| রাত ২:০৪ - শুক্রবার - ৩১শে মার্চ, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ - ১৭ই চৈত্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ৮ই রমজান, ১৪৪৪ হিজরি

৭০০ টাকা ভিজিট নিয়ে রোগীর জন্য বরাদ্দ ৭ মিনিটও না!

গড়ে ৭০০-১০০০ টাকা ভিজিট ফি দিয়ে সুদূর প্রায় রাঙ্গামাটি এলাকা থেকে ৩ ঘণ্টা করে সময় ব্যয় করে এবং ১০০০ টাকা সিএনজি ভাড়া খরচ করে ডা. এরশাদ উদ্দিন আহমদ ( সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগ)  কাছে দ্বিতীয়বারের মত নিয়ে গেছিলাম আম্মুকে দেখাতে।

 

কিন্তু উনি এতবড়ই মহান ডাক্তার যে তার কাছে রোগীর অসুস্থতার বর্ণনা রোগীর নিজের জবানীতেই দিতে হবে। রোগীর সাথে থাকা মানুষটাকে কিছুই বলতে দেয় না।

 

রোগী অসুস্থ বলেই তো আরেকজন মানুষ সাথে যায় রোগের উপসর্গ ও রোগীর অবস্থা বর্ণনা করতে। আর অসুস্থ মানুষটার হুশ-জ্ঞান-স্মৃতি তো স্বাভাবিক নাও থাকতে পারে। টানা দুইবারই উনি একই কাহিনী করেছে। অসুস্থতার ঘোরে আম্মু রোগের উপসর্গগুলো গুছিয়ে বলতে পারছেন না। কিন্তু আমি বলতে চাইলে ডাক্তার সাহেব আমাকেও বলতে দেন না। খুবই বিরক্তিকর এবং অসহ্য ছিল অ্যাপ্রোচটা।

 

৭০০ টাকা ভিজিট নিয়ে রোগীর জন্য ৭টা মিনিট পর্যন্ত ব্যয় করেন না এই ভদ্রলোক। বিরক্ত হয়ে অন্যান্য রোগীদের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম সবার সাথেই উনি নাকি একই কাজ করেন। আরো অবাক হই রিপোর্ট দেখাতে গিয়ে।

 

প্রায় সকল রোগী দেখা শেষ করে রিপোর্ট দেখাতে হয় উনাকে। তাও আবার সবাইকে একত্রে লাইন ধরিয়ে প্যারাসিটম্যাল দুইবেলা মার্কা রিপোর্ট দেখেই সবাইকে বের করে দিচ্ছেন।

 

আবার রোগী এক, সমস্যাও অনেকটা একই তবুও প্রতিবার হরেক রকম টেস্ট তো চলছেই। কি অদ্ভুত কারবার? অথচ এদেরকে আমরা “সেকেন্ড গড” বলেই মানি, বিশ্বাস করি। কারণ ওদের কাছে আমরা আসতে বাধ্য। এরা কি টাকার মেশিন ভেবেই পেশাটা বেছে নিয়েছে? নূন্যতম মানবিকতাবোধ কেন এদের কাছে নাই??

 

রাসেদ পারভেজ এর ফেইসবুক আইডি থেকে নেয়া

 

[প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রকাশিত মতামতের সঙ্গে লোক লোকান্তর -এর সম্পাদকীয় নীতিমালার মিল নাও থাকতে পারে।]

সর্বশেষ আপডেটঃ ১:৪৬ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৮