| রাত ১১:৫৮ - বুধবার - ১২ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - ৫ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

দৈনিক লোক লোকান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর… তাড়াইলে ভূমিহীনদের মাঝে ঘর বরাদ্দের কার্যক্রম শুরু

আমিনুল ইসলাম বাবুল,৫ জানুয়ারি ২০১৬ঃ 
অবশেষে দীর্ঘ তিন বছর পর তাড়াইল উপজেলার জাওয়ার ইউনিয়নের বোরগাঁও গ্রামে নির্মিত নিহারিকা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভূমিহীনদের মাঝে বরাদ্দের কাজ শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে গত ৪ জানুয়ারি দৈনিক লোকলোকান্তরে “তাড়াইলে নিহারিকা আশ্রয়ণ প্রকল্পের নির্মাণের তিন বছর পরও ঘর বুঝে পায়নি ভূমিহীনরা বরাদ্দের আগেই স্বচ্ছলদেদেখলে” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়। পরে রোববার   সকালে প্রকৃত ভূমিহীন মানুষের মাঝে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কক্ষ বরাদ্দ দেয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিবের নির্দেশে একই কার্যালয়ের যুগ্ম সচিব ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. নুরুন্নবী, প্রকল্প প্রকৌশলী মো.এজাজ মোর্শেদ চৌধুরী ও মনিটরিং কর্মকর্তা মো. আরিফুল হকের সমন্বয়ে তিন সদস্যের  একটি প্রতিনিধি দল উপজেলা বোরগাও নিহারিকা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এ প্রতিনিধি দল ওই দিন প্রকল্প এলাকা অবস্থান নিয়ে যাচাই-বাচাই করে নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্পের সুবিধাভোগী ভুমিহীন ও গৃহহীন মানুষের তালিকা তৈরি করেছেন। এ সময় কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক  (রাজস্ব) কাজী আবেদ হোসেন, আরডিসি ভিভিষণ কান্তি দাস, তাড়াইল উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জাওয়ার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আখলাকুল ইসলাম অংকুরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থায়নে ভূমিহীনদের পূনর্বাসনের লক্ষ্যে  ২০১২ সালের শুরুতে উপজেলার জাওয়ার ইউনিয়নের বোরগাঁও গ্রামে প্রায় ৫একর ১নং খতিয়ানভূক্ত খাস জমির উপর সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে নিহারিকা আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। একই বছর নভেম্বর মাসের শেষ দিকে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে আশ্রয়ণ প্রকল্পটির ২৪টি শেডের ১২০টি কক্ষ ভূমিহীনদের মাঝে বরাদ্দ দেয়ার জন্য সেনাবাহিনী কর্তৃক স্থানীয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ভূমিহীনদের ঘর বরাদ্দ দেয়ার জন্য দরখাস্ত আহ্বান করেন। উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয় থেকে নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ করে ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর আবেদনের শেষ তারিখ পর্যন্ত ৫৫২জন আবেদন করেন। কিন’; উপজেলা কৃষি খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত কমিটি নীতিমালা লঙ্গন করে নিহারিকা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১২০টি কক্ষের মধ্যে অন্তত ৪০টি কক্ষ স্বচ্ছল ব্যক্তিদের নামে বরাদ্দ দিয়ে তালিকা তৈরি করেন। বাকী  ৮০টি কক্ষ বরাদ্দের নামেও ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠে। ওই তালিকা প্রকাশ পাওয়ার পর ভূমিহীনদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ হন এলাকাবাসীও। অভিযোগ উঠে, প্রতিটি কক্ষ বরাদ্দে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে ভূমিহীনদের বাদ দিয়ে এসব ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। এব্যাপারে এলাকাবাসী ও ভূমিহীনরা  স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ওই তালিকা অনুমোদন না করে তদন্তপূর্বক প্রকৃত ভূমিহীনদের নামে আবাসন প্রকল্পের কক্ষ বরাদ্দ দেয়ার জন্য আবেদন করেন। এরপর থেকেই এ আশ্রয়ণ প্রকল্পটির কক্ষ বরাদ্দের প্রক্রিয়া ঝুলে আছে। গত ৩ বছরেও এসব কক্ষ ভূমিহীনদের মাঝে বরাদ্দ দেয়া হয়নি। আর এ সুযোগে স্থানীয় কিছু স্বচ্ছল ব্যক্তি ও আশেপাশের এলাকার লোকজন আশ্রয়ণ প্রকল্পটির প্রায় ৮০টি কক্ষ দখল করে নিয়েছেন। এসব কক্ষে স্বচ্ছল লোকজন নিজে না থেকে গরু-ছাগল রেখে গোয়াল ঘর হিসাবে ব্যবহার করছেন। আবার কেউ কেউ হাঁসের খামার করে হাঁস পালন করে আসছিল।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৮:১৫ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ০৫, ২০১৬