| দুপুর ১:৪৮ - রবিবার - ২৩শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - ১৬ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

ব্রহ্মপুত্র নদে চলছে ইরি-বোরো চাষ নাব্যতা হারিয়ে এখন মরা খাল

সাজ্জাতুল ইসলাম সাজ্জাত,৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ঃ
এক সময়ের খরস্রোতা ব্রহ্মপুত্র নদ এখন নাব্যতা হারিয়ে মরাখালে খালে পরিণত হয়েছে। এখন শুষ্ক মৌসুম, নদের বুকে জেগে উঠছে চরের পর চর। সেখানে চলছে স্থানীয় কৃষকদের ইরি-বোরো ধান চাষের প্রতিযোগীতা। নদের বুকে জেগে ওঠা চরে হালচাষ ছাড়াই কৃষকরা বোরো ধান,পিয়াজ, মিষ্টি আলু সহ বিভিন্ন প্রকার শবজ্বির রোপন করছেন। সেখানে অতিরিক্ত পলি জমে থাকার কারণে সেচ ও সার ছাড়াই অধিক ফসল উৎপাদিত হচ্ছে। নদটি দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় পলিমাটি জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে বসবাসকারী গৌরীপুর উপজেলার ২৮টি গ্রাম বন্যার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন পুর্বেও ব্রহ্মপুত্র নদ ছিল প্রমত্তা ও খরস্রোতা। নদের বুক দিয়ে চলাচল করত যাত্রীবাহী লঞ্চ, মালবাহী ট্রলার, কার্গো। বর্তমানে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের ভিতর দিয়ে প্রবাহমান ব্রহ্মপুত্র নদটি নাব্যতা হারিয়েছে মরাখালে পরিণত হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে মাল ও যাত্রীবাহি লঞ্চ, ট্রলার, কার্গো ও নৌকা চলাচল। অধিকাংশ লোকজনই পায়ে হেঁটে ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিচ্ছে। চরভাংনামারী, বারুয়ামারী, পুর্ববারুয়ামারী, দূর্বার চর সহ বিভিন্ন স্থানের লোকজন এবার ব্রহ্মপুত্র নদে ইরি-বোরো চাষের প্রতিযোগীতায় নেমেছেন। নদে চর জেগে উঠায় বন্ধ হয়ে গেছে দুই শতাধিক পরিবারের মাছধরা ও নৌকা চালিয়ে জীর্বিকা নির্বাহের একমাত্র পথ। বিশাল নদটিতে চর জেগে পরিণত হয়ে ছোট্ট একটি খালে। নদী পারাপারে নৌকার মাঝি আরশেদ আলী (৪৬) জানান, শুকনো নদী, পায়ে হেটেই মানুষ নদী পাড়ি দেয়। নৌকায় পারাপারের যাত্রী নেই। ইঞ্জিন চালিত প্রায় সব যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তাই খুবই কষ্টে দিনযাপন করছি। কৃষক লতিফ মিয়া বলেন, আমাকে এই ব্রক্ষপুত্র নদের ভিতর ৮০শতাংশ জমির খাজনা দিতে হচ্ছে। যা দীর্ঘদিন আগে নদী ভাঙ্গনে চলে গেছে। আমি এখন চর জেগে ওঠা নদের বুকে সামন্য বোরো আবাদ করছি।
গ্রীষ্ম মৌসুমে শুকিয়ে জেগে উঠছে চর। আর বর্ষা মৌসুমে এই ব্রহ্মপুত্র নদের গভীরতা হ্রাস পাওয়ায় সামান্য পানিতেই ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হচ্ছে। কৃষক মোসলেম উদ্দিন জানান, চরাঞ্চলের মানুষকে বাঁচাতে হলে আগে ব্রহ্মপুত্রকে বাঁচাতে হবে। স্কুল শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নদীর উপরও পড়ছে। তাই গ্রীষ্ম মৌসুমে শুকিয়ে যাচ্ছে আর বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও নদী ভাংগনের সৃষ্টি হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদ খনন করা না হলে গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়ন ও পাশ্ববর্তী ইউনিয়নের ২৮টি গ্রাম বর্ষা মৌসুমে বন্যায় কবলিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র নদ শুকিয়ে যাওয়ায় এসব গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন হচ্ছে। বেড়ে যাচ্ছে তাপমাত্রা। অধিকাংশ মানুষই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ব্রহ্মপুত্র নদে পানি না থাকায় গাছপালা ও কৃষি উৎপাদনের প্রভাব পড়ছে। উপজেলার সবজি আবাদের ভান্ডারখ্যাত ভাংনামারীতে কমে যাচ্ছে উৎপাদন। কৃষক আব্দুস সালাম জানান, সিম গাছের লতাপাতা ব্যাপক বাড়লেও সীম ধরছে না। টমেটো, মরিচ, বেগুন, ডাটা, আলু ক্ষেতেও আশানুরূপ উৎপাদন হচ্ছে না।  ব্রহ্মপুত্র নদের সংস্কার না হলে বর্ষা মৌসুমে ভাংগনের চরম হুমকির শিকার হবে উপজেলার ২৮টি গ্রাম। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বেকার হয়ে যাবে নদীর দু’কুলের প্রায় দুই হাজার পরিবার।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৮:১৩ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০১৬