| রাত ৮:৪৪ - মঙ্গলবার - ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

প্রতারণা করে সোনালী ব্যাংক থেকে পে-অর্ডারের টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

আমিনুল ইসলাম বাবুল :৩১ মে ২০১৫, রবিবার:
জমাকারীর স্বাক্ষর ছাড়া অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে  সোনালী ব্যাংক থেকে পে-অর্ডারের ১ লাখ ৮ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোনালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জের তাড়াইল ও করিমগঞ্জ শাখায় এ ঘটনাটি ঘটেছে। এ ব্যাপারে পে-অর্ডারের টাকা জমাকারী তাড়াইল উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের কলস্না-আছভয়া গ্রামের মৃত ধনু সরকারের ছেলে তারেক আহম্মেদ আজ  রোববার সোনালী ব্যাংকের ওই দুই শাখার ব্যাবস্থাপক বরাবরে পৃথক লিখিত অভিযোগ দাখিল করে টাকা ফেরৎ পাওয়ার আবেদন করেছেন।
লিখিত অভিযোগ ও সোনালী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, তাড়াইল উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের বাঘাইর খাল আগাইর বিল জলমহালের ইজারা ডাকে অংশ নেয়ার জন্য একই উপজেলার গ্রাম বাংলা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডের মাধ্যমে ২০১২ সালের ২৯ মে তারেক আহম্মেদ সোনালী ব্যাংক তাড়াইল শাখায় কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে ৪৩ হাজার টাকা জমা দিয়ে একটি পে-অর্ডার (নং-চঙঅ-৪৬৬০৪২৪) সংগ্রহ করেন এবং একই বছর ৮ মার্চ সোনালী ব্যাংক করিমগঞ্জ শাখায় ৬৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে আরও একটি পে-অর্ডার (নং-উউঅ-৩১০৭৮১১) সংগ্রহ করেন। পরে তিনি পৃথক দু’টি পে-অর্ডার ইজারা ডাকের দরপত্রের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেয়। কিন্তু জলমহাল ইজারা পায় রাহেলা বাঘাইন বিল মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি। ইজারা না পেয়ে গ্রাম-বাংলা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এনে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার কারণে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে দরপত্রের সাথে জমা দেয়া দু’টি পে-অর্ডার উত্তোলন করা হয়নি। চলতি বছরের শুরম্নর দিকে তারেক আহম্মেদ ওই দু’টি পে-অর্ডার সংগ্রহের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলে সেখান থেকে তাকে জানানো হয় সমিতির সাবেক সভাপতি আক্তর হোসেন পে-অর্ডারগুলো নিয়ে গেছেন। পে-অর্ডারের জন্য আক্তর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি নানা টালবাহানায় সময়ক্ষেপন করতে থাকেন। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় তারেক আহম্মেদ সোনালী ব্যাংকের তাড়াইল ও করিমগঞ্জ শাখায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তার জমা দেয়া পে-অর্ডার দু’টির টাকা কলস্না-আছভয়া গ্রামের নজরম্নল ইসলাম ও পূর্ব জাওয়ার গ্রামের ফজলুল করিম নামের দুই ব্যক্তি স্বাড়্গর করে টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছে। কিন্তু নিয়মানুযায়ী যে কোন পে-অর্ডারের টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তির স্বাক্ষরে জমা হবে তার স্বাক্ষরেই টাকা উত্তোলন করতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে জমাকারী তারেক আহম্মেদকে বাদ দিয়ে অন্য লোকদের স্বাক্ষরে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে ব্যাংক থেকে পে-অর্ডারের টাকা উত্তোলনের ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও টাকা ফেরত চেয়ে দুই শাখার ব্যাবস্থাপক বরাবরে তিনি পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যাপারে গ্রাম-বাংলা মৎসজীবি সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি আক্তর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা থেকে দু’টি পে-অর্ডার আনার পর তা কলস্না-আছভয়া গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে নজরম্নল ইসলাম নিয়ে গেছেন। তবে, টাকা উত্তোলনের সময় তিনি ছিলেন না বলে জানান।
সোনালী ব্যাংক তাড়াইল শাখার ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মো. মাজহারম্নল হক ও করিমগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক ইমদাদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে তদনত্ম সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পে-অর্ডারের টাকা উত্তোলনকারী উপজেলার কলস্না-আছভয়া গ্রামের নজরম্নল ইসলাম ও পূর্ব জাওয়ার গ্রামের ফজলুল করিমের সঙ্গে কথা বলার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৬:৫৭ অপরাহ্ণ | মে ৩১, ২০১৫