| সন্ধ্যা ৭:২০ - সোমবার - ১৫ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

ললিত কাণ্ডে বেকায়দায় বিজেপি

অনলাইন ডেস্ক,২০ জুন ২০১৫, শনিবার:

আইপিএল দুর্নীতির খলনায়ক ললিত মোদির জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে অনৈতিকভাবে তদবির করার ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় চাপের মধ্যে রয়েছেন ভারতের কেন্দ্র সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে। আর তাদেরকে নিয়ে বেশ বেকায়দায় রয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি।

কংগ্রেসের মতো এবার ললিতগেট কাণ্ডে বিরোধী অবস্থান নিয়েছে দিল্লির প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি (এএপি)। সেই সঙ্গে সুষমা ও বসুন্ধরা দায় স্বীকার করে পদত্যাগ না করলে সংসদ চলতে না দেওয়ার হুমকি ছুঁড়ে দিয়েছে কংগ্রেস। তারওপর দলের মধ্যেই এই দুই নেতাকে নিয়ে চলছে অন্তর্দ্বন্দ্ব।

শনিবার (২০ জুন) সুষমা স্বরাজের বাসভবনের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে এএপি’র যুবসংঘ। এসময় তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

এএপি নেতা আশুতোষ বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজের এই অধ্যায় ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সত্যিকারের চেহারা প্রকাশ করেছে।

প্রতিবাদের সময় এএপি নেতারা ললিত মোদি বিতর্ককে কেন্দ্র করে সুষমা স্বরাজ ও বিজেপি’র বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এসময় তাদের হাতে বসুন্ধরা রাজের পদত্যাগ চেয়ে ব্যানার-পোস্টার দেখা যায়।

বসুন্ধরা রাজেকে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরাতে এরই মধ্যে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে আরএসএস। তবে এখনও তার পাশে রয়েছে রাজস্থান বিজেপি ইউনিট। সেখানকার ৩০ বিধায়ক ইতোমধ্যে দলের কাছে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো উচিত নয় বসুন্ধরাকে। এই দ্বিমুখী জটিল পরিস্থিতিতে বেশ বেকায়দায় রয়েছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

এর আগে ললিত কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করছেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ললিত মোদিকে ব্রিটেন পাড়ি জমাতে সাহায্য করেছিলেন তিনি।

এর মধ্যে ভারতীয় কংগ্রেসের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি আরও জটিল করে তুলেছে পরিস্থিতি। দলটি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, দায় স্বীকার করে সুষমা স্বরাজ ও বসুন্ধরা রাজে পদত্যাগ না করলে সংসদ চলতে দেবে না তারা।

২০১০ সালে আইপিএল এর  ম্যাচ গড়াপেটার কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার সময় থেকেই এই যুক্তরাজ্যে বাস করছেন ললিত মোদি। ওই বছরই তার পাসপোর্ট জব্দ করে ভারত সরকার। ফলে যুক্তরাজ্যে বসবাস করে আসলেও অন্য কোনো দেশে যেতে পারছিলেন না তিনি।

ভারতের টাইমস নাউ টেলিভিশন চ্যানেলের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে, ললিত মোদির জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে অনৈতিকভাবে তদবির করেছিলেন সুষমা স্বরাজ। পাশাপাশি তার জন্য তদবিরের বিনিময়ে সুষমা স্বরাজের স্বামী অন্যায় সুবিধা নিয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করে টাইমস নাউ।

তবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে সুষমা স্বরাজ দাবি করেছেন, তিনি শুধু মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে ললিত মোদিকে বিদেশ যাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেয়ার জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে অনুরোধ করেছিলেন। বিজেপি প্রধান অমিত শাহ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সুষমার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন।

এদিকে, ললিত মোদি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব পেতে চলেছেন শীর্ষক একটি খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে চাউর হয়েছে।

লন্ডনের স্লোয়ান স্ট্রিটের ১১৭ নম্বর বাড়িটা ললিত মোদির লিজ নেওয়া। ৭ হাজার বর্গফুটের এই বাড়িতে রয়েছে ১৪টি কক্ষ। ২০১০ সালে কেলেঙ্কারির ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর থেকেই এই বাড়ির বাসিন্দা তিনি।

যুক্তরাজ্য থেকে ললিতের নড়চড় না দেখে প্রশ্ন উঠে আসছে, শেষে কি তিনি এখানকারই নাগরিক বনে যাবেন? প্রশ্নটাকে আরও জোরালো করেছেন ললিত নিজেই। ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, আদালত ও ব্রিটিশ সরকার পক্ষে থাকলে এমনটা হওয়া অস্বাভাবিক কিছু না।

ব্রিটিশ আইনানুযায়ী, ব্যবসায়ী হিসেবে যুক্তরাজ্যে যে কেউ থাকতে পারে। তবে শর্ত হল, ব্রিটিশ বাজারে তার বিনিয়োগ থাকতে হবে ন্যূনতম ২ লাখ পাউন্ড। সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, সেখানকার স্টক ও শেয়ার ব্যবসায় মোদির বিনিয়োগ দশ লাখ পাউন্ডেরও বেশি।

আর যদি কোনো ব্যবসায়ী সরকারকে দেখাতে পারেন, তার অর্ধীনে ন্যূনতম ১০ ব্যক্তির কর্মসংস্থান, তাহলে তো স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেতে কোনো বাঁধাই থাকে না। আর এই অনুমতিই নাগরিকত্ব পাওয়াকে তরাণ্বিত করে।

আর একবার যদি ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী বনে যান ললিত মোদি, তাহলে ভিসা ছাড়াই বিশ্বের একশ’ ৭০টি দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন তিনি।

এদিকে, নাগরিকত্বকে পাওয়া হয়ে গেলে ভারতীয় সমন জারি আর কোনো কাজেই আসবে না বলে বিশ্লেষকদের মত। যুক্তরাজ্যের নাগরিক ললিতকে গ্রেফতার করতে হলে তখন দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক ও চুক্তিগুলোর কথা আগে ভাবতে হবে ভারত সরকারকে।

তবে এরপরও যদি ললিতকে গ্রেফতার করতে হয়, তাহলে ভারত সরকারকে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে একটি দ্বি-পক্ষিক চুক্তিতে যেতে হবে। দেশটিতে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। সেখানে এর আগেও ‘ভালো নাগরিক’ খেতাব পাওয়া নাগরিককে পূর্ববর্তী কোনো অপরাধের সূত্রে তার জন্মভূমি তাকে গ্রেফতারের উদাহরণ রয়েছে। এবং এসব ঘটনায় যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছায় প্রক্রিয়ার বাইরে থেকেছে বলে জানান অভিবাসন বিষয়ক আইনজীবী গুর্পল ওপ্পাল।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৪:৩৮ অপরাহ্ণ | জুন ২০, ২০১৫