| রাত ১২:৫৬ - রবিবার - ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ - ১৪ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

তারাকান্দায় জলাবদ্ধতায় ২ হাজার একর জমিতে আমন চাষ ব্যাহত

 

তারাকান্দা, (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ , ১৭ জুন ২০১৫, বুধবার, 

উজানের প্লাবন ভূমিতে অপরিকল্পিত ভাবে শতাধিক মৎস খামার স্থাপন ও বাঁধ নির্মানের ফলে তারকান্দা ও কামারিয়া ইউনিয়ন হয়ে ‘‘ঘোড়ামারা-কাঠাখালি’’ নামক খাল দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
এতে ফনপছা, সিংরাপুরি, রুপসী, ইউলমারি, চাটাপুরি বিল সহ ৮ গ্রাম জুড়ে জলবদ্ধতা দেখা দেয়। পায়ে চলার ছোট ছোট রাস-া পানির নিচে তলিয়ে থাকে, ঘর বাড়িতে পানি উঠে। সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রায় দুই হাজার একর আবাদি জমি থেকে যাচ্ছে অনাবাদি হয়ে। গত চার বছর ধরে শত শত কৃষক বিপুল পরিমান জমিতে আমন ফসল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
বর্ষার মৌসুম এলেই শুরু হয় কৃষকের আহাজারি, স’ানীয় প্রশাসনের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ ও করা হয়েছে কিন’ গত ৪ বছরেও এর কোন সুরাহা হয়নি।
জানা যায়, ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা তারাকান্দা ইউনিয়নের গোপিনাথপুর ফনপছা বিল থেকে শুরু হয়ে ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যেরে ‘‘ঘোড়ামারা কাঠাখালি’’ নামক খালটি জনস’ার্থে ১৯৬৩-৬৪ সালে সরকারি ভাবে খনন করা হয়। বিপুল পরিমান প্লাবন ভূমি সহ ৮ গ্রামের বৃষ্টি, অতি বৃষ্টি বা বন্যার পানি নিমাঞ্চলে প্রবাহিত হয় এ খাল দিয়ে । দেশ স্বাধীনতার পর খালটি পুন: খনন করা হয় সরকারি উদ্রোগে। এ ছাড়াও কাবিখা, কাবিটা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সময় পুন: সংস্কারের কাজ করা হয়।
এদিকে একটি প্রভাবশালী মহল অপরিকল্পিত ভাবে শতাধিক মৎস খামার ও বাঁধ নির্মান করেন। সূত্র জানায়, পূর্বের পানি প্রবাহের গতিপথ সম্পূর্ন রুপে বন্ধ হয়ে যায়। সরকারি ভাবে খনন করা ৪ কিরেমিটার দৈর্ঘ্যের ঘোড়ামারা – কাঠা খালি খালের তর্জন গর্জন এখন আর নেই। এটি এখন মরা খালে পরিনত হয়েছে। ফলে গত ২০০৯ সাল থেকে শত শত কৃষক অন-ত ২ হাজার একর জমি থেকে জলবদ্ধতার কারনে আমন ফসল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
স’ানীয়রা জানান, বৃষ্টি হলেই উজানের ৪ বিল সহ রামচন্দ্রপুর, রুপচন্দ্রপুর, গোপিনাথপুর, গোপালপুর, পোদ্দার পাড়া, কৃষ্ণাইপাড়া, পলাশকান্দা, কামারিয়া, কৈয়াপাড়া সহ অন-ত : ৮ গ্রামে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ পানি আটকে থাকায় আমন আবাদ হয়না।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৭:১৬ অপরাহ্ণ | জুন ১৭, ২০১৫