| দুপুর ১:১০ - মঙ্গলবার - ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ৩০শে সফর, ১৪৪৪ হিজরি

শোলাকিয়ার টানে ৪৫ বছর

সিম্মী আহাম্মেদ, কিশোরগঞ্জ ●২০ জুলাই ২০১৫, সোমবার,
আজ থেকে ৪৫ বছর আগে প্রথম শোলাকিয়ায় আসেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কাসর গ্রামের আখতার হোসেন মন্ডল (১১০)। গাজীপুরের শ্রীপুরের মামা রফিক উদ্দিন মাস্টারই তাকে প্রথমে জানান, কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈশাখাঁর একটি বড় মাঠ আছে, যেখানে বিরাট বড় ঈদের জামাত হয়। তার হাত ধরেই প্রথম আখতার হোসেন ম-লের শোলাকিয়ায় আসা। সেই থেকে শোলাকিয়ার টানে বারবার ফিরে আসেন তিনি, আবহাওয়া ভালো থাকলে তো কথাই নেই। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করেও এ মাঠে নামাজ আদায়ের জন্য হাজির হন। শনিবারও এসেছিলেন। এভাবেই কেটে গেছে ৪৫টি বছর। মামা বেঁচে না থাকলেও তার সঙ্গে আসা শোলাকিয়ায় নিয়মিত ঈদুল ফিতরের জামাতে নামাজ আদায় করছেন তিনি। তবে বয়স হয়ে যাওয়ায় এখন আর একা আসতে পারেন না। গত ৭ বছর ধরে ভাগ্নে সিরাজুল ইসলাম (৫৮)-এর সহযোগিতায় শোলাকিয়ায় আসছেন তিনি। এবারও তাকে সঙ্গী করেই ঈদের দুইদিন আগে এসে ঈদগাহ মিম্বরে অবস’ান নিয়েছিলেন। মামা-ভাগ্নে এক সঙ্গে অংশ নিয়েছেন দেশের বৃহত্তম এই ঈদজামাতে।
আখতার হোসেন ম-ল জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ মাঠে নামাজ পড়ার সুবাদে অনেক স’ানীয় লোকজন ও নিয়মিত মুসলিস্নদের অনেকের সঙ্গে পরিচয় ঘটেছে। প্রতিবছর তাদের অনেকে এসে খোঁজখবর নেন। তাঁরা শোলাকিয়া ঈদগাহ মিম্বরে রাত যাপন করেন। তিনি বলেন, ‘শোলাকিয়ার টান উপেক্ষা করার শক্তি আমার নেই। বয়স হয়ে যাওয়ায় ছেলেমেয়েরা এখন আর আসতে দিতে চায় না। সনত্মানরা নিষেধ করলে কান্না চলে আসে, চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না। লোকজনের সহযোগিতা নিয়ে ছুটে আসি শোলাকিয়ায়। তাই ছেলেমেয়েরা আমার আবদারে আর বাধা দেয় না। যত দিন বেঁচে আছি ঈদের নামাজ আমাকে এখানেই আদায় করতে হবে।’
দীর্ঘদিন ধরে শোলাকিয়ায় নামাজ আদায়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, লাখ লাখ মানুষের সাথে আলস্নাহর সামনে হাজির হই। লাখ লাখ হাতের সঙ্গে আমিও দুই হাত তুলে দেশ ও দশের মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত করি। এ এক বিরল অভিজ্ঞতা ও শান্তি। তাই বাড়িতে বসে থাকতে পারি না। শত কষ্ট উপেক্ষা করে চলে আসি শোলাকিয়ায়।
আখতার হোসেন মন্ডলের ভাগ্নে সিরাজুল ইসলাম বলেন, শোলাকিয়ায় এতো লোকের সঙ্গে নামাজ পড়াটা সত্যিই সৌভাগ্যের ব্যাপার। তিনি জানান, এসব কারণেই তার ১১০ বছর বয়সী মামা আখতার হোসেন মন্ডল কেবল মনের জোরে প্রতিবছর ঈদের দিনটায় এসে শোলাকিয়ায় হাজির হন। মামার সঙ্গে শোলাকিয়ায় আসা-যাওয়া করতে গিয়ে এখন তিনিও এখন শোলাকিয়ার প্রতি এক অন্যরকম টান অনুভব করেন। সারা বছর শোলাকিয়ায় নামাজ আদায়ের জন্য মুখিয়ে থাকেন। একটা জামাত শেষ হওয়ার পর সারা বছর ধরে আরেকটা জামাতের জন্য দু’জনেই প্রস’তি নিতে থাকেন। সিরাজুল ইসলাম বলেন, যতোদিন বাঁচি শোলাকিয়ার জামাতে যোগ দেওয়ার তওফিক যেন আলস্নাহ দান করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৫:১২ অপরাহ্ণ | জুলাই ২০, ২০১৫