| ভোর ৫:১৮ - শুক্রবার - ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ৩রা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

মুক্তাগাছায় এনএন পাইলট স্কুলের প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

সিরাজুল হক সরকার, মুক্তাগাছা থেকে: ০৩ আগস্ট ২০১৫, সোমবার,

মুক্তাগাছা জমিদারদের প্রতিষ্ঠিত শতাধিক বর্ষ প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এন.এন.পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশুতোষ সরকারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ বাণিজ্য, স্বেচ্ছাচারিতাসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়ের পুকুরের মাছ বিক্রি, শিক্ষকদের বাসা ভাড়া, পুরাতন কাগজ বিক্রি, শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকাসহ বিদ্যালয় থেকে বড় অংকের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে অডিট রিপোর্টে। প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতায় ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত আলোকিত এ নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ঐতিহ্য হারিয়ে ধ্বংসের পথে এগোচ্ছে। বিদ্যালয়ের স্বাভাবিকতা ফেরাতে অনতিবিলম্বে দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস’া গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯০৭ সালে মুক্তাগাছার জমিদার নগেন্দ্র নারায়ন আচার্য চৌধূরীর নামে প্রতিষ্ঠিত এন.এন. পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠাকালীন থেকেই সার্বিক ফলাফলে আলোচিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে চলে আসছিল। অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার অভিযোগে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা,অভিভাবক ও সুধী সমাজের মানববন্ধন,বিক্ষোভসহ ব্যাপক প্রতিবাদকে অপেক্ষা করে সাবেক ও তৎকালীন সভাপতি কেএম খালিদ বাবুর নেতৃত্বে বর্তমান প্রধান শিক্ষক আশুতোষ সরকারকে নিযোগ দেয়া হয়।নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে বার্ষিক অডিট প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়ে। অডিট রিপোর্ট পর্যালোচনা পূর্বক প্রতিবেদন সূত্র: উপ.নি.অফি.স্মারক নং ০৫/৩০/৬১৬৫.০০০.০০.০০০.১৪.-৭৯৩, তাং ১৭/১১/২০১৪ ইং তে উল্লেখ করা হয় জানুযারী ২০১৪ হতে আগস্ট ২০১৪ পর্যনত্ম ভাউচার নং ভি ০৭,২৫৯,৩২২,৩২৫,৪৩৪,৩৯৭,৪৩৩,০৬,১৩ ও ৬৯ আপত্তিজনক ও অসাভাবিক। এসমসত্ম ভাউচার থেকে কয়েক লাখ টাকা সকলের অজানেত্ম উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়। সেখানে দেখানো হয় বিদ্যালয়ের পুকুরের মাছ বিক্রির ২১ হাজার টাকা, দুই জন শিক্ষকের বাসাভাড়া বাবদ ৩০হাজার টাকা, পুরাতন কাগজ বিক্রির ১২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন এ প্রধান শিক্ষক। এছাড়া কোন ক্রয় কমিটি না করে ও ম্যানেজিং কমিটিকে না জানিয়ে মনগড়াভাবে বিভিন্ন সময় ভূয়া ভাউ মূলে ভাউচার নং ২৫৯ এ ৭০ হাজার টাকা, ভাউচার নং ৩১ এ ১০ হাজার, ভাউচার নং ৩২৫ এ ৬৮ হাজার ৭’শ, ভাউচার নং ৭ এ সাড়ে ৫ হাজার, ভাউচার নং ৪৩৪ এ ১৬ হাজার টাকাসহ কয়েক লাখ টাকা আত্মসাৎ করে। উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মেঘ লাল মন্ডল, সমবায় অফিসার নজরুল ইসলাম ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহাদত হোসেনের রিপোর্ট অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়ে। পড়ে প্রভাবশালী মহলের দতবিরে মাত্র আট হাজার টাকা জরিমানা করে বিষয়টি ধামা চাপা দেয়া হয়। সরকার দলীয় স’ানীয় এক প্রভাবশালী নেতার যোগসাজসে শিক্ষক নিয়োগে প্রধান শিক্ষক আশুতোষ সরকারের অনৈতিক কর্মকান্ডে অতিষ্ট হয়ে তার নিযোগ দাতা ম্যানেজিং কমিটির তৎকালীন সভাপতি ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব কেএম খালিদ বাবু তরিগড়ি করে সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সমপ্রতি আবারও শিক্ষক নিয়োগে প্রধান শিক্ষক সেই একই চক্র ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের যোগসাজসে অনৈতিক পথে এগোতে থাকলে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তিনি নিয়োগ পরীক্ষা স’গিত করে দেন। প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের কারনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারীরা গত ঈদে তাদের বেতন বোনাস পাননি। এনিয়ে শিক্ষক কর্মচারীরা আন্দোলনে নামলে শিক্ষক নেতাদের হসত্মক্ষেপে আন্দোলন স’গিত করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান প্রধান শিক্ষক স’ানীয় এক রাজনৈতিক নেতার প্রভাবে স্বেচ্ছাচারীভাবে যাচ্ছে তাই করে যাচ্ছে। এক সময় উপজেলায় শ্রেষ্ট বিদ্যালয় হিসেবে এর অবস’ান থাকলেও বর্তমানে এর অবস’া খুবই নাজুক বলে একাধিক অভিভাবক জানান। এব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক তার বিরদ্ধে উত্থাপিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়টি নিয়ম তান্ত্রিকভাবেই চলছে। অভিভাবক ও এলাকাবাসী দ্রুত তদনত্মপূর্বক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিচার দাবী করেছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৪:৫৬ অপরাহ্ণ | আগস্ট ০৩, ২০১৫