| সন্ধ্যা ৬:২৯ - সোমবার - ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ২৯শে সফর, ১৪৪৪ হিজরি

মুক্তাগাছায় বিদ্যুৎ সংযোগের নামে গ্রাহকদের ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দালাল চক্র

 

মুক্তাগাছা থেকে সিরাজুল হক সরকার: ১৮ আগস্ট, ২০১৫, মঙ্গলবার,

ময়মনসিংহ পলস্নী বিদ্যুৎ সমিতি- ১ এর আওতায় মুক্তাগাছা উপজেলার প্রত্যনত্ম অঞ্চল মহেশপুর এলাকায় সরকারি অর্থায়নে নতুন বিদ্যুতায়নের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি দালাল চক্র গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মিটার পেতে আরও টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে দালালরা। প্রদত্ত টাকা ফেরৎ পেতে ও দালালদের বিচারের দাবী জানিয়েছে ভুক্তভোগী সাধারণ গ্রাহক। ময়মনসিংহ পলস্নী বিদ্যুৎ সমিতি- ১ এর সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে মাস্টার পস্নানে মুক্তাগাছা দাওগাঁও ইউনিয়নে মহেশপুর এলাকায় বিদ্যুতায়নের লড়্গে সরকারি অর্থায়নে ৬ কিলোমিটার নতুন বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ কাজের সিদ্ধানত্ম হয়। এ সুযোগে সমিতির অসাধু কর্মকর্তা ও দালালদের একটি চক্র মিলে গ্রামের সাধারণ গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা বাণিজ্যের নামে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় মহেশপুর এলাকার মিজান মাস্টার, সমিরম্নল হক, জামাল ও নজরম্নল মিলে এলাকার প্রত্যেক বাড়ীতে গিয়ে গণহারে টাকা উঠান। তারা গ্রাহকদের জানান, বিদ্যুৎ পেতে হলে টাকা লাগবে। জন প্রতি ৮ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা করে ৩ শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে ঐ দালাল চক্র ৩০ লড়্গাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মহেশপুর গ্রামের আজগর আলীর পুত্র রফিকুল ইসলাম জানান, স’ানীয় ইমান আলী হাজীর ছেলে বিএনপির কর্মী সমিরম্নল বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা নিয়েছে। কৃষক তারা মিয়া জানান, তার কাছ থেকে একই ব্যক্তি ১০ হাজার টাকা নিয়েছে। মকবুল হোসেন জানান, নুরম্নল হক তার কাছ থেকে একটি মিটার দেয়ার কথা বলে ১১ হাজার টাকা নিয়েছে। কৃষক আঃ কদ্দুস ও আক্তার আলী জানান, মিজান মাস্টার তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে নিয়েছে। নজরম্নল ইসলাম নামে এক গ্রাহক জানান, দালালরা রাইস মিলে সংযোগ দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৩৭ হাজার ৮ শত টাকা নিয়েছে। এলাকার সাংবাদিক এসেছে এমন খবরে শহীদুল ইসলাম, আনিছ, নুরম্নল ইসলাম, কেরামত আলী, মকবুল হোসেন, হাফিজুর রহমান, সিদ্দিক, কদ্দুস, মান্নান, আওয়াল, শরাফত, রফিজ মাস্টার সহ সেখানে একত্রিত হওয়া শতাধিক লোকে অভিযোগ করেন, এ দালালরা তাদেরকে নানা কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৮ থেকে ১৩ হাজার টাকা নিয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী আফছর আলীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছে বলে জানান। তারা দালালদের বিচার ও প্রদত্ত টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের হসত্মড়্গেপ কামনা করেছেন। অভিযুক্ত সমিরম্নল গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, বিদ্যুতের লাইন পেতে হলে এমন টাকা লাগবেই। তিনি জানান, এ টাকা তিনি ফুলবাড়ীয়ার কালাদহ গ্রামের গেদু খাঁ এর পুত্র আঃ লতিফ, পলস্নী বিদ্যুতের ওয়্যারিং মিস্ত্রি দুলাল ও ময়মনসিংহ পলস্নী বিদ্যুৎ সমিতির এক কর্মকর্তার মাধ্যমে কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে দুলাল টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করলেও এ নিয়ে আর কোন কথা বলতে চাননি। ময়মনসিংহ পলস্নী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার আব্দুর রশিদ মৃধা বলেন সমিতিকে দালাল ও প্রতারক মুক্ত রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। মহেশপুরে সমিতির স্ব-উদ্যোগে লাইন টেনে বিদ্যুতায়ন করা হচ্ছে। সেখানে গ্রাহক ফি ২০ টাকা জামানত ৬০০ টাকা বাদে আর কোন টাকা খরচ হওয়ার কথা নয়। তিনি জানান, সমিতির ভাবমূর্তি ড়্গুন্ন করে গ্রাহক হয়রানীর অভিযোগে ইতিমধ্যে দালাল লতিফের নামে সমিতির পড়্গ থেকে মামলা করা হয়েছে। মহেশপুরে দালালের টাকা ফেরত নেয়ার কথা তার জানা নেই বলে উলেস্নখ করে বলেন, অভিযোগ পেলে সমিতির বিধি অনুযায়ী ব্যবস’া নেয়া হবে। প্রতারিত গ্রাহকরা চিহ্নিত দালাল ও সমিতির অসাধু কর্মকর্তাদের শাসিত্ম দাবী করেছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২:৫৬ অপরাহ্ণ | আগস্ট ১৮, ২০১৫