| রাত ৩:৩০ - রবিবার - ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - ১৪ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

গৌরীপুর পৌরসভা নির্বাচন ভোটের জ্বরে কাপছেঁ পাড়া মহল্লা

সাজ্জাতুল ইসলাম সাজ্জাত, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ), ১৮ ডিসেম্বর ২০১৫, শুক্রবার,
“সৈয়দ রফিক ভাইয়ের দুই নয়ন পৌরসভার উন্নয়ন, রাখে আলস্নাহ মারে কে হবি ভাইকে ঠেকায় কে,” দিকেদিকে একি শুনি খালেদা জিয়ার ধানের শীষের জয়ধ্বনি” এই ধরনের শেস্নাগানে মুখরিত গৌরীপুর এলাকা। দুপুরের পর থেকে মাইকিংয়ের প্রচারনায় সরগরম হয়ে উঠেছে পৌর এলাকার পাড়া মহলস্নাগুলো। এছাড়াও প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা, শোডাউন, উঠান বৈঠক, জনসংযোগ সবই করছেন। পৌরসভা নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের প্রচার ততই জমে উঠছে। এখন রীতিমত ভোটজ্বরে আক্রানত্ম শহরের পাড়া মহলস্না আর মোড়ের বাজারগুলো। সবখানেই বাজছে ভোটের ‘গান’। নির্বাচনী এলাকার রাজপথ থেকে মেঠোপথ ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের সাদা-কালো বাহারি সাইজের পোস্টারে। যেন পোস্টারের মালায় ছেয়ে গেছে সবখানে। রাতের কুয়াশায় পোস্টার ঝরে পড়লেও সকালে আবারও ঝুলানো হচ্ছে পোস্টার। প্রার্থীরা নানা কৌশলে ভোটারদের কাছে তাদের উপস’াপনা করছেন, দিচ্ছেন প্রতিশ্রম্নতির ফুলঝুরি। চায়ের স্টল থেকে হাট-বাজার, অফিস আদালত সর্বত্রই নির্বাচনের আলাপচারিতা। যেখানে মানুষের বিচরণ সেখানেই ছুটে যাচ্ছেন প্রার্থীরা আর নিজের পক্ষে ভোট চাচ্ছেন।  তবে ভোটাররাও প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিচার বিশেস্নষণ করছেন।
এদিকে প্রার্থী সমর্থকদের হাতে হাতেও রয়েছে লিফলেট। সবাই ভোটের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নেমে পড়েছেন। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে না হতেই প্রার্থীর সমর্থকরা বেরিয়ে পড়ছেন সবখানে। শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে বাড়ি বাড়ি ভোট প্রার্থনা করছেন। সারাদিন ভোটের প্রচার শেষে রাতের বেলায় পরের দিনের কর্মপন’া নির্ধারণ করছেন কর্মী সমর্থকরা। সকাল হলেই চলছে চায়ের কাপে ভোট গল্পের ঝড়। প্রচার পাগল মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। কেউ কেউ নিজেদের প্রার্থীর প্রচার চালাতে নিচ্ছেন নানান রকমের কৌশল।
এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক পেয়েছেন বর্তমান মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণ করে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পাড়া মহলস্নায় কমিটি গঠন করে ঐক্যবদ্ধভাবে দলীয় প্রার্থীর পড়্গে প্রচারনা চালাচ্ছেন। আর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী খ্যাত সাবেক মেয়র শফিকুল ইসলাম হবি নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে বেশ জোরেশোড়েই প্রচারণায় মেনেছেন। দৃশ্যত দলীয় কোন নেতাকর্মীকে তার সাথে দেখা না গেলেও তিনি দাবী করেন সাধারণ ভোটারগণ এবার তার সাথে আছেন। জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। অপরদিকে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে পৌর যুবদলের আহবায়ক সুজিত কুমার দাস ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির দীর্ঘদিনের ভেদাভেদ ভেঙ্গে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। জোটগতভাবে তারা নির্বাচনী মাঠে কোমড় বেধেঁ নেমেছেন। নির্বাচনের শুরম্নর দিকে নিরব প্রচারনা চললেও ইতোমধ্যেই দলের কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচনী মাঠে জনসংযোগে আসাায় তৃণমুলের নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হয়ে উঠছেন। ২০ দলীয় জোটের একক প্রার্থী থাকায় পাকা ধানের পুরো ফসলই এবার তাদের গোলায় উঠবে বলে তারাও আশাবাদী। সুজিত কুমার দাস বলেন, হামলা-মামলার আশঙ্কায় শঙ্কিত দলের অনেক নেতাকর্মী।
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ম.নুরম্নল ইসলাম জানান, দলীয়ভাবে নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থীদের জয়যুক্ত করতে সমানে কাজ করছেন। কখনও মাঠে আবার কখনও দূর থেকে প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের উৎসাহ যোগাচ্ছেন। তিনি দলীয় প্রার্থীর ব্যাপারে জয়ের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচন তো নির্বাচনই। এটিকে ছোট করে দেখার কোনও সুযোগ নেই। তাই দলের প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। দলের সব নেতাকর্মীকে একসঙ্গে নিজেদের মধ্যে বিভেদ ভুলে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন স’ানীয় এমপি ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকির।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৬:৪৯ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ১৮, ২০১৫