিটি। থানা ও আদালতে দালালদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। অভিযোগকারী গ্রাহকদেরকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে দালাল চক্র। এদিকে ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালী কিছু রাজনৈতিক নেতা সক্রিয় হয়ে উঠার অভিযোগ রয়েছে।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি- ১ এর সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায় ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে মাস্টার প্লেনে মুক্তাগাছা দাওগাঁও ইউনিয়নে মহেশপুর এলাকায় বিদ্যুতায়নের লক্ষে সরকারি অর্থায়নে ৬ কিলোমিটার নতুন বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ কাজের সিদ্ধান্ত হয়। এ সুযোগে সমিতির অসাধু কর্মকর্তা ও দালালদের একটি চক্র মিলে গ্রামের সাধারণ গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা বাণিজ্যের নামে। মহেষপুর গ্রামের দালাল সমিউল হক, জামাল উদ্দিন, মিজান ও নু্রুল হকসহ একটি চক্র সরাসরি মাঠে গিয়ে নতুন গ্রহাকদের কাছ থেকে মিটার প্রতি ৭ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা করে ৩ শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে ঐ দালাল চক্র ৩০ লড়্গাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়। এনিয়ে গত ১৮ আগস্ট দৈনিক লোকলোকন্তর সহ একাধিক পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও থানা পুলিশসহ একাধিক সংস্থার পক্ষ থেকে পৃথক কমিটি গঠন করে তদন্তে নামে। প্রত্যেক কমিটিই ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন বলে জানাগেছে। এব্যাপারে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সহকারী জেনারেল ম্যানেজার(প্রশাসন) শামীম কাউসার, জানান দালাল চক্র গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতারণা করে ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার করে টাকা নিয়েছে বলে তদনেত্ম পাওয়া গেছে। এ নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবরে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান। পুলিশের তদনত্ম কর্মকর্তা মুক্তাগাছা থানার এসআই রাশেদ জানান, সরেজমিন তদন্তে দালাল কর্তৃক টাকা হাতিয়ে নেবার ঘটনার প্রমান পাওয়াগেছে। এখন আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে। এদিকে প্রতারণার শিকার এলাকাবাসীর পক্ষে বিভিন্ন পর্যায়ে দালালদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা ও সাংবাদিকদের ঘটনাটি জানানোর কারনে দালাল চক্র শাহান আলী নামের এক গ্রাহককে নানাভাবে হয়রানীসহ প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এনিয়ে সোমবার ময়মনসিংহের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১২ দালালকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। টাকা ফেরতসহ দালালদের বিচার দাবীতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে প্রতারণার শিকার ৩শতাধিক গ্রাহক। তারা এব্যাপারে সরকার ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৮:২৫ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৫