| দুপুর ১২:৪৬ - সোমবার - ১০ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - ৩রা জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

জ্বালানি খরচ ছাড়াই হাই স্প্রীডের ই-বাইক আবিষ্কার করলো নেত্রকোণার এক তরুন

নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ  কোন প্রকার জ্বালানি খরচ ছাড়াই উন্নত মানের মান সম্পন্ন হাই স্প্রীডের ই-বাইক আবিষ্কার করেছে এক তরুণ ইঞ্জিনিয়ার মো: আতিকুর রহমান শরীফ।
মো: আতিকুর রহমান শরীফ নেত্রকোণা পৌরসভাধীন কাজী রোড এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে। ছোট বেলা থেকেই নতুন কিছু আবিষ্কার করার ইচ্ছা ছিল তার। সেই ইচ্ছাকেই পূরণ করতে ইলেক্ট্রিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়াশুনা সদ্য সমাপ্ত করে আবিষ্কারের কাজে মনোনিবেশ করে এবং জ্বালানি বিহীন ই-বাইক আবিষ্কার করে। তার আবিষ্কৃত ই-বাইকটি কোন প্রকার কার্বন ডাইক্সাইড ছাড়ায় না ও শব্দ উৎপন্ন করে না। তাই পরিবেশ বান্ধব, বায়ু ও শব্দ দূষণ মুক্ত এই বাইক। এই বাইকটি যে কোন ১৫০ সি.সি মোটরবাইকের সাথে তুলনা করে চালানো সম্ভব। জ্বালানি হিসেবে সোলার প্যানেলের সাহায্যে সূর্যের আলো থেকে আলোক শক্তির মাধ্যমে চার্জ করা হয়। একবার চার্জ করে ১২০-১২৫ কি.মি. চালানো যায়। ই-বাইকটি ঘণ্টায় ৮৫-৯০ কি.মি. গতিতে চলে। সোলার প্যানেলগুলো ই-বাইকের সাথে বহন করা যায়। এছাড়া বিকল্প হিসেবে ইলেক্ট্রিসির মাধ্যমে চার্জ করা যায়। একবার চার্জ করতে দুই ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়, আবাসিক হিসেবে খরচ হয় ১০ টাকা।  এই ১০ টাকা দিয়ে ১২০-১২৫ কি.মি. চালানো সম্ভব। ই-বাইকটি উৎপাদন খরচ প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকা।

মো: আতিকুর রহমান শরীফ জানায়, বাণিজ্যিক ভাবে ই-বাইকটি তৈরি করলে সাধারণ মানুষ অল্প খরচে উন্নতমানের বাইক চালাতে পারবে এবং দেশ তেলের ভোর্তুকি থেকে রক্ষা পাবে ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে।
ই- বাইকটির বিস্তারিত বর্ণনায় জানা যায়-  কেটাগরী ঃ – সোলার এবং ইলেকট্রিসিটি রিচার্জিবল সিস্টেম।, টাইপ ঃ জিপসি টাইপ টু হুইলস্ ই-বাইক।, মটর ঃ উঈ-৬০ঠ ভোল্ট, ১২০০ড ওয়াট, ২০ অঐ এ্যাম্পিয়ার, ৩২০০ ৎঢ়স মেগনেট টাইপ স্প্রীড কন্ট্রোলার মটর। মটর এর ইনষ্টেন পাওয়ার যে কোন মোটর ইঞ্জিন থেকে বেশি।, ব্যাটারী ঃ ড্রাইসেল হাই কোয়ালিটির ১২ঠ ভোল্ট, ৯৫ অঐ এ্যাম্পিয়ার, ৫টি ব্যাটারী।, টপ স্প্রীড ঃ ৮৫-৯০ কগ/ঐ ।, মাইলেজ ঃ ১২০-১২৫ কগ/ঈযধৎমব।, ক্লাস ঃ ইলেকট্রনিক্স টরক ভেরিয়েবল সার্কিট কন্ট্রোলিং সিস্টেম ক্লাস। যার দ্বারা উন্নত মানের ক্লাস কন্ট্রোলিং পাওয়া যায়।, গিয়ার ঃ- সাধারণ মোটরসাইকেলের মত ৫ গিয়ার সিস্টেম। এটি মটরের গতিকে ৫টি ধাপে রেজিট্যান্সের মাধ্যমে কন্ট্রোলিং করে থাকে। ১ম গিয়ার ২০কগ/ঐ, ২য় গিয়ার ৩৫কগ/ঐ,  ৩য় গিয়ার ৫০কগ/ঐ, ৪র্থ গিয়ার ৬৫কগ/ঐ, টপ গিয়ার ৮৫+কগ/ঐ।, চার্জিং সিস্টেম ঃ সোলার এবং ইলেকট্রিসির মাধ্যমে চার্জ করা যায়। ৫টি ১২ঠ ভোল্ট ৬০ড ওয়াট এর প্যানেল এর মাধ্যমে চার্জ করা হয়। প্যানেলগুলো বিশেষ ধরণের পাতলা এবং ছোট। ৫টি প্যানেল একত্রে ই-বাইকের সাইড বক্সে বহন করা যায়। এছাড়া ইলেকট্রিসির মাধ্যমে ৬ ঘণ্টায় ফুলচার্জ করা যায়।, ব্রেক কন্ট্রোল সিস্টেম ঃ সাননের চাকা হাইড্রোলিক এবং পিছনের চাকা ড্রাম সিস্টেম। যার দরুণ বাইকের কন্ট্রোলিং চমৎকার। সাসপেনশন ঃ সামনের চাকার টেলিশকোপিক সক অবজারভার এবং পিছনের নাইট্রক্স গ্যাসের সক অবজারভার। উন্নতমানের এবং আরম দায়ক ভ্রমণ করা যায়। মিটারঃ মাই মিটার, চার্জের পরিমাণ এবং ডিজিটাল এ্যাম্পিয়ার মিটার যা অটো রেট কন্ট্রোলিং সিগন্যাল সহ তৈরী করা হয়েছে যা দেখতে অনেক আকর্ষনীয়।, হেড লাইট ঃ পাওয়ার সেভিং খঊউ হেড লাইট, ২টি ফ্রক এবং ১টি মেইন হেড লাইট।, ব্রেক লাইট ঃ চেইঞ্জবল খঊউ ডেকোরেশন ব্রেক লাইট। লুকিং ঃ স্মার্ট এবং গর্জিয়াস।
সর্বোপরি উক্ত ই-বাইকটি সকলের জন্য ব্যবহার উপযোগী ও সাশ্রয়ী। সরকার বা অন্য কোন উদ্যোগী প্রতিষ্ঠান যদি বাণিজ্যিক ভাবে প্রসার করে তাহলে দেশ ও দেশের মানুষের উপকার সাধিত হবে এবং পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২:২০ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৬