| সন্ধ্যা ৭:৪৬ - মঙ্গলবার - ২৩শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ১০ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - ১৩ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

ময়মনসিংহে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় শিক্ষককে মারধর, শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ

ত্রিশাল প্রতিনিধিঃ    ময়মনসিংহের ত্রিশালে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় পরীক্ষার হল থেকে বাড়ী ফেরার পথে উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের বিয়ারা পাটুলী রহমতুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল মুনসুর আহত হওয়ার ঘটনায় বুধবার ত্রিশাল-বালিপাড়া সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকাবাসী।

 

এ ঘটনায় ত্রিশাল-বালিপাড়া সড়কে প্রায় ২ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। দুপুরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউএনও, ভাইস চেয়ারম্যান ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার জে.এস.সি পরীক্ষা শুরুর পূর্বে বালিপাড়া ইউনিয়নের বিয়ারা পাটুলী রহমত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা হলে প্রবেশ করার সময় কয়েকজন ইভটিজার ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উত্তক্ত করে।

 

বিষয়টি বিয়ারা পাটুলী রহমত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল মুনসুরের নজরে আসলে তিনি ইভটিজারদের বিরক্ত করতে মানা করেন। পরে পরীক্ষা শেষে বাড়ী ফেরার পথে ত্রিশাল-বালিপাড়া সড়কে বীররামপুর কলোষ্টরের কাছে তাদের বহণকারী গাড়িটি পৌছলে গতিরোধ করে আবুল মুনসুরকে মারধর করে ইভটিজিাররা। পরে সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে ত্রিশাল হাসপাতালে ভর্তি করে।

 

এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিয়ারা পাটুলী রহমত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায় ৩ ঘন্টা ত্রিশাল-বালিপাড়া সড়কে গাছের গুড়ি ও বাশ দিয়ে অবরোধ করে রাখে। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি পয়েন্টে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করে প্রতিবাদ জানায়।

 

দুপুর ১টার দিকে ত্রিশাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজাফর রিপন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম মন্ডল ও ত্রিশাল থানা ওসি (তদন্ত) মোখলেছুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীদের শান্ত করেন।

 

তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ইভটিারদের গ্রেফতার, বালিপাড়ায় পরীক্ষা কেন্দ্র চালুর ব্যবস্থা করে দেয়ার ঘোষণা দিলে আন্দোলনকারীরা তাদের অবরোধ তুলে নেয়। এসময় বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আকরাম হোসেন কাঞ্চন, কমিটির সদস্য, আব্দুল কদ্দুছ, আঃ বাতেন রতন, মোখলেছুর রহমান মোল্লা, শিক্ষক প্রতিনিধি শাহিদুল আলম প্রমূখ।

 

ত্রিশাল থানার ওসি (তদন্ত) মোখলেছুর রহমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে, যান চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজাফর রিপন জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, ইতিমধ্যেই মামলা হয়েছে, দ্রুত হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে।

 

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন জানান, আমরা শিক্ষার্থীসহ সকলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্টু সমাধানের চেষ্ঠা করছি। আন্দোলনকারীদের দাবী অনুযায়ী দ্রুত কেন্দ্র স্থাপনের জন্য চেষ্ঠা করা হচ্ছে।

 

ছবিঃ লোক লোকান্তর

সর্বশেষ আপডেটঃ ৫:৩৮ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১৫, ২০১৭