| রাত ১:৪৫ - রবিবার - ২০শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ২৫শে রবিউস সানি, ১৪৪৪ হিজরি

শুক্রবার থেকে খুলনা বিভাগে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট

 যশোর থেকে  সংবাদদাতা| ২১ মে ২০১৫, বৃহস্পতিবার,

ফরিদপুরে সোহাগ পরিবহণের চালক ও চেকারকে আটক করার ঘটনায় খুলনা বিভাগীয় পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের ডাকা ঘর্মঘটের তৃতীয় দিন অতিবাহিত হয়েছে বৃহস্পতিবার। নেতাদের দেয়া আল্টিমেটাম অনুযায়ী আগামীকাল শুক্রবার ভোর থেকে খুলনা বিভাগের দূরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ সকল রুটে ধর্মঘট শুরু হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিবহণ সংস্থা শ্রমিক সমিতির সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু বলেন, বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার মধ্যে আমাদের তিন দফা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসন এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় একই দাবিতে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার দূরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ সকল রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরণের যাত্রীবাহী পরিবহণ চলাচল বন্ধ থাকবে। সড়ক পরিবহণ মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের খুলনা বিভাগীয় কমিটির পক্ষ থেকে এই ধর্মঘট পালন করা হবে বলে জানান মিন্টু। তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে আটক চালক ও চেকারের মুক্তি ও তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার, পরিবহণ ডাকাতদের আটক ও ফরিদপুরের পুলিশ সুপার এবং মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার।
শ্রমিক নেতা মিন্টু আরও জানান, ‘খুলনা বিভাগের মালিক-শ্রমিকদের এ আন্দোলনে পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী বিভাগের বাস মালিক ও শ্রমিক নেতারা। তিন দফা দাবি আদায় দু’একদিনের মধ্যে তারাও আমাদের সাথে ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু করতে পারেন।’
উল্লেখ্য, সোমবার রাতে ঢাকা থেকে বেনাপোলের উদ্দেশে ছেড়ে আসা সোহাগ পরিবহণের একটি বাসে ডাকাতি সংঘঠিত হয়। শ্রমিক নেতারা দাবি করেন, ফরিদপুরের মধুখালী এলাকায় ডাকাতি হওয়ায় বাসের চালক মধুখালী থানায় অভিযোগ করতে যান। কিন্তু তার অভিযোগ না নিয়ে উল্টো পুলিশ তাকে আটক করে। এ ব্যাপারে খোঁজ নিতে গেলে সোহাগ পরিবহণের চেকারকেও আটক করে পুলিশ। এর প্রতিবাদে মধুখালীতে বাস শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ সেখানে লাঠিচার্জ করে। এরপর থেকেই পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা ঢাকার সাথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাস যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
এদিকে খুলনা বিভাগে পরিবহণ ধর্মঘটের কারণে গত তিন ধরে যাত্রীরা চরম দূর্ভোগে পড়েছে। ধর্মঘটের কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে কেবল রাজধানী ঢাকার যোগাযোগই নয়, খুলনা বিভাগের ১০ জেলা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়া-আসার যেসব রুট রয়েছে, সেগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:৫৮ অপরাহ্ণ | মে ২১, ২০১৫