| সকাল ৬:৩৯ - সোমবার - ৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ৯ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

নিকলীতে তুচ্ছ ঘটনায় একঘরে করা হলো ২ পরিবারকে

খাইরুল মোমেন স্বপন,নিকলী(কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ ২৮ জুন ২০১৫, রবিবার:

গ্রাম সালিশের নামে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী একটি মহল একঘরে করেছে ২টি পরিবারকে। একঘরে হয়ে মৃত গফুর আলীর পূত্র আলম মিয়া (৪০) ও মৃত সাধু মিয়ার পূত্র খোকন মিয়া(৪০) পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে বলে জানা যায়। তাদের উভয়ের বাড়ি উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামে।
সরেজমিনে ঘুরে ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে কামালপুর গ্রামের কদু মিয়ার (৬৫) সাথে তার ভাতিজা আলম মিয়া ও খোকন মিয়ার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত বুধবার বিকালে কামালপুর বেড়ীবাঁধের গিয়াস উদ্দিনের চায়ের দোকানে এক সালিশ-বৈঠক বসে। সালিশে উপজেলা কৃষকলীগের প্রস্তাবিত আহবায়ক ছাইদুর রহমান চিকিৎসার খরচ বাবদ কদু মিয়াকে প্রতিজনে ১০ হাজার করে আলম মিয়া ও খোকন মিয়ার জরিমানা ধার্য করেন। এবং দশের (গ্রামবাসীর সমিতি জাতীয়) জন্য প্রত্যেককে আরো ৩ হাজার করে জরিমানা ধার্য করা হয়। আলম ও খোকন জরিমানার টাকা দেয়ার সামর্থ্য না থাকায় মওকুফের মৌখিক আবেদন করেন। এ সময় সালিশকারক দামপাড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী , সেক্রেটারী জালাল মেম্বার, সাবেক মেম্বার মফিজ, উপজেলা জাসাস এর আহবায়ক কামরুল ইসাম, আওয়ামীলীগ কর্মী ও কামালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এরশাদ আলীর জুরীবোর্ডের সিদ্ধান- মোতাবেক আলম ও খোকনের পরিবারকে একঘরে ঘোষণা করেন দামপাড়া ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার কমর উদ্দিন। গ্রামবাসীর কেউ একঘরে পরিবারদ্বয়ের কোন সদস্যের সাথে কোন প্রকার সম্পর্ক রাখলে তাকেও ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং একঘরে করার রায় ঘোষণাও উপসি’তিদের জানানো হয়। এই রায় শালিসোত্তর থেকেই কার্যকরী করা হয়। একঘরে আলম ও খোকন মিয়া জানান, মুরুব্বী কদু মিয়ার সাথে হাতাহাতি অন্যায় হয়েছে। গরীব মানুষ আমরা, জরিমানার এত টাকা দেয়ার সামর্থ্য নাই বলে দশের কাছে মাফ চেয়েছিলাম। সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার কারণে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছি। এ ক’দিনে বেঁেচ থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। সমাজকর্মী ও কামালপুর গণ-পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আ.জব্বার এ প্রতিনিধিকে জানান, সরকারের ডিজিটালাইজড স্বপ্নের দেশে এ রায় বড় বেমানান। এসব সালিশকারকদের বিচার হওয়া উচিৎ বলে মনে করি। সালিশকারক ও উপজেলা জাসাসের আহবায়ক কামরুল ইসলাম বলেন, আমি এই রায়ের বিপক্ষে ছিলাম। রায়টি অমানবিক এবং অন্যায় হয়েছে। উপজেলা কৃষকলীগের প্রস-াবিত আহবায়ক ও সালিশকারক ছাইদুর রহমান বলেন, সব সমস্যা নিয়ে মামলা হলে লাভটা কি। গ্রামের মুর”ব্বীরা আছে কি করতে! আলম, খোকন দুইটাই বেয়াদব তাই এই রায়ই দরকার ছিলো। নিকলী থানার পুলিশ ইনচার্জ একেএম মাহবুব আলম এ ঘটনা তার জানা নেই বলে জানান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২:২৯ অপরাহ্ণ | জুন ২৮, ২০১৫