| বিকাল ৩:৫২ - সোমবার - ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ - ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ - ১৯শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

শেরপুরের নকলায় নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙ্গচুর ও সংঘর্ষ: আহত-১৫

 

শেরপুর প্রতিনিধি:৩০ মার্চ ২০১৬, বুধবার,
শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলায় তিনটি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙ্গচুর করা হয়েছে। এ সময় আ. লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. কামরুজ্জামানসহ উভয় পৰের ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে আ. লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাজু সাইদ সিদ্দিকীর সমর্থক মো. শাহিন মিয়া (২৮) ও ইয়াদ আলীকে (৬০) নকলা উপজেলা স্বাস’্য কমপেৱক্সে ভর্তি করা হয়েছে। কামরুজ্জামানসহ অন্যরা স’ানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। গত ২৯ মার্চ মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে নকলা উপজেলার জানকিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আজ ৩০ মার্চ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে চন্দ্রকোনা ইউনিয়নে গিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী, এলাকাবাসী ও প্রত্যৰদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হওয়ার আগ মুহুর্তে আ. লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. কামর্বজ্জামান তাঁর কয়েকজন সমর্থকসহ তিনটি মোটর সাইকেল নিয়ে প্রচারণার কাজে বালিয়াদী গ্রামে যান। এ সময় আ. লীগের প্রার্থী সাজু সাইদ সিদ্দিকী ও তাঁর সমর্থকরা ১০-১৫টি মোটর সাইকেল নিয়ে সেখানে এসে কামর্বজ্জামানকে বাধা দেন। এক পর্যায়ে তাঁরা কামর্বজ্জামানকে মোটর সাইকেল থেকে টেনে নামিয়ে আনেন এবং কিল ও ঘুষি মারেন। এ সময় তাঁরা কামর্বজ্জামানের সহযোগী রাশেদসহ আরও পাঁচজনকে মারপিট করেন।
কামর্বজ্জামানকে মারধরের সংবাদ দ্র্বত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তাঁর সমর্থকরা সংঘবদ্ধ হয়ে উপজেলার জানকিপুর ও বালিয়াদি গ্রামে ছুটে আসেন। এ সময় সাজু সাইদ সিদ্দিকীর সমর্থকদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পৰে ১৫ জন আহত হন। এ সময় আ. লীগ প্রার্থী সাজু সাইদের দুটি ও বিদ্রোহী প্রার্থী কামর্বজ্জামানের একটি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙ্গচুর করা হয়। এ ছাড়া সাজুর সমর্থক জানকিপুর গ্রামের কালু মিয়ার একটি ঘরও ভাঙ্গচুর করা হয়।
সংবাদ পেয়ে চন্দ্রকোনা তদন্ত কেন্দ্র ও নকলা থানা পুলিশ ঘটনাস’লে এসে উভয়পৰকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং পরিসি’তি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
বিদ্রোহী প্রার্থী কামরুজ্জামানের বড় ভাই চন্দ্রকোনা কলেজের অধ্যৰ মো. রফিকুল ইসলাম আজ বুধবার বিকেলে বলেন, পরাজয় নিশ্চিত জেনে আ. লীগ প্রার্থী সাজু সাইদ সহিংসতার আশ্রয় নিচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে তাঁর (সাজু সাইদ) নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা তাঁর ভাই কামর্বজ্জামানকে মারধর ও তাঁদের একটি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙ্গচুর করেছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে আ. লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থী সাজু সাইদ সিদ্দিকী বলেন, কামর্বজ্জামানকে মারধরের প্রশ্নই ওঠে না। বরং কামর্বজ্জামানের সমর্থকরা তাঁর (সাজু) কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা ও নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙ্গচুর করেছে। এছাড়া কামর্বজ্জামান তাঁর উচ্চ পদস’ সরকারি কর্মকর্তা ভাইদের নাম বলে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা করছেন। বিষয়টি তিনি থানা পুলিশকে অবহিত করেছেন।
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম হায়দার বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস’লে গিয়ে পরিসি’তি নিয়ন্ত্রণ করেছে। তবে এ ব্যাপারে কোনো পৰ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়নি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৭:০০ অপরাহ্ণ | মার্চ ৩০, ২০১৬