| বিকাল ৩:৩৫ - রবিবার - ২৩শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - ১৬ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

১৯ বছর পর আজ কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন

সিম্মী আহাম্মেদ, কিশোরগঞ্জঃ   দীর্ঘ ১৯ বছর পর আগামীকাল শুক্রবার বিকালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনকে ঘিরে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চাঙ্গা ভাব এবং ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। যে আওয়ামী লীগ কার্যালয় এতোদিন ছিল প্রায় নেতা-কর্মী শূন্য- সেই কার্যালয় এখন নেতা-কর্মীদের আনাগোণায় সবসময় সরগরম থাকে। বিভিন্ন পদ পেতে ইচ্ছুক প্রার্থীরা এখন কেন্দ্রীয় এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে লবিংয়ে ব্যস্ত। সকলের সহযোগিতা লাভে তারা এখন মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কিশোরগঞ্জ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জেলা হওয়ায় সকলের নজর এখন জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিকে। কে কে হচ্ছেন পরবর্তী জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক – এই নিয়েই চলছে সারাক্ষণ নানা জল্পনা-কল্পনা। নতুন কমিটিতে কী এবার নতুনরাই প্রাধান্য পাবেন, নাকি নতুন-পুরাতন মিলিয়ে কমিটিতে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে- এ নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে চলছে সারাক্ষণ আলাপ-আলোচনা। তবে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটাভুটির মাধ্যমে কমিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নেই বলে দলীয়সূত্রে জানা গেছে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতাদের ঘোষিত কমিটিই মেনে নিতে হবে বলে নির্ভরযোগ্যসূত্রে জানা গেছে।
জেলা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বিগত বছরগুলোতে ভারপ্রাপ্তদের দিয়েই চালানো হচ্ছিল। জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। সে সময় বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সভাপতি ও এ কে শামসুল হক গোলাপ মিয়া সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। মো. আবদুল হামিদ স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর সিনিয়র সহ-সভাপতি সৈয়দ ওয়াহিদুল ইসলাম পুট্টু মিয়া ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গত ১ ডিসেম্বর মারা যাবার পর বর্তমানে অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহান ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সাধারণ সম্পাদক এ কে এম শামসুল হক গোলাপ মিয়া এমপি ১৯৯৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করার পর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন ঠাকুর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। শাহাবুদ্দিন ঠাকুর ২০০৭ সালের ১৪ অক্টোবর মারা যাবার পর থেকে অপর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ আফজল ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাছাড়াও ইতিমধ্যে সহ-সভাপতি অ্যডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন ও ফয়সাল আলমসহ কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য মৃত্যুবরণ করেন।
এবার জেলা কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ কে কে পেতে পারেন – এ নিয়ে কৌতুহলের অন্ত নেই। এই দুটি পদে সম্ভাব্যদের মধ্যে নবীন-প্রবীণ অনেকের নামই আলোচিত হচ্ছে। এর মধ্যে সভাপতি পদে প্রবীণ নেতাদের নামই আলোচিত হচ্ছে বেশি। তাদের মধ্যে রয়েছেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ আফজল প্রমুখ। এছাড়া বিসিবি সভাপতি প্রয়াত প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমানের পুত্র কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপন ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি পিপি শাহ আজিজুল হকের নামও সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক এমপি ও অ্যাডভোকেট সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটুর বাইরে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শরীফ আহমদ সাদী, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র মাহমুদ পারভেজ, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম বকুলের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক প্রচার-প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছেন। প্রায় প্রতিটি উপজেলায় গিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের সাথে এ ব্যাপারে মতবিনিময় ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। এ ক্ষেত্রে তার পক্ষে বেশ ইতিবাচক সাড়াও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকেও তৌফিকের পক্ষে ব্যানার-পোস্টার এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারণা চোখে পড়ছে। এ জন্যে তার সমর্থকরা কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটাভুটির মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচনের পক্ষে কথা বলছেন। রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিকও কাউন্সিলরদের ভোটাভুটির মাধ্যমে নেতা নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছেন। যদিও কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটাভুটির মাধ্যমে কমিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি সেভাবে নেই। তবে উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাজাহান। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত কয়েকটি জেলার সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোটাভুটি ছাড়াই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণার মাধ্যমে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানেও উন্মুক্ত সমাবেশে কেবল সভাপতি-সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। এরপরও তারা জেলার ১৩টি উপজেলা থেকে প্রায় সাড়ে তিনশ’ কাউন্সিলর ও ডেলিগেট নির্বাচন করে রেখেছেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করবেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ। এছাড়া কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেন, ড. আব্দুর রাজ্জাক, মির্জা আজম, অসীম কুমার উকিল, মশিউর রহমান হুমায়ুন প্রমুখ উপস্থিত থাকবেন বলেও তিনি জানান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:২৪ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৬