| রাত ৮:৫৭ - মঙ্গলবার - ২৮শে নভেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ - ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ - ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

বাংলাদেশ ও ভারতের সহযোগিতার পরবর্তী ক্ষেত্র হবে আন্তঃসংযোগ সম্প্রসারণ : শেখ হাসিনা

 ঢাকা, ২৩ মার্চ, ২০১৬ (বাসস) : বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎ ও ব্যান্ডউইথ বিনিময়কে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আন্তঃযোগাযোগ হচ্ছে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ‘নতুন দিগন্ত’।
তিনি বলেন, আমাদের সহযোগিতার পরবর্তী ক্ষেত্র হবে আন্ত:সংযোগের সম্প্রসারন।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও ব্যান্ডউইথ (ইন্টারনেট) বিনিময় আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের জন্য একটি ‘চমৎকার নিদর্শন’ আজ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সুখের দিন।
বহুল প্রতীক্ষিত ব্যান্ডউইথ রফতানি এবং ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি কার্যক্রম উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ব্যান্ডউইথ রফতানি ও বিদ্যুৎ আমদানি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
শেখ হাসিনা ঢাকায় তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে বাটন ক্লিক করে ১০ জিবিপিএস (ইন্টারনেট) ব্যান্ডউইথ রফতানীকরন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নয়াদিল্লীতে তার অফিস থেকে বাটন ক্লিক করে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী গণভবন থেকে বক্তব্য রাখেন এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ নয়াদিল্লীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বক্তব্য রাখেন।
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার আগরতলা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন।
শেখ হাসিনা ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ রফতানি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরেকটি মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এই অঞ্চলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন উচ্চমানে পৌঁছেছে…।
আমি নিশ্চিত আমাদের জনগণের বৃহৎ কল্যাণ সাধনের মাধ্যমে এ ধরনের আরো অনেক আনন্দঘন মুহূর্ত অপেক্ষা করছে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ আমদানি আমাদের জ্বালানি চাহিদা পূরণে সাহায্য করবে। আর বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ পেয়ে ত্রিপুরা এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর মধ্যে ডিজিটাল সংযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং সেখানকার জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও বন্ধন সুদৃঢ় করবে।
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, আঞ্চলিক সংযোগ এ অঞ্চলে ব্যাপক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।
তিনি বলেন, সড়ক-রেল নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ গ্রীড ও বিদ্যুৎ আমদানি-রফতানিতে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য বিবিআইএন ফ্রেমওয়ার্কে আমরা সম্মত হয়েছি। এর আওতায় যৌথ উন্নয়ন ও বিনিয়োগের জন্য আমরা নেপাল ও ভুটানে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ পাওয়ার মধ্য দিয়ে আরেকটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার পূরণ হল।
তিনি বলেন, ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে আমার ত্রিপুরা সফরের সময় এর সূত্রপাত হয়েছিল। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীসহ আজকে আমরা সবাই অত্যন্ত আনন্দিত।
এটি বাস্তবায়নের জন্য শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে আমাদের দু’দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে সহযোগিতার এক চমৎকার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছি। আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির জন্য সাবস্টেশন স্থাপনের কাজ চলছে। ভারত এবং বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে রামপালে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে।
তিনি বলেন, ব্যান্ডউইথ ভাগাভাগি, উপকূলীয় জাহাজ চলাচল, পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহের মতো নতুন নতুন যোগাযোগ স্থাপন দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
তিনি বলেন, ‘ভারত থেকে ডিজেলের প্রথম চালান ট্রেনে করে পার্বতীপুর পৌঁছেছে। আমাদের একটি উপকূলীয় জাহাজ প্রথমবারের মত ভারতীয় বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। গত কয়েকদিনের ব্যবধানেই এগুলো সম্পন্ন হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতার শুরুতেই স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সরকার ও জনগণের ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করে গভীর কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় দুই দেশের মধ্যে স্থাপিত বন্ধুত্ব সময়ের পরিক্রমায় আরো জোরদার হয়েছে।
এ অঞ্চলে ‘দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ’ প্রতিষ্ঠায় দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের প্রতি গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি বিশ্বাস করি যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে দুই দেশের দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন ঘটাতে পারবো।
তিনি ভারতের জনগণ এবং সরকারকে হোলি উৎসবের শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিকসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রীংলা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০:২০ অপরাহ্ণ | মার্চ ২৩, ২০১৬