| রাত ৪:৫৬ - সোমবার - ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ - ২৩শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ১৪ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

অভিযুক্ত শিক্ষক গোলাপ বহাল তবিয়তে: নান্দাইলের রীনা আক্তার তার গর্ভের সন্তানের স্বীকৃতি চেয়ে মামলা করে হুমকীর মুখে

 

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি, নান্দাইল ঃ ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫, শুৃক্রবার,
ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌর সদর চন্ডীপাশা এলাকার পিতামৃত- মমরোজ আলীর কন্যা মোছাঃ রিনা আক্তার (২৫) তার গর্ভের ৪ মাসের সন্তানের স্বীকৃতি চায়।  জেলা ময়মনসিংহের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় মোকা্দ্দমা নং ২০০/১৫ সুত্রে জানা যায়, বাদীনি রীনা আক্তার জর্ডানে চাকুরী করত। গত ২০১৪ সালে দেশে ফিরে আসে। বাড়ী আসার পর ঘাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চন্ডীপাশা গ্রামের মোছলেম উদ্দিনের পুত্র মিছবাহ উদ্দিন ওরফে গোলাপ মিনার বাড়ীতে প্রায়ই যাতায়ত করত এবং তাকে ভালমন্দ জিজ্ঞাসাবাদ করত। বিদেশ থেকে আসার সময় নগদ টাকা এবং ৩ ভড়ি ওজনের স্বর্ণোলংকার আনে। তা থেকে গোলাপকে নগদ ৩ লক্ষ টাকা দেয় টাকার বিনিময়ে জমি বন্ধক ও গরু কিনে দিবে বলে তার কাছে বিশ্বাস অর্জন করে। কিছুদিন পর গোলাপ পূর্ণরায় অলংকার গুলো দিতে বলে যা দিয়ে ব্যাংক থেকে রিনার নামে টাকা তুলবে। রিনা সরল বিশ্বাসে গোলাপকে স্বর্ণাংলকার দিয়ে দেয়। এরপর গোলাপ রিনা কে বিবাহ করবে বলে প্রস্তাব দিতে থাকে, এমতাব্‌স্থায় গোলাপের সাথে বুঝ পরামর্শে অবশেষে রিনা বিয়েতে রাজী হয় এবং ০৯.০৫.১৫ তারিখ বিবাহের কাবিন নামা রেজিষ্ট্রি করে পরদিনই জেলা ময়মনসিংহের বিজ্ঞ নোটারী পাবলিক সমড়্গে বিবাহের এফিডেফিট সম্পন্ন করে। বিবাহের কিছুদিন যেতে না যেতেই গোলাপ রিনার কাছে যৌতুক হিসেবে আরো দুই লক্ষ টাকা দাবী করে। রিনা তার (গোলাপের) অন্যায় আবদারে রাজী না হওয়ায় তাকে নানাবিধ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। লোক মুখে বলাবলি করে ছলে বলে কৌশলে রিনা গোলাপকে তালাক দিতে বাধ্য করবে। এরপর থেকে স্বামী স্ত্রীর যোগাযোগ কিছু দিনের জন্য বন্ধ থাকে। অবশেষে রিনা নিরুপায় হয়ে গত ১৯.০৬.১৫ ইং তারিখ রিনা তার খালা রেহেনা বেগম ও চাচাত ভাই সামছুল হককে নিয়ে গোলাপের বাড়ী যায়। বাড়ী যাওয়ার পর গোলাপের পরামর্শে তার পিতা মোছলেম তার পূর্ব ভিটির বসত ঘরে বসে যৌতুক বাবদ দুই লক্ষ টাকা পূর্নরায় দাবী করে। এ নিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্য্যায়ে গোলাপ রিনার চুলের মুঠি ধরে টানাহেচড়া করে রিনাকে ঘরের বারান্দায় এনে এলোপাথারীভাবে মারধোর শুরু করে ফলে রিনার সারা শরীর ফোলা বেদনা যুক্ত জখম হয়। এ সময় রিনা চিৎকার করতে থাকলে গোলাপ রিনাকে গলায় চাপিয়া ধরিয়া হত্যার চেষ্ঠা চালায়। রিনার ডাক চিৎকারে লোক জন দৌড়াইয়া আসতে থাকলে জোর করে তাকে (রিনা) বাড়ী হতে তাড়িয়ে দেয়।
মামলায় আরজীতে আরো জানা যায়, প্রভাবশালী গোলাপের চাপে রিনা বাড়ী থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। রিনা বর্তমানে ৪ মাসের অনত্মঃসত্তা সে তার গর্ভের সন্তানের স্বীকৃতি চেয়ে মামলা করার পর থেকেই শিড়্গক গোলাপ তাকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য ও গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে গোলাপ তার কিছু লোক দ্বারা রিনাকে চাপ সৃষ্টি করেই চলেছে। এ মর্মে নান্দাইল মডেল থানায় সাধারন ডাইরীও করা হয়েছে।
পিতৃহীন রিনা এখন দিশেহারা। ঘটনাটি মিমাংসার জন্য নান্দাইল পৌর মেয়রের বাড়ী সহ বেশ কয়েক স্থানে দেন দরবার শালিশ হয়েছে। শালিশের ব্যাপারে নান্দাইল পৌর মেয়র এ. এফ. এম আজিজুল ইসলাম পিকুল বলেন, ব্যাপারটি নিয়ে আমার বাড়ীতে শালিস হলেও মিমাংসা করতে পারিনি।
অভিযোগের ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষক মিছবাহ উদ্দিন গোলাপকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি অভিযোগ সত্য নয় বলে জানান। তিনি আরো জানান , তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার এলাকার একটি কু’চক্রী মহল তাকে ও পরিবারের লোকজনকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করতে এ ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।#

সর্বশেষ আপডেটঃ ৫:৩৯ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৫