| দুপুর ২:৩৩ - শুক্রবার - ১৯শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ২০শে মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূর নখের নীচে সুঁচ, গায়ে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেয়ার অভিযোগ

 

আমিনুল ইসলাম বাবুল, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) :২৭ মে ২০১৫, বুধবার:
প্রেমের টানে প্রেমিক রিকশা চালক মোজাম্মেলের হাত ধরে ঘর ছেড়ে ছিল গার্মেন্টস কর্মী সুমা আক্তার। সুখের সংসার করার আশায় প্রেমিককে বিয়েও করে ছিল। কিন্তু বিয়ের আট মাস যেতে না যেতেই স্বপ্নভঙ্গ হয় সুমার। বিয়ের পর পরই বাবার বাড়ি থেকে মোটা অংকের টাকা এনে দেয়ার জন্য সুমাকে চাপ দেয় স্বামী। সুমা বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে পারবেনা জানালে ড়্গিপ্ত হয়ে তার ওপর নির্যাতন চালায় স্বামী । প্রথমে টাকার জন্য স্বামী নির্যাতন করলেও পরে তার সঙ্গে একই দাবিতে দেবর, শাশুড়িসহ শশুর বাড়ির লোকজনও যোগ দেয়। এ কারণে দিন দিন সুমার ওপর নির্য়াতনের মাত্রাও বাড়তে থাকে। সর্বশেষ সুমা আক্তারকে (১৬) যৌতুকের জন্য স্বামী, দেবর, শ্বাশুরি এবং নানি শ্বাশুরি মিলে মারধর করে হাতের আঙুলের নখের নীচে সুঁচ ঢুকিয়ে এবং গায়ে সিগারেটের আগুনে ছ্যাঁকা দিয়ে ঘরে আটকে রাখে। গৃহবধূ সুমা সেখানে দু’দিন আটক থাকার পর গুরম্নতর আহত অবস’ায় কৌশলে শশুর বাড়ি থেকে পালিয়ে আসে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনরা। যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূর ওপর মধ্যযুগীয় এ বর্বর নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটেছে গত ২১মে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার থানেশ্বর গ্রামে।
এলাকাবাসী ও নির্যাতিত গৃহবধুর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তাড়াইল উপজেলার ভাওয়াল গ্রামের আবদুল জলিলের মেয়ে সুমা আক্তার তার বাবা-মার সঙ্গে ঢাকার কচুড়্গেত এলাকার বসবাস করে একটি তৈরী পোষাক কারখানায় অপারেটর হিসেবে চাকুরি করতো। সেখানে পার্শ্ববর্তী ইটনা উপজেলার থানেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সাত্তারের ছেলে মোজাম্মেল মিয়া (১৯) রিকশা চালাতেন। একই এলাকায় বসবাস করার সুবাধে মোজাম্মেলের সঙ্গে সুমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে এ সম্পর্ক মেনে নেয়নি সুমার পরিবার। ফলে ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে মোজাম্মেল সুমাকে নিয়ে পালিয়ে নেত্রকোনায় গিয়ে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার পর পের পরই সুমাকে বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ এনে দেয়ার জন্য চাপ দেয় স্বামী মোজম্মেল। সুমা টাকা আনতে পারবে না জানালে তাকে মারধর করে মোজাম্মেল। পরে একই দাবিতে দেবর, শাশুড়িসহ শশুর বাড়ির লোকজনও সুমার ওপর নির্য়াতন চালাতে থাকে। ঘটনার দিন গত ২১ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্বামী মোজাম্মেল, দেবর মনি হোসেন, শ্বাশুড়ি শাহানা আক্তার ও নানি শ্বাশুরি মহিলা বেগম আমার হাত-পা বেঁধে মারপিট শুরম্ন করে । এ সময় আমার ডান হাতের মাঝের তিন আঙুলের নখের নীচে সুঁচ ঢুকিয়ে দেয়। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় সিগারেটের আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়ে ঘরে আটকে রাখে। এভাবে দু’দিন আটক থাকার ২৩ মে ভোরে কৌশলে স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে নৌকাযোগে তাড়াইল আসার পর পবিারের লোকজন প্রথমে তাড়াইল হাসপাতালে ভর্তি করেন পরে তাকে কিশোরগঞ্জ জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। গত সোমবার সুমাকে হাসপাতালথেকে বাবার বাড়িতে আনা হয়। নির্যানের শিকার সুমা এখন বাবার বাড়িতে বিছানায় শুয়ে শুয়ে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে।
সুমার মা নাজমা আক্তার (৪৫) বলেন, শশুর বাড়িতে যাওয়ার পর থেকে তারা যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে নির্যাতনম্ন করে আসছে। নির্যাতন করার বিষয়টি মোবাইলে একাধিকবার মেয়ে আমাদের জানিয়েছে। তিনি আরও জানান, তার ডান হাতের তিনটি আঙুলের নখের নীচে ড়্গত রয়েছে। বাম হাতের কনুইয়ের নীচে পোড়া ড়্গত ও পেটে, পিঠে এবং উরম্নর নীচে সিগারেটের ছ্যাঁকা রয়েছে।
সুমা কেঁদে কেঁদে বলে, আমাকে যারা নির্মমভাবে নির্যাতন করেছে তাঁদের বিচার চাই আমি। তার বাবা আবদুল জলিল বলেন, আমার মেয়েকে এরা চারজন মিলে অমানবিক নির্যাতন করেছে। আমি এদের নামে আদালতে মামলা করার প্রস’তি নিচ্ছি।
এ ব্যাপারে মোজাম্মেলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সাজানো নাটক বলে মনত্মব্য করেন। সুমার হাতের আঙুলের নখের নীচে সুঁচ ও সিগারেটের ছেকা দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, সুমাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করার সময় সেই আঘাত তার আঙুলে লাগে। এ সময় আমার হাতে থাকা সিগারেটের আগুন সুমার বাম হাতে লেগে পুড়ে যায়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৬:১০ অপরাহ্ণ | মে ২৭, ২০১৫