| রাত ১০:১১ - রবিবার - ১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ - ২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - ৯ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

দেশ চালাচ্ছে ‘লেডি হিটলার’ শেখ হাসিনা

অনলাইন ডেস্ক, ২ নভেম্বর ২০১৫, সোমবার,

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘বাংলাদেশে এখন এক রাজতন্ত্র কায়েম হয়েছে। রাজতন্ত্রের জন্য আছেন একজন লেডি হিটলার। তিনি যা হুকুম দিচ্ছেন, নির্দেশ দিচ্ছেন তার সৈন্য-সামন্তরা অর্থাৎ প্রশাসন সেভাবে কাজ করছেন। সবকিছু তার কথামতো চলে।’  রোববার বিকেলে (লন্ডন সময়) লন্ডনের রিভারব্যাংক পার্ক হোটেল প্লাজায় যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তার পুত্র তারেক রহমান ও পুত্রবধূ জোবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। দেড় মাস লন্ডনে অবস্থানের পর খালেদা জিয়া এই প্রথম প্রকাশ্যে সভা করলেন। সংকট নিরসনে তিনি জাতীয় ঐক্যের কথাও বলেন।  খালেদা বলেন, ‘বাংলাদেশে আইনের শাসন বলতে কিছু নেই। দেশের আইনশৃখলা খুবই খারাপ। বাংলাদেশের মানুষ আজকে মোটেও ভালো নেই। মোটেও শান্তিতে নেই। জুলুম অত্যাচার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।’

আর এ সবকিছুর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল দায়ী উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘একজন লেডি হিটলারের নির্দেশমতো বাংলাদেশ চলছে।’   এমপি হওয়ার যোগ্যতা নেই এমন অনেককে মন্ত্রী করা হয়েছে জানিয়ে খালেদা বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে বেসামরিক প্রশাসনকে পুরোপুরি দলীয়করণ করে অনেক যোগ্য, মেধাবী কর্মকর্তাকে দায়িত্বের বাইরে রাখা হয়েছে।’

যুক্তরাজ্যে অবস্থানের সুবাদে প্রত্যক্ষ করা সেখানকার আইনশৃঙ্খলার প্রশংসা করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেড় মাসে অনেক কিছু দেখেছি, খুব ভালো লেগেছে। তাদের যে আইনশৃঙ্খলা এবং সুন্দর যেসব আইন আছে সেখান থেকে অনেক শেখার আছে। শুধু শেখার নয়, এসব আইন-কানুন বাংলাদেশে বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে।’ আবার কখনো বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসলে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে শিখে বাংলাদেশে ওইসব আইন-কানুন বাস্তবায়ন করা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।  দীর্ঘদিন পরিবার থেকে দূরে থাকার কথা নেতাকর্মীদের জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য এখানে এসেছি।’

তবে এখন দেশে ফিরতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বহুদিন পর পরিবারের সঙ্গে দেখা এবং তারা ছাড়তে চায় না। আরো থাকতে বলে। কিন্তু আপনারা প্রত্যেকে জানেন দেশের কী অবস্থা। আমার দেশে যাওয়া প্রয়োজন। সেজন্য আমাকে দেশে যেতে হবে।’

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বিবিসিকে দেওয়া শেখ হাসিনার এক সাক্ষাৎকার তুলে ধরে খালেদা বলেন, “তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বাংলাদেশে যাব রাজনীতি করার জন্য নয়, প্রতিশোধ নিতে’। তিনি দেশ গড়তে আসেননি। তিনি এসেছেন দেশ ধ্বংস করতে।” আওয়ামী লীগ ‘প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার রাজনীতি’ করে দাবি করে তিনি বলেন, এই প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার রাজনীতি বাদ দিতে হবে।

জঙ্গিবাদের উত্থানের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারকেই দায়ী করেন খালেদা বলেন, ‘জঙ্গি জঙ্গি হাসিনাই বলেছে, কীসের জন্য? বিদেশিদের ভয় দেখানোর জন্য। বোঝাতে চাইছে আমরা যদি চলে যাই, বিএনপি এলে জঙ্গিদের উত্থান হবে। কিন্তু দেখেন, জঙ্গিদের উত্থান কিন্তু আওয়ামী লীগের সময় হয়েছে। তারা একটা জঙ্গিকে ধরেনি। আমরা এসে সব জঙ্গিকে ধরেছি।’

বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করে বিএনপিকে চাইছে দাবি করে দশম সংসদ নির্বাচনের আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তার দলের প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার কথা বলেন খালেদা।  বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আন্দোলন ঢাকায় সেভাবে করা সম্ভব হয়নি। ঢাকা শহরে বের হলেই গুলি করে দেয়। তবে সারাদেশে যে কী আন্দোলন হয়েছে, স্বাধীনতার সময়, মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তা হয়নি। আন্দোলন দমাতে পুলিশ গাড়ি পুড়িয়ে সেই দায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর চাপিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গত সাত বছরে বিএনপির তিন হাজার নেতাকর্মীকে খুন, এক হাজার ২০০ জনকে গুম, এক হাজার ১২ জনকে ক্রসফায়ার দেওয়া হয়েছে।’ র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘কত মানুষকে বেনজীর মেরেছে তার হিসাব নেই।’

বিএনপি ভাঙার জন্যও সরকার চেষ্টা করছে জানিয়ে খালেদা বলেন, ‘বহু চেষ্টা করেছে, কিন্তু পারেনি। বিএনপিকে ভাঙা যাবে না। সত্যি কথাই বলি, এরশাদ তেমন করেনি। ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দীনও কম করেনি।’

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিটি করপোরেশনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, প্রমুখ।  এদিকে, খালেদা জিয়ার এই সভা চলাকালে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের একদল নেতাকর্মী হোটেলের বাইরে বিক্ষোভ করেন। সমাবেশস্থলের বাইরে পুলিশ উপস্থিত ছিল।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০:৩০ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ০২, ২০১৫