| রাত ৯:১৩ - মঙ্গলবার - ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ পালমিরা নগরী আইএসের দখলে

অনলাইন ডেস্ক ,২১ মে ২০১৫, বৃহস্পতিবার:

সিরিয়ার প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম ধারক ও বাহক ২,০০০ বছরের পুরনো পালমিরা নগরী, যা তাদমুর নামেও পরিচিত। ইউনেস্কো পালমিরাকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে বহু আগেই। মধ্যপ্রাচ্যের সুপ্রাচীনকালের বহু প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন ও ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষের জন্য বিখ্যাত এ নগরী এর ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য বিশ্বের প্রতœতত্ত্ববিদদের কাছেও অতি অমূল্য। সেই পালমিরা নগরীও এবার দখল করে নিয়েছে কট্টরপন্থী সংগঠন ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দ্য লিভ্যান্ট (আইএসআইএল)। সিরীয় সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পালমিরার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আইএসআইএল বা সংক্ষেপে আইএস। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আইএসের জঙ্গিরা পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ ধ্বংস করে ফেলবে। বৃটেনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এ তথ্য দিয়েছে।  গতকাল পালমিরায় আইএসের অগ্রসর হওয়ার তথ্য দিয়েছিল মানবাধিকার সংগঠনটি। এরপর থেকেই সরকারি সেনারা সেখান থেকে পিছু হটতে শুরু করেন। এর আগে ইরাকে ধ্বংসযজ্ঞে মেতেছিল আইএস। সিরিয়াও তার বহু প্রাচীন ঐতিহ্য হারিয়েছে। এদিকে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, সহিংসতার মধ্যে শহর থেকে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওমর হামজা নামে এক মানবাধিকার কর্মী জানিয়েছেন, এরই মধ্যে আইএস ও সরকারি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি কামান ও ট্যাঙ্কের ভারি গোলাবর্ষণে ও বোমা হামলায় বিপর্যস্ত পালমিরা নগরী। শহরের পূর্বদিকে ভয়াবহ সংঘর্ষের কথা জানান তিনি। অধিকাংশ ঐতিহাসিক নিদর্শনের অবস্থান পালমিরা নগরীর দক্ষিণে। পালমিরার শত শত প্রাচীন মূর্তি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। কিন্তু, বড় পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন ও স্থাপনাসমূহ ভয়াবহ হুমকির সম্মুখীন। সিরিয়ায় প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন বিভাগের প্রধান মামুন আবদুল করিম বলেছেন, এ যুদ্ধ সমগ্র বিশ্বের। পালমিরা নগরীকে রক্ষায় তিনি মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট বাহিনীর হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছেন। এদিকে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা উদ্ভূত ভয়াবহ পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২:১৩ অপরাহ্ণ | মে ২১, ২০১৫