| রাত ৪:৪০ - শনিবার - ২৬শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ১লা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

চারটি জাতীয় রেকর্ড এখন বিকেএসপির

অনলাইন ডেস্ক ,২৪ মে ২০১৫, রবিবার:

জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিকসে জাতীয় রেকর্ড গড়ে দ্রুততম কিশোরের খেতাব জিতেছেন ব্রাহ্মণ বাড়িয়ার সাইফুল ইসলাম খান (সানি)। ১০.৫৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে জাতীয় রেকর্ড গড়েন বিকেএসপির এ অ্যাথলেট। আগের রেকর্ড ছিল বিকেএসপিরই অ্যাথলেট আরিফুল ইসলামের। ২০১২ সালে ১০.৮৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন আরিফ। প্রতিযোগিতায় দ্রুততম কিশোরীর খেতাবও জিতেছে বিকেএসপি। টানা দু’বার খেতাব জিতলেন সুনামগঞ্জের তামান্না। গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ১৩.৩৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে স্বর্ণ জেতেন এই কিশোরী। গত বছর ১২.৮০ সেকেন্ড সময় দ্রুততম কিশোরী হয়েছিলেন তামান্না। এদিকে দ্বিতীয় দিনেও চারটি জাতীয় রেকর্ড হয়েছে। শেষদিনেও নিজেদের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)। আগের দিনে আটটির সঙ্গে গতকালও ১০টি স্বর্ণ জিতেছে প্রতিষ্ঠানটি।
হতে চেয়েছিলেন ফুটবলার। ট্রায়াল দিতে গিয়ে অ্যাথলেটিক্স কোচদের নজরে পড়ে যান সানি। তাদেরই পরামর্শে ফুটবলার হওয়ার ইচ্ছা শক্তি জলাঞ্জলি দিয়ে অ্যাথলেটিকসে নাম লেখান। প্রথম দিকে ভালো লাগতো না।  পরে আস্তে আস্তে দৌঁড় ভাল লাগতে শুরু হয়। সেই শুরু। এখন দৌঁড় ছাড়া তার আর কোন ধ্যান জ্ঞান নেই। ২০১১ সালে প্রথম প্রতিভা অন্বেষণের মাধ্যমে অ্যাথলেটিকসের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে সুযোগ পান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের কালিকচ্ছর এই ছেলে। ২০১২ সালে ২০০ ও ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে স্বর্ণপদক জেতেন সানি। পরের বছরও ওই দুই স্বর্ণ তার হাতছাড়া হয়নি। মনে জেদ ছিল ১০০ মিটার স্প্রিন্টে স্বর্ণ জেতার। এবার তা পূরণ হয়েছে। উসাইন বোল্টকে আদর্শ ধরে এগিয়ে যেতে চান সানি। চলতি মাসেই কাতারের দোহায় এশিয়ান ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপে ১১.৩০ সেকেন্ডে নিয়ে ১৩তম হন। সানির কথা, ‘আমার লক্ষ্য অনেক। শুধু দেশ নয়, বিদেশের মাটিতেও সাফল্য পেতে উদগ্রীব আমি। সুযোগ পেলে পর্যাপ্ত অনুশীলন ও সহযোগিতা পেলে আমি এক সময় দেশের লাল-সবুজ পতাকা বিদেশের মাটিতে উড়াতে সমর্থ হবো।’ দ্রুততম কিশোরী তামান্না শুধু অ্যাথলেটই নন, নিয়মিত হ্যান্ডবল খেলেন। আন্তঃস্কুলে সাফল্য পাওয়ার পর ২০০৯ সালে বিকেএসপিতে ভর্তি হয়েছিলেন তামান্না। এখন এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। সাবেক অ্যাথলেট কোচ কিতাব আলীর উৎসাহেই তামান্না অ্যাথলেটিকসে এসেছেন। কিতাব আলীর সম্পর্কে নাতনী হন তিনি। চলতি আসরে ১০০ মিটার স্প্রিন্ট ছাড়াও ২০০, ৪০০, লংজাম্প ও হাইজাম্পেও স্বর্ণ তুলে নিয়েছেন তামান্না। গত আসরেও ১০০ মিটারের পাশাপাশি ২০০ ও ৪০০ মিটারের স্বর্ণ ছিল তার দখলে। পড়ন্ত বিকালে সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ছিল, তখন তামান্না নিজের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠেন। স্বর্ণ জয়ের পর আবেগঘন কণ্ঠে তামান্না বলেন, ‘আমি সাউথ এশিয়ান গেমসে ২০০ মিটার স্প্রিন্টে স্বর্ণ জিততে চাই। এজন্য আমার প্রয়োজন নিবিড় অনুশীলন ব্যবস্থা। আমি কৃতজ্ঞ আমার বিকেএসপি’র কর্তৃপক্ষ ও কোচদের কাছে। ফ্রেজার আমার আইকন। বাংলাদেশের শিরীন আক্তারের স্প্রিন্ট এবং চুমকির রানিং ও টেকনিক ভাল লাগে। আমি অনেক দূর যেতে চাই। এজন্য দেশবাসীর দোয়া ও সমর্থন প্রয়োজন।’ বিকালে চারশ’ মিটার রিলে ইভেন্টের মধ্যদিয়ে শেষ হয় শামসুজ্জোহা জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা। আগের দিনের চারটি জাতীয় রেকর্ডের সঙ্গে গতকাল যোগ হয়েছে আরও চারটি জাতীয় নতুন রেকর্ড। কিশোরের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের পাশাপাশি জাতীয় রেকর্ড হয়েছে জাবলিন থ্রো’তে। এতে নারায়ণগঞ্জ জেলার রেকর্ডটি গড়েছেন আবদুুল আলীম। ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে ৫০.৭২ সেকেন্ড সময় নিয়ে রেকর্ড গড়েছেন বিকেএসপির শেখ আশরাফুজ্জামান। ২০০ স্প্রিন্টেও আমরাফুজ্জামান ২২.১৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েন। আগের রেকর্ড গড়েন। আগের রেকর্ড ছিল ২২.৯০ সেকেন্ড।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১:৪৯ অপরাহ্ণ | মে ২৪, ২০১৫