| বিকাল ৫:৫৭ - সোমবার - ২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - ১৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

ফুলবাড়ীয়ার কুখ্যাত রাজাকার আমজাদ হাজীর মৃত্যু

আব্দুস ছাত্তার, ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) ঃ ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫, শুক্রবার,
ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কুখ্যাত রাজাকার আমজাদ হাজী শুক্রবার বিকাল ৫ টার সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের আইসিসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি ছিলেন ময়মনসিংহের দক্ষিনের ত্রাস। তার বিরুদ্ধে হত্যা লুষ্ঠনসহ ধর্ষনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে ৭ টি মামলা রয়েছে। আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইবুনাল গ্রেতারীপরোয়ানা জারীর পর ১১ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ আমজাদ হাজীসহ অপর এক রাজাকার রিয়াজ উদ্দিন ফকিরকে গ্রেফতার করে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানায়, ১২ আগস্ট ময়মনসিংহ থেকে আমজাদ হাজীসহ রিয়াজ উদ্দিন ফকিরকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরের সময় গাজীপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় মারাত্নক আহত হন তিনি। দ্বিতীয় দফায় তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিসিইউতে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫ টার দিকে আমজাদ হাজী মারা যান।
স্বাধীনতা যুদ্ধচলাকালীন সময়ে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার মূর্তিমান আতংকের নাম ছিল আলহাজ আমজাদ আলী। আমজাদ আলী ছিল আলবদর বাহিনীর প্রধান। তার ইশারায় নারী ধর্ষন লুটপাট হত্যার মত জঘন্য অপরাধ সংগঠিত হয়েছিল। আছিম যুদ্ধে তার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাসহ বহু মানুষকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। পাটিরায় দুই হিন্দুনারীকে ধর্ষনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরম্নদ্ধে। এ পর্যনত্ম আলবদর আমজাদ আলীর নামে ৭ টি মামলা হয়েছে। তার মধ্যে একটি মামলার বাদী উপজেলার ভালুকজান গ্রামের খোরশেদ আলী। তার পিতা তালেব মন্ডলকে আখিলা নদীর ব্রিজের উপর দাড় করে গুলি করে হত্যার করে আলবদর বাহিনীর প্রধান আমজাদ হাজী।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী খোরশেদ আলী জানান, স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর তার পিতৃহত্যার আসামি গ্রেফতার হওয়ার খবরে আমরা বড় খুশি হয়ে ছিলাম। আমাদের আফসোস সাজা হওয়ার আগেই কুখ্যাত রাজাকার মারা গেলেন।
কবছর আলবদরের উপজেলা কমান্ডার আলহাজ আমজাদ আলী এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ১৯৭০ এর নির্বাচনে তিনি পাকিসত্মানের নেজামে ইসলাম পার্টি থেকে বই মার্কায় নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে ছিলেন। সে সময় তার প্রতিদ্বন্ধি ছিল বর্তমান উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য আলহাজ মোসলেম উদ্দিন। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর আত্নরক্ষার জন্য তিনি তাবলীগ জামায়াতে চলে যান। টঙ্গীতে ইজতেমা চলাকালীন সময়ে টঙ্গী মসজিদে দেশ বিরোধী বক্তব্য দেয়ার অপরাধে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। সে সময় যুদ্ধাপরাধের মামলায় তিনি এক বছর জেল খেটেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাধারন ক্ষমা ঘোষনা করার পর তিনি জেল থেকে বেরিয়ে আসেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা তাবলীগের আমির হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। জানা গেছে, তার বড় ছেলে পল্লীচিকিৎসক আকরাম হোসেনের কেশরগঞ্জ বাজারে ওষুধের ফার্মেসীর ব্যবসা করেন। ছোট ছেলে মুফতি আনোয়ার হোসেন চট্রগ্রামে ও পাকিস্তানে লেখাপড়া করে ঢাকার কলতাবাজার জামে মসজিদে ইমামতি করেন।
এ ব্যাপারে ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি রিফাত খান রাজিব জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল মামলা নং ৩৮/২০১৪ মুলে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানী জারির পর গ্রেফতার করা হয় আলহাজ আমজাদ আলী ও রিয়াজ উদ্দিন ফকির কে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৮:৫১ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৫