| সকাল ৬:১৮ - বৃহস্পতিবার - ১৮ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - ১১ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

গৌরীপুরে স্কুল ছাত্র খুন ঃ ঘাতক গ্রেফতার অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন,

 

সাজ্জাদুলইসলাম সাজ্জাত, ২৯ মার্চ ২০১৬, মঙ্গলবার,
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় রবিকুল ইসলাম (১০) নামে এক স্কুল ছাত্র খুন হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে অচিন্তপুর ইউনিয়নের শাহগঞ্জ বাজার থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার সময় গাগলা নামক স’ানে দুবুর্ত্তের হাতে খুন হয় সে। নিহত স্কুল ছাত্র নাজিরপুর গ্রামের আবদুস সাত্তার উসমানের ছেলে ও শাহগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।
এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার নিহত স্কুল ছাত্রের সহপাঠিরা অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দিলে বাড়ির সিলিং থেকে পালাতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়ে ঘাতক শাহ আলম। শিশু হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার দিনভর শাহগঞ্জ বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নাজিরপুর গ্রামের কৃষক উসমান গণি ওরফে সাত্তারের একমাত্র ছেলে রবিকুল ইসলাম শাহগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ালেখা করতো। সোমবার বিকেলে রবিকুল ইসলামকে প্রতিবেশী আবদুল হেলিমের ছেলে শাহ আলম (২০) নির্বাচনের পোস্টার লাগানোর জন্য বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। আগামী ৩১ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলৰে সংরৰিত ১ (১,২,৩) নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী সুরাইয়া সুলতানার পৰে পোস্টার লাগানোর জন্য ১শ টাকা দেওয়ার কথা বলে রবিকুলকে শাহ আলম ডেকে নিয়ে যায়। কিন’ সন্ধ্যা হয়ে গেলেও রবিকুল বাড়ি ফেরেনি। ওই অবস’ায় রাত সাড়ে ৮ টার দিকে শাহ আলম প্রতিবেশী রবিকুলের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের লোকজনের কাছে রবিকুল ফিরেছে কি না তা জানতে চায়। কিন’ রবিকুল না ফেরায় চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু হলে খবর আসে ঘাগলা মোড়ে আবদুলৱাহর বাড়ির পাশ থেকে ৰতবিৰত অবস’ায় রবিকুলকে স’ানীয়রা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রবিকুলের মা রোমেলা খাতুন বলেন প্রতিবেশী শাহ আলম প্রতিদিন ১শ’ টাকা দেবে বলে আমার ছেলেকে পোস্টার লাগানোর জন্য নিয়ে যায়। গত ৩/৪ দিন থেকে সে এ কাজে যাচ্ছিল। তবে একদিনও আমার ছেলে কোনো টাকা-পয়সা পায়নি। গত সোমবারও তালগাছ প্রতীকের পোস্টার লাগানোর কথা বলে রবিকুলকে নিয়া যায়। মজুরীর টাকা না দিতেই পরিকল্পিতভাবে শাহ আলম ও তার সহযোগীরা তাকে হত্যা করেছে।
এদিকে সোমবার রাতে রবিকুলকে হত্যার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নৌকা সমর্থকরা নিজেদের কর্মী দাবি করে শাহগঞ্জ বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এসময় বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জায়েদুর রহমানসহ ২৮ জন কর্মী সমর্থক তার নির্বাচনী অফিসে অবর্বদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে রাতে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে গৌরীপুর থানায় নিয়ে আসেন। মঙ্গলবার সকালে রবিকুলে মা তাদের বির্বদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকার কথা জানালে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়। এদিকে রবিকুল হত্যার ঘটনায় শাহ আলমসহ অজ্ঞাতদের আসামী করে মা রোমেলা খাতুন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। শিশু রবিকুলের সহপাঠি ও গ্রাম বাসী শাহ আলমের বাড়িতে আগুন দিলে ঘরের সিলিং থেকে দা’ হাতে নেমে আসে ঘাতক শাহ আলম। ওই সময় সে পালানোর চেষ্টা করলে স’ানীয়রা শাহ আলমকে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।
অজ্ঞান বাবা, মায়ের আহাজারি : সোমবার নিহত রবিকুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় হাজারো মানুষের ভীড়। একদিকে আগুনে পুড়ছে ঘাতক শাহ আলমের বাড়ি অন্য দিকে রবিকুলের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। পরিবার ও স্বজনদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। সন্তান হারিয়ে অজ্ঞান অবস’ায় পড়ে রয়েছেন বাবা সাত্তার। আহাজারি করতে করতে মা র্বমেলা বেগম বলেন, শাহ আলমের সাথে তার ছেলে কোনো শত্র্বতা ছিলো না। সোমবার বিকেলে তার ছেলেকে পোস্টার লাগানোর জন্য ডেকে নিয়ে যায়। পরে রাতে বাড়িতে এসে রবিকুলে ফিরেছে কি না জানতে চায় শাহ আলম। তখনই তাদের সন্দেহ হয়। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার ছেলের কি অপরাধ ছিলো। মাসহ উপসি’ত সবাই ঘাতক শাহ আলমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
পুলিশ ও বিজিবির টহল : মানববন্ধন ও বিৰোভ চলাকালে শাহগঞ্জ বাজারে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিজিবি টহল দিতে দেখা গেছে।
শাহগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুলৱাহ বলেন, শিশু রবিকুলের কি দোষ ছিলো। তাকে কেন নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। রবিকুলের হত্যাকারীদের অবিলম্বে ফাঁসির দাবি জানান তিনি।
গৌরীপুর থানার ওসি মো. আখতার মোর্শেদ বলেন, শিশু রবিকুলকে হত্যার ঘটনায় শাহ আলমকে অভিযুক্ত করে নিহতের মা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই ঘটনায় মঙ্গলবার অভিযুক্ত শাহ আলমকে দা’সহ আটক করা হয়। সে শিশুটিকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। পূর্ব শত্র্বতার জের ধরে এবং একটি মহলের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে শাহ আলম শিশুটিকে হত্যা করে। তবে শাহ আলমকে কারা অর্থনৈতিক সুবিধা দিতো সে বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে কিছু বলতে রাজি হননি ওসি।##

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০:০৯ অপরাহ্ণ | মার্চ ২৯, ২০১৬