| দুপুর ২:৩০ - শুক্রবার - ১৯শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ২০শে মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

গত দেড় বছরে ২শ’ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার

কেমিক্যাল ব্যবসার আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সংগ্রহ করেছে জঙ্গি সংগঠনগুলো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, গত দেড় বছরে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের কাছ থেকে ২০০ কেজির বেশি বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। এখনো কি পরিমাণ বিস্ফোরক জঙ্গিদের মজুদে রয়েছে সে সম্পর্কে ধারণা নেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূঁয়া প্যাড এবং ল্যাব সহকারী ও এক শ্রেণীর দালাল চক্রের মাধ্যমে এসব বিস্ফোরক দ্রব্য সংগ্রহ করছে জঙ্গিরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশ ও র‌্যাবের তৎপরতায় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার হয়েছে। তবে কি পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য জঙ্গিদের হাতে রয়েছে তার কোনো তথ্য নেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে। ফলে যেকোনো সময় বড় আকারের নাশকতা চালাতে পারে জঙ্গিরা। তাই কেমিক্যাল কেনাবেচার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর নজরদারি বাড়ানো দরকার বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গোয়েন্দা তথ্যমতে, রাজধানীসহ সারাদেশে প্রায় তিন শতাধিক কেমিক্যালের গুদাম ও দোকান আছে। প্রতিদিনই এখান থেকে শত শত কেজি কেমিক্যাল বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা এসব দ্রব্য কি কাজে ব্যবহার করছে, তা না জেনেই কেমিক্যাল বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কেমিক্যাল ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর , বিস্ফোরক পরিদপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগে। অথচ অধিকাংশ ব্যবসায়ীর তা নেই।
আবার দু’একটি প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ঠিক থাকলেও বেশি মুনাফার লোভে যাচাই-বাছাই ছাড়াই জঙ্গিদের কাছে বিস্ফোরক সরবরাহ করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাবের হিসেব মতে,  গত দেড় বছরে জঙ্গিদের কাছ থেকে ২২৭ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে র‌্যাব ১৫০ কেজি, গোয়েন্দা পুলিশ ২৭ কেজি ও সিআইডি ৫০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে। বিস্ফোরক আইনে মামলা ৬৭টি। আর এসব মামলায় ১৬৯ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ও পুলিশ।
এসময় ১ হাজার ৭২৪টি ককটেল, ১৮২টি পেট্রোল বোমা, ৮টি হাতবোমা, ২০০টি চকলেট বোমা, ১টি টাইম বোমা ও ২টি গ্রেনেড উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও হার্ডডিস্ক উদ্ধার হয়েছে।অন্যদিকে একই সময়ে র‌্যাবে অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়।মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সানোয়ার হোসেন বলেন, জঙ্গি সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন পন্থায় বাজার থেকে বিস্ফোরক দ্রব্য সংগ্রহ করছে।
কখনও ল্যাব সহকারী, কখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূঁয়া প্যাড তৈরি করে দোকান থেকে বিস্ফোরক সংগ্রহ করছে।
এর বাইরেও এক শ্রেণীর দালাল চক্র বেশি অর্থের বিনিময়ে জঙ্গিদের কাচে বিস্ফোরক সরবরাহ করছে। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সচেতনতার অভাব রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।এ বিষয়ে র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, দেশের জঙ্গি দমনের লক্ষ্যেই র‌্যাব সৃষ্টি। র‌্যাব তার সূচনা লগ্ন থেকেই জঙ্গি নিয়ে কাজ করছে। এক্ষেত্রে র‌্যাবের সফলতা অনেক।বাংলাদেশ বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি বণিক সমিতির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন সাজু  জানান, ব্যবসায়ীদের হাত থেকে সরাসরি বিস্ফোরক দ্রব্য জঙ্গি সংগঠনগুলোর কাছে যাচ্ছে না।বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে এগুলো সংগ্রহ করে কিছু লোক এসব বিস্ফোরক জঙ্গি সংগঠনগুলোর নিকট সরবরাহ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর নিয়ম-নীতি মেনেই এগুলো বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা।এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. জিয়াউর রহমান  বলেন, সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে কেমিক্যাল ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো বিস্ফোরক দ্রব্য বিক্রি করছেন।
সংশ্লিষ্টদের নজরদারি না থাকায় এসব দ্রব্য কয়েক হাত ঘুরে জঙ্গি সংগঠনের হাতে যাচ্ছে। তারা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে এগুলো ব্যবহার করছে। ফলে জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে বলেও মনে করেন তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ | জুন ৩০, ২০১৫