| সকাল ৮:৪৫ - বৃহস্পতিবার - ১৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ৩রা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

ময়মনসিংহে নকল ওষুধ বিক্রি হচ্ছিল দীর্ঘদিন যাবত, ফ্যাক্টরির মালিক গ্রেফতার

লোক লোকান্তরঃ  দীর্ঘদিন ধরে ময়মনসিংহ ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় নকল ওষুধ বিক্রি হচ্ছিল-এমন অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহের সদস্যরা সম্প্রতি ওই ময়মনসিংহে এক ব্যবসায়ীকে আটক করেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুজনকে পৃথক এলাকা থেকে আটক করে র‌্যাব-১৪।

 

আটকদের মধ্য থেকে একজনের তথ্যে র‌্যাব অবগত হন ওই সব নকল ওষুধ নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের রেক্সটন ল্যাবরেটোরিজ (ইউনানি) থেকে কেনা হয়।

 

বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নকল ওষুধ উদ্ধার এবং এর সঙ্গে জড়িতদের ধরতে র‌্যাব-১৩ এবং র‌্যাব ১৪-ময়মনসিংহ এর যৌথ একটি দল গতকাল বৃহস্পতিবার সৈয়দপুরে যৌথ অভিযান চালায়।

 

পরে বৃহস্পতিবার নীলফামারির সৈয়দপুরে একটি ইউনানি ওষুধ ফ্যাক্টরি থেকে বিপুল পরিমাণ খোলা ট্যাবলেট এবং ফ্যাক্টরি মালিকেরা বাসা থেকে নকল গ্যাস্ট্রিকের প্যান্টোনিক্স ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) শহরের নিয়ামতপুর বাস টার্মিনাল এলাকার মাহবুবা প্লাজার দ্বিতীয় তলায় মেসার্স রেক্সটন ল্যাবরোটোরিজ (ইউনানি) নামক ওই ফ্যাক্টরিতে অভিযান পরিচালনা করেন রংপুরের র‌্যাব- ১৩ ও ময়মনসিংহের র‌্যাব-১৪।

 

অভিযানে ফ্যাক্টরি মালিক আতিয়ার রহমানকে (৪৬) গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নকল ওষুধ তৈরি ও সংরক্ষণের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও একমাসের কারাদণ্ড দেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিতে নকল ওষুধ ধ্বংস করা হয়।

 

ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ উপ-অধিনায়ক মেজর আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান এবং র‌্যাব- ১৩ রংপুর এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে ওই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

প্রথমে রেক্সটন ল্যাবরেটোরিজের (ইউনানি) মালিক মো. আতিয়ার রহমানের সৈয়দপুর শহরের শহীদ তুলশীরাম সড়কের বহুতল ভবনের ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখান থেকে কয়েক লাখ টাকা মূল্যের চার কার্টন নকল প্যানটোনিক্স ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

 

পরে শহরের নিয়ামতপুর বাস টার্মিনাল এলাকার মাহমুদা প্লাজায় অবস্থিত রেক্সটন ল্যাবরোটরিজ (ইউনানি) ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালিয়ে দুইটি ড্রামে খোলা (লুস) অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ট্যাবলেট উদ্ধার করে র‌্যাব সদস্যরা।

 

এ সময় উদ্ধার হওয়া ওষুধের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় রেক্সটন ল্যাবরেটোরিজের (ইউনানি) মালিক মো. আতিয়ার রহমানকে (৪৬) আটক করা হয়। পরে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে নকল ওষুধ সংরক্ষণ এবং এর স্বপক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ফ্যাক্টরি মালিক আতিয়ার রহমানকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

 

ভ্রামমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার সরকার। এ সময় উদ্ধার হওয়া নকল ওষুধ ধ্বংস করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আতিয়ার রহমান তাৎক্ষণিক জরিমানার অর্থ পরিশোধ করলেও এক বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় তাকে নীলফামারী জেলহাজতে পাঠানো হয়।

 

র‌্যাব জানায়, ইদানিং নকল ওষুধে গ্রামাঞ্চলের হাট বাজারে সয়লাব হয়ে পড়ায় নকল ওষুধ তৈরি এবং বাজারজাত করা চক্রের সদস্যদের ধরতে সোর্স নিয়োগ করা হয়। পরে সাধারণ ভোক্তা, ফার্মেসি ব্যবসায়ী হয়ে মূল হোতাকে ধরতে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩:১০ অপরাহ্ণ | মে ০৮, ২০২০