| সকাল ৬:৪২ - বৃহস্পতিবার - ১৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ৩রা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

গাছেরাও কাঁদে-হাসে, শোনে গান!

রহিম আব্দুর রহিম,
বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু প্রমাণ করেছেন গাছ ক্ষুধা পেলে খায়, আনন্দে হাসে, দুঃখ পেলে কাঁদে, ক্লান- হলে ঘুমায়। এগুলো পুরোনো তথ্য। এবার ভারতীয় বিজ্ঞানী টিএনসিং তিনি প্রমাণ করেছেন গাছেরা গান শুনতে পছন্দ করে। গান শুনলেগাছের আয়ু বাড়ে, দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে। আর ফলনও ভাল হয়। শ্রী. সিং হাইড্রিলার ওপর ৫ সপ্তাহ পরীক্ষার পর তিনি অবাক হন। তিনি দেখলেন যে, গাছগুলো গান শুনছে এবং অনেক দ্রুত বেড়ে ওঠছে। আর যেগুলো গান শুনেনি, সেগুলো স্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। শুধু সিংই নন, ব্যাপারটা প্রমাণ করেছেন, আমেরিকা, ফ্রান্স, কানাডা এবং জার্মানীর উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরাও। আমেরিকার বিজ্ঞানীরা বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, যন্ত্র সংগীত আখ, তামাক ও চীনাবাদামের ফলন বাড়িয়ে দিয়েছে। এজন্য তারা ব্যবহার করে ছিলেন উচ্চ শ্রেণির যন্ত্রসংগীত। গাছেরা টাইপের গান বেশী শুনতে পছন্দ করে। বাঁশি আর বেহালা যে গাছের বেশি প্রিয় তা প্রমাণ হয়েছে টিএনসিং এর গবেষনায়। গাছেরা কখনও একটানা গান শুনতে পছন্দ করে না। ঠিক যেমন মানুষেরা করেনা। সারাদিন একটানা রেকর্ড বাজানোর পর দেখা গেছে, গাছ শুকিয়ে গেছে আবার কখনো কখনো মরে গেছে, এটা প্রমাণ করেছেন মার্কিন উদ্ভিদ বিজ্ঞানী মিসেসডরেথি রেটল্যাক। তিনি ডেনাভারের গবেষনাগারে পরীক্ষা করে দেখিয়েছেন যে, ব্যা-সুরা কোলাহল গাছের বৃদ্ধিকে ব্যাহত করে। তিনি আরও প্রমাণ করেছেন যে, রক ও পপজাতীয় সংগীত গাছকে এলোমেলো ভাবে বাড়িয়ে তোলে। সঙ্গীত যেমন মানুষের স্নায়ুবিক উত্তেজনা বাড়ায়, তেমনি গাছের বৃদ্ধিকে এলো মেলো করে দেয়। ভারতীয় বিজ্ঞানীদের গবেষনায় দেখা গেছে বাঁশির রেনুর রাগিনী ধানের ফলন ২৮ থেকে ৪০ ভাগকরে দেয়। বেহালার টোড়ি রাগিনী শুনে ট্যাঠপিত্তকা গাছ তরতর করে বেড়ে ওঠে। আম, আঙ্গুর , তামাক ও চিনাবাদাম গাছও  সংগীত শুনে আনন্দ উত্তেজনায় বেড়ে ওঠে। এই সবফসলের ক্ষেতে ১৫মিটারের লাউড স্পীকার দিয়ে ফলন উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।গাছ যে গান শোনে, কীভাবে শোনে? গাছের তো আর শ্রবনেন্দ্রীয় নেই। বিজ্ঞানী ডা. মিলস্টাইন বলেছেন সঙ্গীতের সু-মধুর ধ্বনি, গাছের পাতা ও গাছের কান্ডের ছিন্দ্রগুলো বড় করে তোলে এবং অনেক খানি সময় ধরে ওই ছিদ্রগুলো খোলা থাকে এর ফলে গাছের চারা বেশি আলো বাতাস পায়। ফলে দ্রুত এবং ভাল ফলন হয়। টিএনসিংহের মতেসুর লহরী আর তরঙ্গ ধ্বনি, গাছের প্রতিটি কোষের ভেতর পোটোপাজমকে এক বিশেষ ধরনের হরমোন ক্ষয়নে সাহায্য করে। ফলে গাছের মাটি থেকে পুষ্টি গ্রহনে এবং গাছের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ডা. উহন রারগার গাছের গান শোনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন এইভাবে, গাছের কোষের পাতলা ধ্বনি ঝিলির মধ্য দিয়ে জল অনুপ্রবেশের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে গাছ মাটি থেকে বেশি করে ফসফরাস গ্রহণ করতে পারে। আর এ কারনেই গাছ তাড়াতাড়ি বেড়ে ওঠে। এতসব আবিষ্কার হওয়ার পরও এক মজার কান্ড ঘটে গেছে একটি মার্কিন রেকর্ড কোম্পানীর। গাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য মিউজিক টু গো পান্টসনামে একটি রেকর্ড বাজারে ছেড়েছে। কিন’ ক্যাসেটের চাহিদা কেমন তা জানা যায়নি। উলেস্নখ, গাছেরা গান ঠিকই শোনে তবে ব্যা-সুরা গান গাছকে এলোমেলো করেফেলে। তেমনি সুরালো গান যেমন মানুষকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলে, তেমনি ব্যা-সুরা, উদ্ভট গান মানুষকে উশৃঙ্খল করে ফেলে।  লেখক  একজন  শিক্ষক, সাংবাদিক, নাট্যকার ও শিশু সংগঠক

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০:৩৩ অপরাহ্ণ | জুন ১৯, ২০১৫