| রাত ২:০৪ - শুক্রবার - ২৬শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - ১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

শেরপুরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংঘর্ষে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ২৫ জন আহত : নকলায় জাল ভোটের অভিযোগ

শেরপুর প্রতিনিধি:৩১ মার্চ ২০১৬, বৃহস্পতিবার,
আজ ৩১ মার্চ বৃহস্পতিবার শেরপুরের শ্রীবরদীতে সহিংস ঘটনার মধ্য দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ২৫ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে নকলা উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্বাচনে উচ্ছৃঙ্খল ঘটনার চেষ্টার অভিযোগে পুলিশ নকলার রাণীশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে কাজল (৫০) নামে একজনকে আটক করেছে। উরফা ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী রুস্তম আলী ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জন করেছেন।
শ্রীবরদীতে আহতদের মধ্যে দশজনকে জেলা সদর হাসপাতাল, শ্রীবরদী ও বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস’্য কমপেৱক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা স’ানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
প্রত্যৰদর্শী ও স’ানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার সকালে নির্বাচন শুর্বর কিছুৰণ পর শ্রীবরদী সদর ইউনিয়নের মরিচাপুরা হাইস্কুল কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই সাধারণ সদস্য প্রার্থী আসাদ মিয়া ও মাফিজল হকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে সাতজন আহত হন। আহতদের মধ্যে আজিজুল হককে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বেলা ১২টার দিকে কুড়িকাহনীয়া ইউনিয়নের কুরুয়া হাইস্কুল কেন্দ্রের সামনে সাধারণ সদস্য প্রার্থী সোহালুর সমর্থকরা প্রতিপৰ প্রার্থী রহমতের ফুটবল প্রতীক ভেঙ্গে ফেলে। এতে উভয় পৰের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে কুর্বয়া গ্রামের জান্নাত আলী (৪৮) ও জিবরাইল হোসেন (৫০) নামে দুইজন আহত হন। আহত জান্নাতকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বেলা দুইটার দিকে শ্রীবরদী সদরের নবীনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সাধারণ সদস্য প্রার্থী হাক্কির সমর্থকরা ব্যালট পেপারে সিল দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষ সদস্য প্রার্থী নান্ডা মিয়ার সমর্থকরা বাধা দেন। এ সময় উভয় পৰের সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে কফিল মিয়াকে (৪০) জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বেলা দুইটার দিকে কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের চিথলিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাধারণ সদস্য প্রার্থী শওকত ও শহীদ মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে কামারপাড়া গ্রামের রমজান আলীকে (৫২) জেলা সদর হাসপাতাল ও দীপু হাছানকে (২৬) বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেৱক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বেলা তিনটার দিকে কুরুয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেলের আঘাতে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামানসহ পাঁচজন আহত হন। অপরদিকে বেলা দুইটার দিকে সিংগাবর্বণা ইউনিয়নের বকুলিকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে দুইজন আহত হন।
এদিকে নকলা উপজেলার উরফা ইউনিয়নের তারাকান্দা ও উরফা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নির্বাচন চলাকালে জাল ভোট প্রদানের অভিযোগ করেছেন চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী নূরে আলম তালুকদার। তিনি বলেন, এ দুটি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল হকের সমর্থকেরা জাল ভোট প্রদান করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে ওই দুটি কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোর ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। তবে নকলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুল কালাম আজাদ কোন কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৮:১৮ অপরাহ্ণ | মার্চ ৩১, ২০১৬