| রাত ৮:২০ - সোমবার - ২৮শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ৩রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

হোসেনপুরে পানের বরজে অগ্নিদগ্ধ হয়ে কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি,
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার উত্তর গোবিন্দপুর গ্রামের একটি পানের বরজে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছে সুজিতা (১৪) নামে এক কিশোরী। সোমবার সন্ধ্যায় অগ্নিদগ্ধ সুজিতাকে মারাত্মক আহত অবস’ায় কিশোরগঞ্জ জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে পথে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগুনে তার পুরো শরীরই পুড়ে গেছে। সুজিতা হোসেনপুরের বাঘারিচর গ্রামের এখলাস মিয়ার কন্যা।
সুজিতার বাবা এখলাস মিয়া জানান, তার প্রথম স্ত্রী পাঁচ বছর আগে মারা যান। গত দুই বছর আগে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেই ঘরে একমাস বয়সী একটি কন্যা রয়েছে। সোমবার বিকেলে তিনি শ্বশুর বাড়িতে (দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বাড়ি) বেড়াতে যান। সন্ধ্যার পর মুঠোফোনে এ খবর পেয়ে বাড়িতে গিয়ে জানতে পারেন, আগুনে পুড়ে গুরম্নতর আহত সুজিতাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েটি সন্ধ্যার দিকে কুপি নিয়ে বরজে পান তুলতে গিয়েছিল। সেখানে অসাবধানতাবশত কুপির আগুন পরনের কাপড়ে লেগে গেলে সে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়।
তবে স’ানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, মেয়েটির শরীরে অসাবধানতাবশত আগুন লেগে থাকলে পানের বরজ কিছুটা হলেও পুড়ত। সেখানে পানের বরজে আগুনের তেমন কোনো আলামত তারা দেখতে পায়নি। কাজেই পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে তারা একমত হতে পারেনি। এর পেছনে অন্যকোনো রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।
সুজিতার চাচি রম্ননা আক্তার দাবি করেন, সোমবার সন্ধ্যার পর ঘরের জানালা বন্ধ করার সময় পানের বরজের ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখতে পান। বরজে আগুন লেগেছে মনে করে লোকজনকে ডেকে বরজের ভেতরে গিয়ে দেখতে পান সুজিতা অগ্নিদগ্ধ অবস’ায় ছটফট করছে। তবে সুজিতা কিভাবে পানের বরজের ভেতরে গেলো কিংবা তার শরীরে কিভাবে আগুন লাগল তা তিনি বলতে পারেননি।
হোসেনপুর থানার ওসি (তদনত্ম) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, কিশোরীর মৃতদেহ ময়নাতদনেত্মর জন্যে কিশোরগঞ্জ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদনেত্মর প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৭:০০ অপরাহ্ণ | মে ০৫, ২০১৫