| রাত ১:৩৫ - বৃহস্পতিবার - ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - ৬ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

করিমগঞ্জে আ.লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি হামলা, আহত ৭

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি, | ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫, বুধবার,
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পড়্গে অনত্মত ৭ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে গুরম্নতর আহত হাবিবুর রহমান হাবুলকে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস’্য কমপেস্নক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য ছয়জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বুধবার সকালে পৌর এলাকার আনন্দবাজারে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক বর্তমান মেয়র হাজি আব্দুল কাইয়ুমের জগ প্রতীকের সমর্থনে প্রচারণা চালানোর সময় কামাল মিয়া নামে এক কর্মীকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরম্নল ইসলাম চৌধুরী মামুনের সমর্থকরা মারপিটে আহত করে। এর জের ধরে দুপুরে পার্শ্ববর্তী নয়াকান্দি এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। এতে নয়াপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান হাবুল (২২), অর্জুন, নান্নু মিয়া, সাইফুল ইসলাম, সাইকুল ও তৌহিদ নামে ছয় আওয়ামী লীগ কর্মী আহত হয়। পাল্টাপাল্টি এ হামলার ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আনন্দবাজার ও আশপাশের র‌্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
করিমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক নাসিরম্নল ইসলাম খান আওলাদ জানান, পৌর এলাকার আনন্দবাজারে বুধবার সকালে আ.লীগ প্রার্থী কামরম্নল ইসলাম চৌধুরী মামুনের পড়্গে পূর্বনির্ধারিত গণসংযোগের কর্মসূচি ছিল। এতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বাবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবুল হাশেম চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা রম্নসত্মম আলী ও তিনি অংশ নিতে যান। এ সময় স্বতন্ত্রপ্রার্থী বর্তমান মেয়র হাজি আব্দুল কাইয়ুমের সমর্থক উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভাই আবুল কালাম, উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক জাহাঙ্গীর সিরাজী, টিপু হাজারিসহ কয়েকজন বাধা দেন। তখন দু’পড়্গ মুখোমুখি হলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স’ানীয়দের হসত্মড়্গেপে দু’পড়্গ ফিরে যায়। পরে বেলা ১২টার দিকে আওয়ামী লীগের ৮-১০জন কর্মী অটোরিকশা করে যাওয়ার সময় নয়াকান্দি এলাকায় হামলার শিকার হন। এ সময় ২০-২২জন যুবক লাঠিসোটা ও রামদা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে নয়াপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান হাবুল (২২) মারাত্মকভাবে আহত হন। তিনি ছাড়াও হামলায় অর্জুন, নান্নু মিয়া, সাইফুল ইসলাম, সাইকুল ও তৌহিদ নামে পাঁচজন কমবেশি আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আওলাদ জানান, এ হামলার বিষয়ে থানায় মামলার প্রস’তি নেওয়া হচ্ছে। তবে বিএনপি নেতা রফিকুর রহমান নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে জানান, তিনি ওইসময় আনন্দ বাজার ছিলেন না। ওই এলাকায় তখন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হাজি কাইয়ুমের সমর্থকদের প্রচারণার সময় নির্ধারিত ছিল। একই এলাকায় পাশাপাশি দুই প্রার্থীর পড়্গে সভার জের ধরে নৌকার লোকজন হামলা করে প্রতিপড়্গের কামাল মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে আহত করে। পরবর্তীতে নৌকার সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে তিনি শুনেছেন।
করিমগঞ্জের রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরম্নল আলম বলেন, আসলে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে একটি ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছিল। তবে উভয় পড়্গের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাটি মিটমাট করা হয়েছে। কোন প্রার্থীর পড়্গ থেকেই লিখিত কোন অভিযোগ করা হয়নি।
করিমগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কামরম্নল ইসলাম চৌধুরী মামুন ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র হাজি আব্দুল কাইয়ুম ছাড়াও বিএনপি প্রার্থী হিসেবে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হাজি আশরাফ হোসেন পাভেল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৭:৫৬ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ২৩, ২০১৫