| রাত ৩:৩০ - শুক্রবার - ২১শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ৭ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - ১৪ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

শেরপুরে আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন পৌরসভা নির্বাচনে প্রশাসনের কাজে হস্তক্ষেপ ও উন্নয়ন কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ কৃষিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে

শেরপুর প্রতিনিধি: ১ জানুয়ারি ২০১৬, শুক্রবার,

শেরপুর সদর পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার বিজয় ঠেকাতে প্রশাসনের কাজে হস্তক্ষেপ ও জেলা সদরের উন্নয়ন কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত করতে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। একইসঙ্গে এ ধরনের হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নিকট লিখিতভাবে অবহিত করা হবে বলে জানানো হয়। আজ ১ জানুয়ারী শুক্রবার শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় হুইপ ও শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আতিউর রহমান কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে উদ্দেশ করে বলেন, মতিয়া চৌধুরী সরকারের একজন সফল মন্ত্রী। তিনি বাইরে সৎ, কিন্ত ভেতরে ষড়যন্ত্রকারী। বারবার অনুরোধ জানানোর পরও তিনি শেরপুর সদরে আসেন না, কিন’ বাইরে থেকে নানা কলকাঠি নাড়েন। তাঁর বিমাতাসুলভ আচরণের কারণে শেরপুর জেলা সদর দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড থেকে বঞ্চিত রয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মতিয়া চৌধুরী নিরুৎসাহিত করায় শেরপুরে মেডিকেল কলেজ হয়নি। শুধু তাই নয়- শেরপুর শহর বাইপাস প্রকল্প, শেরপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি), শেরপুর কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল নামের প্রতিষ্ঠানগুলো শেরপুর জেলা সদরে না হয়ে নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলা সদরে হয়েছে। অধিকন্ত শেরপুরের অর্থনীতি কৃষি নির্ভর হলেও কৃষি মন্ত্রী হওয়ার কারণে তিনি (মতিয়া) কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনেক উন্নয়ন প্রকল্প থেকে শেরপুর সদরের নাম বাদ দিয়ে দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, গত বুধবার অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনের দিন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নৌকা প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট চন্দন কুমার পালের গাড়ি থেকে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ষ্টিকার খুলে নিয়েছে পুলিশ। জেলা আওয়ামী লীগের নেতা নাজিম উদ্দিনের বুকে পিসত্মল ঠেকিয়ে গুলি করার হুমকি দিয়েছে পুলিশ। দমদমা কালিগঞ্জ এলাকায় পুলিশ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। পুলিশকে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, তারা বলেন, উপরের নির্দেশ রয়েছে। উপরের এই নির্দেশদাতা কে জানতে চান হুইপ আতিউর। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ শেরপুরবাসী দীর্ঘ সাত বছর মতিয়া চৌধুরীর বিমাতাসুলভ আচরণ সহ্য করেছেন। কিন’ আর সহ্য করা হবে না। এতদিন এসব বিষয় উর্ধতন কর্তৃপড়্গের নিকট জানানো হয়নি। কিন’ এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তাই শেরপুরের উন্নয়নের স্বার্থে মতিয়া চৌধুরীর সকল কর্মকান্ড প্রধানমন্ত্রীর নিকট লিখিতভাবে জানানো হবে। সংবাদ সম্মেলনে শেরপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ী প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া অভিযোগ করে বলেন, নৌকার বিজয় ঠেকাতে জেলা প্রশাসন নগ্নভাবে হস্তক্ষেপ করেছেন। নির্বাচনের দিন বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাঁর (গোলাম কিবরিয়া) নির্বাচনী এজেন্টদের বের করে দেওয়াসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। কিন’ জনগণের পূর্ণ সমর্থন থাকায় প্রশাসনের বিমাতাসুলভ আচরণ সত্ত্বেও তিনি বিজয়ী হয়েছেন বলে জানান। সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার পাল ড়্গোভ প্রকাশ করে বলেন, শেরপুরে জেলা আওয়ামী লীগ অত্যনত্ম সুসংগঠিত। এই নেতৃত্বে ফাটল ধরানোর জন্য অনেকেই অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্র করেছেন। অনেক সময় মতিয়া চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করতে গেলেও তিনি দুর্ব্যবহার করে থাকেন। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা প্রশাসক এ এম পারভেজ রহিম বলেন, নির্বাচনে কারও প্রতি পক্ষপাতিত্ব বা বিমাতাসুলভ আচরণ প্রদর্শন করা হয়নি। শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত নির্দেশনাবলী যথাযথভাবে পালন করা হয়েছে। অপরদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ঢাকায় অবস্থানরত কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে এখন পর্যনত্ম আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কখনোই শেরপুরের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করেননি। শেরপুরের ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত সেতু থেকে শুরম্ন করে আলু হিমাগার নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডে তিনি প্রয়োজনীয় ভূমিকা রেখেছেন। ২০০৭ সালে জরম্নরি অবস’ার সময় ব্রহ্মপুত্র সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তৎকালিন স’ানীয় সংসদ সদস্য আতিউর রহমান আসেন নি। কিন’ ওই সময়ে গ্রেপ্তারের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি (মতিয়া) ঠিকই সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপসি’ত ছিলেন। ১৯৯১ সালে নির্মিত শেরপুর-ঢাকা মহাসড়কের ডিজাইন অনুযায়ী শহর বাইপাস প্রকল্প নকলা উপজেলা সদরের পাশ দিয়ে নির্মিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তিনি কোন ষড়যন্ত্রে বিশ্বাস করেন না। শেরপুর-১ (সদর) ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) এলাকা তাঁর নির্বাচনী এলাকার বাইরে। এখানে দুইজন দায়িত্ববান ও কর্মঠ সংসদ সদস্য রয়েছেন। তাই তাঁদের কোন কর্মকান্ডে হসত্মড়্গেপ করতে চান না বলেই তিনি শেরপুর সদরে যান না। সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. খোরশেদুজ্জামান, খন্দকার নজরম্নল ইসলাম ও মো. ফখরম্নল মজিদ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাশেম ও সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. বায়েজীদ হাসানসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্নসত্মরের নেতা-কর্মীরা উপসি’ত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৮:৩৪ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ০১, ২০১৬