| সকাল ৬:৪৭ - বৃহস্পতিবার - ১৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ৩রা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসক সংকটে ভেঙ্গে পড়েছে স্বাস্থ্য সেবা

আজহারম্নল হক, গফরগাঁও ঃ ২৪ জুন ২০১৫, বুধবার:
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে ডাক্তার থেকেও ডাক্তার সংকট। চিকিৎসকদের টানা অনুপস্থিতির কারনে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার প্রায় ৬ লক্ষাধিক মানুষ। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যনত্ম সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে ও বাইরে চিকিৎসা নিতে আসা অসংখ্য মানুষের ভিড়। হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ মুশফিকুর রহমান ও মেডিসিনের চিকিৎসক আলমগীর মোস্তাক রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। এ সময় উপজেলার রসুলপুর গ্রামের আমেনা খাতুন তার তিন মাসের শিশু সন্তানকে চিকিৎসা করাতে এসেছেন। জানতে চাইলেই ক্ষুদ্ধ হয়ে বলেন, সেই সাড়ে ১০টা থাইকা খাঁড়াইয়া আছি। ভিতরে ডাক্তারের কাছে যাওনডা ভিড়ের কারনে অসম্ভব অইয়া পড়ছে। ফাক-ফুতর দিয়া ভিতরে যাইবার কোন সুযোগেই নাই। এই ডাক্তারের এখানে ভিড় লাগগাই (লেগেই) থাকে। কারেন্ট না থাকলেও মোমবাতি জ্বালাইয়া রোগী দেহে।
লংগাইর গ্রাম থেকে চিকিৎসা করতে আসা প্রায় আশি ছুই ছুই করা আব্দুল গফুর নামে এক বৃদ্ধ দুই ঘন্টা অপেক্ষা করেও ডাক্তার না পেয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে বলেন, এ হাসপাতালে যেদিনেই আহি, হেদিন দিনেই হুনি আজকা ডাক্তার নাই। এত বড় একটা হাসপাতাল আর এহানে আসলেই খালি হুনি ডাক্তার নাই। বাবা ডাক্তার নাই ক্যান?। বৃদ্ধ গফুরের মতো এমন প্রশ্ন আরো অসংখ্য রোগীর।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ ২০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৮ জন ডাক্তার। ১৮ জন ডাক্তারের মধ্যে আজ  বুধবার হাসপাতালে উপসি’ত ছিলেন ডাঃ মুশফিকুর রহমান, আলমগীর মোস্তাক, নূরম্নন্নাহার জান্নাত, নাসরিন সুলতানা, মাজহারম্নল ইসলামসহ ৫জন ডাক্তার। বাকী ১৩ জন ডাক্তারেই ছিলেন অনুপসি’ত।
অপরদিকে অভিযোগ রয়েছে অনেক ডাক্তার ডিউটিতে না আসলেও হাজিরা খাতায় তাদেরকে উপসি’ত দেখানো হয় । কর্মস্থলে না এসে কিভাবে হাজিরা খাতায় সাক্ষর হয় এমন প্রশ্নে টিএইচএর সহজ সরল উত্তর হয়ত তিনি এসে সাক্ষর করে চলে গেছেন । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, এমন দুয়েকজন ডাক্তার আছেন যারা মাস দুয়েক পর পর হাসপাতালে আসেন।
জানা গেছে, উপজেলার প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স। এখানে বহির্বিভাগে প্রতিদিন অন্তত হাজারো রোগী চিকিৎসা নেন। অন-র্বিভাগে গড়ে প্রতিদিন ৭০ জন রোগী ভর্তি থাকেন।
হাসপাতালে চিকিৎসদের অনুপসি’তির কারন জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ওয়ায়েজ উদ্দিন ফরাজি চিকিৎসক উপসি’তি কম থাকায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কি কারনে তারা অনুপসি’ত তা জানতে আজই তাদের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে।
ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন মোস্তফা কামাল বলেন, চিকিৎসদের হাসপাতালে অনুপসি’ত থাকার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:২৫ অপরাহ্ণ | জুন ২৪, ২০১৫