| সন্ধ্যা ৭:০০ - মঙ্গলবার - ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

নির্মম শক্রতার বলি… তাড়াইলে বিষ দিয়ে মেরে ফেলা হলো ৬ শতাধিক হাঁস

 

আমিনুল ইসলাম বাবুল : ০৩, জুন, বুধবার,
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় মঙ্গলবার সকালে বিষ দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে সাড়ে ৬’শ হাঁস। পূর্ব শক্রতার জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন উপজেলার রাউতি ইউনিয়নের মেছগাঁও গ্রামের মোড়ারকান্দি পাড়ার বাসিন্দা আবদুল কদ্দুছের স্ত্রী মিনা আক্তারের এসব হাঁস বিষ দিয়ে মেরে ফেলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে বস্তায় ভরে মৃত হাঁস নিয়ে তাড়াইল থানায় আসেন মিনা আক্তার। নির্মম শক্রতার বলি মৃত এসব হাঁস দেখতে উৎসুক জনতা ভীড় জমায় থানা প্রাঙ্গণে। এ ঘটনায় উপজেলার সর্বত্র তোলপাড় চলছে।
ক্ষতিগ্রস্থ’ পরিবারের অভিযোগ মেছগাঁও গ্রামের মুড়ারকান্দি পাড়ার তারম্ন মিয়ার ছেলে আশাকুল মিয়া গমের সাথে বিষ মিশিয়ে বাড়ির পিছনের ফাঁকা জমিতে ফেলে রাখে। পরে হাঁসগুলো ওই জমিতে যাওয়ার পর বিষ মেশানো গম খেয়ে মারা যায়। আশাকুল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে মিনা আক্তার বাদী হয়ে ওইদিন রাতে আশাকুলসহ অজ্ঞাত আরও ৩ জনকে আসামী করে তাড়াইল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাউতি ইউনিয়নের মেছগাঁও গ্রামের মোড়ারকান্দি পাড়ার আবদুল কদ্দুছ ও তারম্ন মিয়ার পরিবারের মধ্যে প্রায় চার দশক ধরে এলাকায় আধিপত্য বিসত্মার নিয়ে গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। মঙ্গলবার সকালে মিনা আক্তার বাড়ির পেছনের আলা উদ্দিনের পতিত জমিতে খাওয়ানোর জন্য ৭শ হাঁস নিয়ে ছেড়ে দেন। কিছুক্ষণ পরই একে একে সাড়ে ৬শ হাঁস মারা যায়।
মিনা আক্তার (৪৮) ক্ষোভের সঙ্গে জানান, আশাকুলের পরিবারের সাথে আমাদের বিরোধ রয়েছে। এ কারণে বাড়ির পিছনের ফাঁকা জমিতে গমের সাথে বিষ মিশিয়ে ফেলে রাখে সে। প্রতিদিনের মতো হাঁসেরপাল ওই জায়গায় নিয়ে যাওয়ার পর বিষ খেয়ে হাঁসগুলো মরে গেছে। তিনি আরও জানান, ৫-৬দিন আগেও আশাকুল হাঁস নিয়ে বাড়ি আসার পথে গমের সাথে বিষ মিশিয়ে ফেলে রাখে। কিন্তু, আমি বিষের গন্ধ পেয়ে অন্য পথে হাঁস নিয়ে বাড়িতে আসি।
এ বিষয়ে আশাকুল মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটা সাজানো নাটক। আমি এবং আমার পরিবারের মান-সম্মান ক্ষুন্ন করার জন্য ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে তাঁরা।
রাউতি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন তারেক বলেন, বর্বরতার একটা সীমা থাকা দরকার। মানুষ এমন ঘৃণ্যকাজ করতে পারে ভাবতে অবাক লাগে। যারা এ কাজ করেছে, তাঁদের দৃষ্টানত্মমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
যোগাযোগ করা হলে তাড়াইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুছ ছালাম মিয়া বলেন, মৃত কিছু হাঁস থানায় নিয়ে আসার পর সেগুলো দেখেছি। মিনা আক্তার বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৬:৪৫ অপরাহ্ণ | জুন ০৩, ২০১৫