| রাত ১২:০৪ - বৃহস্পতিবার - ১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ১২ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

মুক্তাগাছায় সেচ সমপ্রসারণ কর্মসূচি ১১টি গভীর নলকূপ সংস্কারের নামে ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ

 সিরাজুল হক সরকার: বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, মুক্তাগাছা উপজেলা কার্যালয়ের অধীনে ১১টি গভীর নলকূপ সংস্কার/ মেরামত করার জন্য ৪২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হলেও বাস-বে ৪ লাখ টাকার কাজও হয়নি। কাজের নামে শুভংকরের ফাঁকির মধ্য দিয়ে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রকল্পের উপ-পরিচালক, প্রকৌশলী ও ঠিকাদার মিলে সমুদয় টাকা আত্মসাতের পায়তারায় লিপ্ত রয়েছে। সূত্রমতে, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড সেচ সমপ্রসারণ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ১১টি গভীর নলকূপ মেরামতের জন্য ৪২ লাখ টাকার অধিক বরাদ্দ দিয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে সংস্কারের কাজ পান গোধূলি এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদার কোম্পানি। কাজ পাওয়ার পর উক্ত ঠিকাদার কোম্পানি পল্লী উন্নয়ন অফিসার, প্রকৌশলী ও উপ-পরিচালক, মিলে গভীর নলকূপের সংস্কারের টাকা ভাগ বাটোয়ারা করার পায়তারায় লিপ্ত রয়েছে। সূত্র মতে, ১১টি গভীর নলকূপের মধ্যে মন্ডলসেন নামাপাড়া, গড়বাজাইল পূর্ব, বন্দগোয়ালীয়া পূর্ব, লাঙ্গুলিয়া মধ্য, লাঙ্গুলিয়া পশ্চিম, রাজপুর, চন্দ্রবাড়ী নয়াবিলা, কলাকান্দা, চাপুরিয়া, র”দ্রপুর, এগুলোর প্রত্যেকটির জন্য সংস্কার বাবদ ৪ লাখ ২ হাজার টাকা এবং রাঙ্গামাটিয়া কৃষক সমবায় সমিতির জন্য ২ লাখ ৪ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এসব গভীর নলকূপের পুনঃ খনন, ড্রেন, মেশিনের ঘর সহ যাবতীয় কাজ রয়েছে। সরেজমিনে কলাকান্দা সমিতিতে গিয়ে দেখা যায় এবং সমিতির সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, সমিতির গভীর নলকূপ মেরামতের জন্য ঠিকাদার কোন সিডিউল দেখায় নাই। ১০% বাবদ ৪০ হাজার টাকা আমরা কেন্দ্রীয় সমিতিতে জমা দিয়েছি। গভীর নলকূপের ঘর ২ বছর পূর্বে আমরা নিজেরাই করেছি। সমপ্রতি কাজ করতে এসে ঠিকাদার ঘরের প্লাস্টার বাবদ ১০ ব্যাগ সিমেন্ট, ৭০ ফুট বালু ও ৬ শত ইট দিয়েছে, ৪ হাজার ২’শ টাকায় দরজা বানিয়ে দিয়েছে এবং ১২০ ফুট প্লাস্টিক পাইপ দিয়েছে। সব মিলিয়ে ৬০/ ৭০ হাজার টাকা খরচ করে ৪ লাখ ২ হাজার টাকার বাকি টাকা আরডিও, ঠিকাদার ও প্রকৌশলী মিলে আত্মসাৎ করছে। অপরদিকে চন্দ্রবাড়ী নয়াবিলা সমিতির সভাপতি হাজী মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ২০১৩ সালে আমরা সমিতির ঘর করেছি। সমপ্রতি ঠিকাদার এসে ঘরের চুনকাম বাবদ ৪ হাজর ৫শত টাকা খরচ করে বরাদ্দকৃত ৪ লাক ২ হাজার টাকা বাকি সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করছে। র”দ্রপুর সমিতির সদস্যদের সাথে কথা হলে তারা জানান, ১০% বাবদ ৪০ হাজার টাকা জমা দিয়েছি। সমিতির কোন কাজই করেনি ঠিকাদার। ঠিকাদার আমাদেরকে ২ লাখ টাকা দিয়ে বাকি টাকা দিবেনা বলে জানিয়েছে। গড়বাজাইল পূর্ব সমিতির নামে বর্তমানে কোন গভীর নলকূপ নেই। ব্যক্তি মালিকানা সমিতিতে সংস্কার কাজ দেখিয়ে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এভাবেই চলছে সেচ সমপ্রসারণ কর্মসূচির টাকা হরিলুট। ইতিমধ্যেই আরডিও সহ সংস্কারের সঙ্গে সম্পৃক্তদের বির”দ্ধে বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সরেজমিনে তদন- করলেই আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৭:৫০ অপরাহ্ণ | মে ২৫, ২০১৫