| রাত ৯:৫৮ - সোমবার - ২৮শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ৩রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

মুক্তিযোদ্ধা আ. কদ্দুছ এর সনদ বাতিলের আবেদন

ফুলবাড়ীয়া ব্যুরো : ২৩ মে ২০১৫, শনিবার,
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ১০নং কালাদহ ইউনিয়নের বিদ্যানন্দ গ্রামের মৃত ফরহাদ আলীর পুত্র আ. কদ্দুস এর মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলের জন্য ‘মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের  সচিব‘ বরাবর আবেদন করেছে স্থানীয় মকবুল হোসেন। গত ১৭/০৫/২০১৫ইং দাখিলকৃত আবেদনের অনুলিপি দিয়েছেন জেলা প্রশাসক, ময়মনসিংহ; জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন, ময়মনসিংহ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ময়মনসিংহ; উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, ফুলবাড়ীয়া; ফুলবাড়ীয়া প্রেসক্লাব।
লিখিত অভিযোগে প্রকাশ, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আ. কদ্দুসের বয়স ছিল ৪/৫বছর। এ ব্যাপারে তার গ্রামের বাড়ী বিদ্যানন্দ গেলে পাওয়া যায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য।
আ. কদ্দুসের মা মৃত সালেহা খাতুনের প্রথম বিয়ে হয় কুশমাইল গ্রামে। সেখানে রুস্তম, জয়নাল, শামসুল, আ. ছালাম, আজগর নামের ৫ভাইয়ের জন্ম। যখন আজগর এর বয়স ৩/৪বছর তখন মৃত আমানী মিস্ত্রী সালেহা খাতুনকে তালাক দেন। পরবর্তীতে তার বিয়ে হয় বিদ্যানন্দ গ্রামে ফরহাদ আলী’র সংগে, সেখানে জন্ম হয় আ. কদ্দুস এর। কদ্দুসের সৎ ভাই জয়নাল আবেদীন জানান, আমি ২য় সন্তান যখন দেশে যুদ্ধ শুরম্ন হল তখন আমার বয়স ১৫/১৬বছর। পাঞ্জাবীদের ভয়ে থানার সামনে দিয়ে কেউ যাওয়ার সাহস পেত না। আমি মান্নান দারোগার বাড়ী (জোরবাড়ীয়া) ২টাকা বেতন দিনমজুরী (দৈনিক রোজ) কামলা দিতাম। আমি পোস্ট অফিসের সামনের রাসত্মা দিয়ে দারোগাবাড়ী যাওয়ার সময় পাঞ্জাবীদের একজন ডাক দিলে আমি হতবাক। গেলেই আমাকে ২টা বাড়ী (লাঠিপেটা) মাইরা কইল পানি আইনা দে। পরবর্তীতে আমার হাত কাটতে হয়েছে। আর রম্নসত্মমসহ আমরা ৫জন এক তরফের কদ্দুস অন্য তরফের। ৫ভাইয়ের মধ্যে আমার অবস’ান ২য়, আমার জন্ম যদি ১৯৫৩সালে হয়, তাহলে এরপর আরও ৩ ভাই এবং ৩/৪বছর পর আমার মায়ের ২য় বিয়ে হয়, সেখানে কদ্দুসের জন্ম। মু্‌ক্তিযোদ্ধের সময় কদ্দুসের বয়স ৪/৫বছর, সে কি করে মুক্তিযোদ্ধা হয় সেটি আমি বুঝি না (বোধগম্য নয়)।
তিনি দুঃখ করে আরও বলেন, রুস-ম আমার সহোদর বড় ভাই, আর কদ্দুস আমাদের সৎ ভাই। আমরা শুনেছি কদ্দুস না কি আগুনে পড়ে গিয়েছিল সেখানে না কি তার হাত পুড়েছে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু বকর সিদ্দিক জানান, ২০১১সালে গেজেটে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা থেকে যে ৩জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে অন-র্ভুক্ত হয় তার মধ্যে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মাস্টার আর ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আ. কদ্দুস আর রাজাকার আমজাদ মাস্টার। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় কিভাবে আ. কদ্দুস ও আমজাদ মাস্টারকে মুক্তিযোদ্ধা বানাল তা আমার বুঝে আসে না! এ ব্যাপারে আ. কদ্দুস বলেন, আমার বিরম্নদ্ধে আনীত অভিযোগ ঠিক না।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:২৮ অপরাহ্ণ | মে ২৩, ২০১৫