| সকাল ৮:১৩ - বৃহস্পতিবার - ১৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ - ৩রা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - ১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

কিশোরগঞ্জে স্কুলগেটে ছাত্রীকে কুপিয়ে জখম বখাটে তৌহিদ গ্রেফতার

সিম্মী আহাম্মেদ, কিশোরগঞ্জ, ২০ অক্টোবর ২০১৫, মঙ্গলবার,
বখাটের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় কিশোরগঞ্জে স্কুলগেটে দশম শ্রেণীর ছাত্রীকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনার মূল অভিযুক্ত বখাটে তৌহিদ (২০) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল পৌনে দশটার দিকে পাকুন্দিয়া উপজেলার কুমড়ীগ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। বখাটে তৌহিদকে আটকের পর দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রম্নমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। ব্রিফিংয়ে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান জানান, স্কুলছাত্রীকে খুন করার উদ্দেশ্যে তৌহিদ ধারালো বটিদা দিয়ে স্মৃতি আক্তারের মাথার বামপাশে তিনটি, বাম ঘাড়ে দুইটি, বাম কাঁধে একটি এবং ঘাড়ের পেছনে একটি কুপ দিয়ে মারাত্মক কাটা জখম করে। ঘটনার পর পরই পুলিশ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে আহুতিয়া তদনত্ম কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মতিউর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পাকুন্দিয়ার কুমড়ীগ্রামে অভিযান চালিয়ে সেখানে আত্মগোপনে থাকা মূল অভিযুক্ত তৌহিদকে আটক করে। এছাড়া ঘটনার দিনই মামুন (২৪) নামে বখাটে তৌহিদের এক সহযোগীকে আটক করা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এসএম মোসত্মাইন হোসেন, কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেনসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপসি’ত ছিলেন। এদিকে বখাটে তৌহিদের গ্রেফতারের খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের শিড়্গার্থীরা দৃষ্টানত্মমূলক শাসিত্মর দাবি জানিয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বিড়্গোভ করেছে। দুপুরে বিদ্যালয় থেকে মিছিল নিয়ে অনত্মত ১০ কিলোমিটার রাসত্মা অতিক্রম করে তারা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে এসে বিক্ষোভ করে। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বখাটে তৌহিদের ফাঁসি চেয়ে বিভিন্ন শেস্নাগান দেয়। এর আগে ঘটনার পর পরই রোববার সকালে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় এলাকাবাসী কিশোরগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এছাড়া সোমবার বিদ্যালয়ের সামনে কিশোরগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়কের পাশে প্রায় দুই ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচীতে শিক্ষক-শিক্ষর্থীসহ স্থানীয় বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী অংশ নেন।
সন্ত্রাসী হামলার শিকার স্মৃতি আক্তার কটিয়াদী উপজেলার কুড়িয়াপাড়া গ্রামের মৃত হেলাল উদ্দিনের মেয়ে। ৮/৯ বছর আগে পিতা হেলাল উদ্দিন মারা যাওয়ার পর থেকে স্মৃতি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত পণকলিমা গ্রামের নানার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করতো। তার মা কিরণ আক্তার ঢাকায় গার্মেন্টে কাজ করে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় স্মৃতি পড়াশোনায় ভালো হওয়ায় দিনমজুর মামা আবদুল কাইয়ুমের বাড়িতে থেকে নান্দলা অছম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো। নবম শ্রেণীতে পড়ার সময়ে তার ওপর কুনজর পড়ে পণকলিমা গ্রামের অটোচালক হুমায়ুন মিয়ার বখাটে ছেলে তৌহিদের। এরপর থেকে প্রায় নিয়মিত তৌহিদ নানাভাবে স্মৃতিকে উত্যক্ত করত। এ নিয়ে একবার শালিসে তৌহিদের বিচার হলেও সে নিবৃত্ত হয়নি। এ ব্যাপারে তৌহিদের বাবা হুমায়ুন মিয়া ও মা ঝরণা আক্তার বখাটে ছেলেকে কোন শাসন না করে উল্টো খুন জখমের হুমকি দিতো। এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষা শুরুর দিন রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে স্মৃতি স্কুলের গেটের সামনে পৌঁছা মাত্রই আগে থেকে ওত পেতে থাকা তৌহিদ ও তার তিন সহযোগী স্মৃতির ওপর হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরম্নতর আহত করে। মুমূর্ষু স্মৃতিকে প্রথমে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্মৃতির অবস্থা বর্তমানে সি’তিশীল রয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন জানান, এ ব্যাপারে স্কুলছাত্রীর মামা মো. কাইয়ুম মিয়া বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ১০/৩০ ধারাসহ পেনাল কোডের ১৪৩/৩৪১/৩২৬/৩০৭/৫০৬/৩৪ ধারায় মামলা করেছেন। মামলায় বখাটে তৌহিদ, তার তিন সহযোগী সাইকুল, মামুন ও সাদ্দাম এবং তৌহিদের বাবা হুমায়ুন মিয়া ও মা ঝরণা আক্তার এই ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার দিনই ঘটনাস’ল থেকে আলামত হিসেবে ধারালো বটিদাটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। খুনের পরিকল্পনা থেকে তৌহিদ ঘটনার আগের দিন শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকালে গাজীপুরের কোনাপাড়ার একটি দোকান থেকে ৩০০ টাকায় ধারালো বটিদাটি কিনে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৭:০৮ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২০, ২০১৫